ছেলের চিকিৎসার দাবিতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত বাবার !

ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসার হুমকি দিয়েছেন বাবা।

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Mar 16, 2017 12:37 PM IST
ছেলের চিকিৎসার দাবিতে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত বাবার !
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Mar 16, 2017 12:37 PM IST

#কলকাতা: ছেলে ঠিক করে রং চিনতে পারে না। মাঝে মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তার স্কুলে যাওয়াও কার্যত শিকেয় উঠেছে। আর পাঁচটা শিশুর মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না তার ছেলে। ছেলের এই পরিণতির জন্য কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতিকেই দায়ী করেন পেশায় ট্যাক্সি চালক রামরতন দে।

বছরখানেক আগে রামপুরহাটের ওই ঘটনা সামনে আসার পরে তাঁর ছেলের চিকিৎসার ভার নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল স্বাস্থ্য ভবন। কিন্তু, তার পরে বছর ঘুরলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৎপর হওয়ায় ফের আশায় বুক বেঁধেছেন রামরতনবাবু। শেষমেশ গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে নবান্নে ফ্যাক্স পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

অভিযুক্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে সরকার অবিলম্বে ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসার হুমকিও তিনি দিয়েছেন। কী হয়েছিল ছেলের ? রামপুরহাট থানার রামরামপুর গ্রামের বাসিন্দা রামরতনবাবু জানান তার একমাত্র ছেলে রণজিৎ ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ির ছাদ থেকে নীচে পড়ে মাথায় গুরুতর চোট পায়। তখন রণজিতের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। চিকিৎসার জন্য কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আশিস ভট্টাচার্য অপারেশন করেন। রামরতনবাবু বলেন, ‘‘ডাক্তার ছেলের মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখেন। সাত মাস পরে ওই অংশ জোড়া হবে বলে জানান। সেপ্টেম্বরে ছেলেকে ভর্তি করি। অপারেশনের তিন লক্ষেরও বেশি টাকার বিলও মেটাই।’’

রামরতনবাবুর দাবি, টাকা নেওয়া হলেও কিছু দিন পরেই তাঁরা বুঝতে পারেন, ওই খুলির অংশটি আদৌ ছেলের মাথায় জোড়া হয়নি। মাথার অংশটি এখনও ফাঁকাই রয়ে গিয়েছে। রামরতনবাবুর ক্ষোভ, ‘‘এ ব্যাপারে হাসপাতালে গিয়ে প্রশ্ন করলে ওঁরা কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকী, ছেলের মাথার খুলির ওই অংশটি কোথায় গেল, তার খোঁজও হাসপাতাল দিতে পারেনি।’’ প্রতিকার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি নির্মল মাঝিকে চিঠি লেখেন ওই ট্যাক্সি চালক। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই শিশুর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি তলব করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঝে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রী রণজিতের চিকিৎসার ভার নিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি তার পর থেকে প্রশাসনের কর্তাদের ধীর্ঘদিন ধরে জানাচ্ছি । কিন্তু, ছেলের চিকিৎসা আর হয়নি।

First published: 12:37:12 PM Mar 16, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर