শুধুই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ নাকি অন্য অঙ্ক, নন্দীগ্রামকে কেন বাছলেন মমতা?

শুধুই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ নাকি অন্য অঙ্ক, নন্দীগ্রামকে কেন বাছলেন মমতা?

  • Share this:

    #কলকাতা: রাজনীতির অঙ্ক কষেই ঘোষণা নাকি নিছক আবেগের বশেই বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নন্দীগ্রামে তাঁর প্রার্থী হওয়ার আচমকা সিদ্ধান্ত ঘোষণার মধ্যে দু'টি সম্ভাবনাই দেখতে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ মমতার সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল, তা হয়তো বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলবে৷ কিন্তু একটি বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একমত, চ্যালেঞ্জ ছোড়ার সাহস দেখালেও আসলে শুভেন্দুকে অনেকটাই গুরুত্ব দিয়ে ফেললেন তৃণমূলনেত্রী৷

    ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর এই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন মমতা৷ পাঁচ বছর পর সেই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে নিজেকেই সেখানকার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেন মমতা৷ রাজনৈতিক মহল অবশ্য মনে করছে, শুধুই শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া নয়, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আরও বেশ কিছু অঙ্ক অবশ্যই রয়েছে৷

    তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারও কারওমনে হয়েছে, মমতার এ দিনের সিদ্ধান্তের পিছনে অনেকটাই আবেগ কাজ করেছে৷ যা বিরোধী নেত্রী হিসেবে তাঁর মধ্যে হামেশাই দেখা যেত৷ আবেগতাড়িত সেই সব সিদ্ধান্ত মমতার রাজনৈতিক কেরিয়ারে ডিভিডেন্ডও দিয়েছে৷ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশনের অধ্যাপক সম্বিৎ পালের কথায়, 'আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্যে কিছুটাও হলেও আবেগ কাজ করেছ তা পরিষ্কার৷ কারণ নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে হোক বা ভবানীপুরে দাঁড়াবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে গিয়ে প্রাথমিক ভাবে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত লেগেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ ফলে এই সিদ্ধান্ত হয়তো আগে থেকে নেওয়া ছিল না৷' নন্দীগ্রাম শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক৷২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসার অন্যতম আঁতুড়ঘর নন্দীগ্রাম আগামী নির্বাচনে তৃণমূল- বিজেপি-র প্রেস্টিজ ফাইট হতে চলেছে৷ শুভেন্দু অধিকারীর মতো জনপ্রিয় মুখ দল ছাড়ায় পূর্ব মেদিনীপুর তো বটেই, গোটা রাজ্যেই দলীয় সমর্থকরা কিছুটা মুষড়ে পড়েছেন৷ রাজ্যে তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছেন, বাংলায় এসে বার বার সেই বার্তাই দিচ্ছেন অমিত শাহ, জে পি নাড্ডারা৷ এই পরিস্থিতিতে তাঁর এই একটি সিদ্ধান্ত দলের নেতা, কর্মীদের নিঃসন্দেহে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার রসদ জোগাবে৷


    তবে নন্দীগ্রামকে বেছে নেওয়ার পিছনে সংখ্যালঘু ভোট যে একটা বড় ফ্যাক্টর, তাও অস্বীকার করার উপায় নেই৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর কথায়, 'এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নন্দীগ্রামে প্রায় ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে৷ তাঁরা এতদিন তৃণমূলের সঙ্গে ছিলেন৷ লোকসভা ভোটের ফল দেখিয়েছে, ভবানীপুরে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল৷ ফলে সংখ্যালঘু সমর্থন পেলে নন্দীগ্রাম থেকে জয় সহজ হতে পারে মমতার৷ আবার শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি-কেও চাপে ফেলা গেল৷' বিশ্বনাথবাবু আরও বলছেন, দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে ৩৫টি আসনই জেতার চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন শুভেন্দু৷ তা আটকাতে গেলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে এগিয়ে আসতেই হত৷

    নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লক মিলিয়ে নন্দীগ্রাম বিধানসভা৷ পরিসংখ্যান বলছে, এই বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৩ শতাংশের কিছু বেশি৷

    তবে শুভেন্দু অধিকারীকে চাপে ফেলতে গিয়ে যে তাঁকে কিছুটা গুরুত্বও দিয়ে ফেললেন মমতা, তা অস্বীকার করার উপায় নেই৷ কারণ এতদিন মদন মিত্রর মতো নেতারাও শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হুঙ্কার ছেড়েছেন৷ সেখানে নন্দীগ্রামে নিজেই মাঠে নামছেন মমতা৷ অধ্যাপক সম্বিৎ পাল ব্যাখ্যা, 'মমতার এই ঘোষণার পর নন্দীগ্রাম নিয়ে শুভেন্দুকে আরও বেশি করে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে৷ এটা সচেতন ভাবে মমতার কৌশল হতে পারে৷ তবে মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়ে শুভেন্দুকে নিঃসন্দেহে গুরুত্ব দিয়ে ফেললেন৷ যেটা এতদিন তিনি বা তৃণমূল নেতারা এতদিন মুখে স্বীকার করছিলেন না৷' এই বিষয়ে অনেকটাই একমত অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তীও৷ তিনি বলেন, 'নন্দীগ্রামে মমতার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই হলে তা শুভেন্দুর সামনে বড় সুযোগও এনে দেবে৷ কারণ যদি কোনওভাবে তিনি মমতাকে হারাতে পারেন এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, সেক্ষেত্রে বিজেপি-তে অন্যরকম গুরুত্ব পাবেন শুভেন্দু৷ এমন কি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদেরও দাবিদার হয়ে উঠবেন৷'

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর