corona virus btn
corona virus btn
Loading

আমফানে কেড়ে নিয়েছে খুশির ইদ! বাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়াতে এখন ভরসা উঠোন থেকেই নমাজ পাঠ

আমফানে কেড়ে নিয়েছে খুশির ইদ! বাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়াতে এখন ভরসা উঠোন থেকেই নমাজ পাঠ

প্রতি বছরই ইদের দিন নতুন জামা পরে মসজিদে নমাজ পড়তে যায় বছর কুড়ির এর যুবক। হাড়োয়া মোড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই যুবক বলছিল "ঝড়ে বাড়ি ঘর সব চলে গেল। ইদে কেনা নতুন জামাটাও চলে গেল

  • Share this:

#কলকাতা: আমফান কেড়ে নিল তাদের খুশির ইদকেও।গত সপ্তাহের সোমবার পর্যন্ত তারা জানত বাড়ি থেকেই নমাজ পাঠ করে খুশির ঈদ পালন করবেন।কিন্তু আমফান যে সেই সুযোগটাও তাদের কেড়ে নিচ্ছে সেটা টেরও পাননি হাড়োয়া এর গ্রামবাসীরা। টের না পেলেও কী হবে,আমফান এবার তাদের থেকে খুশির ইদ পালনের সুযোগটাও কেড়ে নিয়েছে।গত বুধবারের ঘূর্ণিঝড় তাদের মাথার উপর থেকে ছাদ কেড়ে নিয়েছে। এমনই অবস্থা তাদের এখন থাকার জায়গাটাও নেই।আর তাই বাড়ির বদলে এখন পাড়ার মাঠ বা বাড়ির উঠোন থেকেই খোলা আকাশের নীচে ইদের নমাজ পাঠ করতে হবে বাসিন্দাদের।অন্তত এমনটাই বলছেন হাড়োয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দারা।

তারা আয়লা,বুলবুল,ফনী একাধিক ঝড় দেখেছেন।ক্ষতিও হয়েছে।কিন্তু আমফান সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে।অন্তত এমনটাই বলছেন এখানকার বাসিন্দারা। রবিবার জাতীয় সড়ক ধরে বসিরহাট যেতে যেতে নজরে পড়লো একাধিক গাছ যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।লাইট পোস্ট গুলো এমন ভাবে পড়ে আছে যেন মনে হবে কেউ টান দিয়ে ফেলে দিয়েছে।বেড়াচাপা পার হতেই হাড়োয়া রোড ধরতেই সেই ছবি যেন আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিতে থাকল। একের পর এক গাছ বাড়ির উপর পরে আছে।গাড়ি থামিয়ে এক জায়গাতে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম তারা নাকি ঝড়ের দিনে বাড়িতেই ছিলেন।ঝড়ের গতি যখন বাড়তে শুরু করেছে তখন কেউ খাটের তলাতে আবার কেউ দৌড়ে গিয়ে পাশের কোনও পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।কিন্তু অনেকের মাথার উপর আবার টিন, টালিও এসে পড়েছে।কোনওক্রমে নিজেদের প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়েছিলেন বাড়ি থেকে।কথা বলতে বলতে জানলাম ভাগ্যিস বেরিয়েছিলেন না হলে আজ আর প্রাণটাই থাকতো না।

তারপর যতই হাড়োয়ার ভিতরের দিকে এগোতে থাকলাম ততই যেন ধ্বংসের ছবি।একের পর এক গ্রাম তছনছ হয় গেছে।বাকি নেই কিছুই।সকাল ১০ টা পর বাজার বসেছে।কিন্তু সেই বাজারেও কার্যত ছন্দপতন।খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম রবিবার এর ইদের বাজার কার্যত ফাঁকাই।কারণটা অবশ্যই আমফান। প্রত্যেক বছর এক সপ্তাহ আগে থেকেই বাজারে ভিড় হয়।শুধু তাই নয় ইদের আগের দিন তো বাজারে দাঁড়ানোর জায়গা পর্যন্ত থাকে না।কিন্তু এবার পুরোটাই উলটপুরাণ হয় গিয়েছে।এক ব্যবসায়ী বলছিলেন "কী করব আর।আমফান তো সব কেড়েই নিল।বাড়িতে কিছুই নেই।ভাবলাম ইদের ব্যবসা করে কিছু রোজগার হবে।কিন্তু যারা কিনতে আসবে তাদেরই তো বাড়ি চলে গেছে। তারাই কিনবে কী করে?"

ইদের বাজারে ভাঁটার পাশাপাশি গ্রামগুলোতেও ইদ পালনের ছন্দপতন হয়ছে।এমনিতেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও তার জেরে চলা লকডাউনের কারণে এবার মসজিদ নয় বরং বাড়ি থেকেই নমাজ পাঠ করতে হবে।কিন্তু তার উপায় নেই হাড়োয়ার এই গ্রামগুলোতে। আনন্দ তো দূরের কথা, কী ভাবে এখন ভাঙা বাড়ি ফের তৈরি করবে সেটা নিয়েই চিন্তিত গ্রামবাসীরা।এক গ্রামবাসীরা কথায়, "বুধবার যে ভাবে ঝড়ের তান্ডব ছিল তা আমরা কোনওদিনই দেখিনি।২ ঘণ্টার ঝড় আমাদের সব কিছু নিয়ে নিয়েছে। সোমবারের খুশির ইদ আমাদের কাছে এখন কষ্টের।ফল কেনার টাকাটুকু নেই। তাই এখন আমাদের কাছে ইদের চেয়ে বাঁচার চ্যালেঞ্জটাই বেশি।"প্রতি বছরই ইদের দিন নতুন জামা পরে মসজিদে নমাজ পড়তে যায় বছর কুড়ির এর যুবক। হাড়োয়া মোড়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই যুবক বলছিল "ঝড়ে বাড়ি ঘর সব চলে গেল। ইদে কেনা নতুন জামাটাও চলে গেল।কী করবো সোমবার তা জানি না।"

হাড়োয়া থেকে সোমরাজ বন্দোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: May 24, 2020, 9:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर