ক্ষতিপূরণ চাই না, ওই টাকায় এমন দুর্ঘটনা বন্ধ করুক সরকার, আর্জি ঋষভের পরিবারের

নিত ঋষভ মণ্ডল (বাঁদিকে)৷ এসএসকেএম-এ অপেক্ষারত নিহত তরুণের পরিবার৷

ঋষভের মৃত্যু নিয়ে তাঁরা কোনও আইনি পদক্ষেপ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবার৷

  • Share this:

#কলকাতা: দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ বাবা মায়ের একমাত্র ভরসা ছিলেন ২৫ বছরের যুবকই৷ মাত্র ২৫ বছর বয়সেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগ দিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণের দিকে এগোচ্ছিলেন ফরাক্কার ঋষভ মণ্ডল৷ কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধেবেলার দুর্ঘটনায় সব স্বপ্নের অবসান৷ রাস্তার জমে থাকা জলের মধ্যে পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ঋষভের৷ কলকাতায় ঋষভের দেহ নিতে এসে তাঁর পরিবার এবং পরিচিতদের একটাই প্রশ্ন, এই দুর্ঘটনার দায় কার?

ফরাক্কার বাসিন্দা ঋষভের মৃত্যুর পরই কলকাতা পুরসভার তরফে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়৷ যদিও মৃতের জামাইবাবু কেশবচন্দ্র পালিত এ দিন স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ নিতে চান না৷ বরং এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সরকার তা নিশ্চিত করতে যাতে ওই টাকা খরচ করে, সেই প্রস্তাবও দিয়েছেন ঋষভের জামাইবাবু৷ একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ ঋষভের দিদি বিজেতা মণ্ডল পালিত বলেন, 'আমরা কি আশা করেছিলাম সরকারের এই গাফিলতির জন্য আমার ভাইয়ের আজকে এই অবস্থা হবে? সরকার টাকা দিয়ে ভুলোতে চাইছে৷ আমি সরকারকে দশগুন টাকা দিচ্ছি, সরকার আমার ভাইকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? '

ফরাক্কার এনটিপিসি-র নবারুণ এলাকার বাড়িতে ছেলের মৃতদেহের অপেক্ষায় ঋষভের বৃদ্ধ বাবা-মা৷ মঙ্গলবার দুুপুরেও ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ঋষভ৷ তার পর রাতেই বাড়িতে পৌঁছয় এই ভয়ঙ্কর দুঃসংবাদ৷ ঋষভের জামাইবাবু সহ কয়েকজন পরিচিত এ দিন দেহ নিতে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন৷ সেখানেই অপেক্ষারত ঋষভের জামাইবাবু অসহায় ভাবে প্রশ্ন করেন, 'ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী করব বলুন তো? বাড়ির একমাত্র ছেলের এই পরিণতির দায় কার? কীভাবে ওঁর দেহ নিয়ে বাবা-মায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়াব সেটাই তো ভাবতে পারছি না৷' ঋষভের জামাইবাবুর আরও প্রশ্ন, ঝড়বৃষ্টির সময় কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়নি?

ঋষভের মৃত্যু নিয়ে তাঁরা কোনও আইনি পদক্ষেপ করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারও৷ দেহ নিয়ে ফরাক্কায় ফেরার পরই হয়তো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা৷ পুলিশের তরফেও জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে৷

জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা কলকাতায় নতুন নয়৷ তবু অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া হয় না৷ পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও এ দিন স্বীকার করেছেন, বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে যুক্তদের কঠোর শাস্তি না দিলে এমন দুর্ঘটনা রোখা যাবে না৷ এ বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গেও কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷ ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রীও৷ কিন্তু এ সবকিছু করতেই ফের অনেকটা দেরি হয়ে গেল৷ বেঘোরে চলে গেল আরও একটি প্রাণ৷ কলকাতায় চাকরি করতে এসে বিনা দোষেই প্রাণ হারালেন তরতাজা ঋষভ৷

Biswajit Saha/ Pranab Kumar Banerjee

Published by:Debamoy Ghosh
First published: