নকল কালো জিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার, কিভাবে বুঝবেন জিরের আসল-নকল?

নকল কালো জিরে ছেয়ে গিয়েছে বাজার, কিভাবে বুঝবেন জিরের আসল-নকল?
Black cumin is good for health

পোড়া মবিল দিয়ে কালো করা ,কালো জিরে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।আর সেই কালো জিরে নদীয়া থেকে তৈরি হতে এসে মজুত হচ্ছে কলকাতার ,পোস্তা বাজারে?

  • Share this:

Sanku Satra #কলকাতা:  সোনা যদি দেখতে চকচকে হয় ,তাহলে নাকি সেই সোনা খাঁটি হয়। এই বিশ্বাসে আমরা মানুষরা চলেছি। দোকানে গেলে  চকচকে জিনিসটি  আমাদের বেশি আকর্ষণ করে। বাঙালিরা ঝোলে, ঝালে, টকে কালোজিরা খেতে পছন্দ করেন। তাই কালোজিরা যদি কুচকুচে কালো না হয় ,তাহলে নাকি মানুষ কিনতে চান না। তাই খরিদ্দারদের দিকে তাকিয়েই ব্যবসায়ীরা সুন্দর ব্যবস্থা করলেন! বাজারে নিয়ে চলে এলেন কুচকুচে কালো,' কালো জিরে'। আপনি কি জানেন, এই যে কলোজিরে খাচ্ছেন সেটি আদতে কি? কলকাতা শহরে কালো জিরে আসে নদীয়া তেহট্ট, চাপড়া এইসব এলাকা থেকে। বলা চলে এইসব এলাকাতে কালোজিরে প্রস্তুত হয়।

কি ভাবে তৈরি হয় নকল জিরে? এখানকার বেশ কিছু অসাধু মানুষ,পুকুরের কালো পাক তুলে সে গুলোকে রোদে শুকিয়ে ,ছেকনি জালের মধ্যে দিয়ে ছেঁকে কালোজিরার মতো ছোট্ট দানায় পরিণত করে।তারপর সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাটির দানা এবং কালোজিরে একসঙ্গে দিয়ে পোড়া মবিল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে কুচকুচে কালো বর্ণের করে। তারপর সে গুলোকে শুকনো করে লরি ভর্তি করে কলকাতার বড় বাজারে পাঠায়। আর ওখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে সারা পশ্চিমবাংলায়। এর আগেও এই চক্র নিয়ে পুলিশি অভিযান হয়েছে নদীয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, কিন্তু এখনো চলছে। বড় বাজারের পোস্তা মার্কেটে গিয়ে আমরা এইরকম দোকান খুঁজে পেলাম ।যেখানে পোড়া মবিল দিয়ে তৈরি কুচকুচে কালো করা জিরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানদার বললেন,এই কালো জিরে বিক্রি করলে পাইকারী হিসাবে কেজিতে 5 থেকে 6 টাকা বেশি লাভ হয়। আর কুচকুচে কালো জিরে না হলে বিক্রি কমে যায়। তাই তিনি বাধ্য হয়েই এই কালোজিরা বিক্রি করছেন। এই কালো জিরার প্রস্তুত মূল্য প্রতি কেজি হিসাবে ৪০ টাকা মত পড়ে নদিয়াতে।কলকাতার পাইকারী ব্যবসায়ীরা কেনে ৭৫ টাকা করে।পাইকারী বিক্রি করে ১১০ টাকা কেজি ।কলকাতা বড়বাজারে বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বরাত দিয়ে, তৈরি করে নিয়ে আসে কলকাতাতে।তার পর বড় বাজারে সেই কালো জিরে মজুত করে বিক্রি করে।এই ধরনের অসাধু ব্যবসা চলছে বহু বছর ধরে।কিন্তু প্রশাসনিক উদাসীনতার জন্যই আজও বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রক্রিয়া করন দপ্তরের অধ্যাপক গবেষক ডক্টর প্রশান্ত বিশ্বাসের কথাঅনুযায়ী ' যদি পোড়া মোবিল ব্যবহার করা হয়ে থাকে,তাহলে মানব দেহে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হবে।এতে যেমন মানুষের পাক যন্ত্রে ক্ষতি হবে ,সঙ্গে ক্যানসারের মত মারণ রোগও হতে পারে। এই বিষয়ে সরকারের এক্ষুনি নজর দেওয়া উচিত।' পুলিশের সঙ্গে কথা বললে ,তাদের দাবি ,কোনো খবর নেই তাদের কাছে।যদি খবর আসে তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

First published: December 20, 2019, 12:15 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर