#EXCLUSIVE: আমি চাইনা সরাসরি মহিলাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হোক : শঙ্কর রায়চৌধুরী

#EXCLUSIVE: আমি চাইনা সরাসরি মহিলাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হোক : শঙ্কর রায়চৌধুরী

মুখোমুখি প্রাক্তন সেনাপ্রধান শঙ্কর রায় চৌধুরী

  • Share this:

#কলকাতা: সেনাবাহিনীতে লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানালেন ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী। বললেন, ' মহিলারা বর্তমানে পুরুষদের মনোবলের নিরিখে কোন অংশে পিছিয়ে নেই।  তাই সেনাবাহিনীতে মহিলাদের স্থায়ী কমিশন পদে নিয়োগ বর্তমান সময়ে যথাযথ বলে মনে করি।'

নিউজ এইট্টিন বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান বলেন, ' আমি চাইনা সরাসরি মহিলাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হোক।' তবে বৈষম্যের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে জেনারেল রায়চৌধুরীর কথায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতে , 'এখন বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ভারতের ছায়াযুদ্ধ চলছে । তারা কেউ-ই কোনও নিয়ম-নীতির পরোয়া করছে না। তাই ওদের হাতে যদি আমাদের দেশের মহিলারা বন্দি হয়ে যান তাহলে অত্যাচার চরম আকার নেবে। সেই কারণেই আমার মত সেনাবাহিনীর অন্যান্য পদের শীর্ষে মহিলারা থাক। কিন্তু সরাসরি শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধে মহিলাদের ব্যবহার না করাটাই ভাল!'

সাক্ষাৎকারে শঙ্কর রায় চৌধুরী আরও বলেন, 'সেনাবাহিনীতে স্বামী-স্ত্রী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে এমন উদাহরণও আছে ।' তবে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু যে শত্রুই হয়, সে কথা জানিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান বললেন, ' আমি যখন সেনাপ্রধান ছিলাম তখন মহিলাদের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার আপত্তি ছিল। মূলত, মহিলাদের নিরাপত্তা ,সুরক্ষা এবং সর্বোপরি সম্মানহানির  প্রশ্নে।' শীর্ষ আদালতের রায়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান শঙ্কর বাবুর বক্তব্য , ' এয়ারফোর্স ,নেভির পাশাপাশি সেনাবাহিনীতেও মহিলাদের ক্ষেত্রে এবার এই রায় নতুন যুগের সূচনা করল।' তবে শত্রু পক্ষের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে মহিলাদের সরাসরি লড়াইয়ের ময়দানে নামা যে না-পসন্দ তাঁর,  সে কথা ফের একবার জানিয়ে বললেন, ' সরকারের ওপরই এখন গোটা বিষয়টি নির্ভর করছে  কবে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের আশা, সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে কেন্দ্রীয় সরকার মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সদর্থক ভূমিকা নেবে " ।

অন্যদিকে নবম গোর্খা রাইফেলসের অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার কার্তিক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় । যিনি কে কে গঙ্গোপাধ্যায় নামে পরিচিত। এই দুঁদে প্রাক্তন সেনা অফিসার সোমবারের রায়কে স্বাগত জানালেও যুদ্ধক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ করা প্রসঙ্গে রীতিমত চিন্তিত। প্রাক্তন সেনাপ্রধান শঙ্কর রায়চৌধুরীর সঙ্গে একমত হয়ে এই প্রতিবেদককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল কে কে গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,  যুদ্ধক্ষেত্রে পদাতিক বাহিনীর সদস্যদের কার্যত একা একা লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হয়। তাই সেক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের কাছে যদি বন্দি হয়ে পড়েন কোনও মহিলা, তাহলে দুর্গতির শেষ থাকবে না। শারীরিক নির্মম অত্যাচার তো হবেই,  মহিলাদের যৌন অত্যাচারেরও সম্মুখীন হতে হবে বলে তাঁর আশঙ্কা। সেনাবাহিনীতে থাকা মহিলাদের সাহস,  মনোবল, শক্তি - সবই আছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিষয়ে পুরুষদের সঙ্গে কোনও অংশে কম যাবেন না মহিলারাও। তবে শত্রু পক্ষের কাছে যদি কোন মহিলা পাকড়াও তথা বন্দি হয়ে পড়েন তাহলে নৃশংস অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হবে মহিলাদের । পাশাপাশি ভারতবাসীর পক্ষেও তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বলে মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার   কে কে গঙ্গোপাধ্যায়।

বিগত দিনে বহু যুদ্ধ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেকে গঙ্গোপাধ্যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর এই আশঙ্কা। তাঁর মতে, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার বিষয়টি বর্তমানে নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং যুগান্তকারী। তবে সেনাবাহিনীতে অন্য যে কোনও বিভাগে মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও পদাতিক বাহিনী  বা গোলন্দাজ বাহিনীতে মহিলাদের সরাসরি যুক্ত না করাই ভাল। অনবরত গোলা-গুলি বর্ষণে  পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে মহিলা সহকর্মীরাও  সমান পারদর্শী । স্রেফ মহিলাদের অসম্মানের  কথা ভেবেই মহিলাদের যুদ্ধের  প্রথম সারিতে রাখার ক্ষেত্রে তার আপত্তির জায়গা । বিশেষ করে পদাতিক বাহিনীতে যারা থাকেন তাঁরা একেবারে সামনের সারিতে থাকেন। তাই সে ক্ষেত্রে মহিলারা যদি সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং কোনও কারণে যদি শত্রুপক্ষের খপ্পরে পড়েন, তাহলে  যে কী পরিণতি হবে সেই মহিলার তা নিয়ে  শঙ্কিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা।

কার্গিল যুদ্ধের সময়কার একটি ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে প্রাক্তন  সেনা কর্তা  বললেন, ' পদাতিক বাহিনীতে যারা থাকেন তাদের কাছে সবসময় ঝুঁকি থাকে। যুদ্ধে কে জিতবে ?  আর কে হারবে ? তার উত্তর দেয় সময়ই।  তবে আমি চাইনা সেই বিভাগে  মহিলারা অংশ নিক। একজন ভারতীয় প্রাক্তন সেনা অফিসার হিসেবে মহিলাদের অসম্মান মেনে নেওয়া যায় না " ।

প্রসঙ্গত , সেনাবাহিনীতে ঠিক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে মহিলআধিকারিকদের অধিকার? তারই শুনানি শেষে সোমবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন রায় ঘোষণার সময়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকার বাধ্য সেনার মহিলা অফিসারদের স্থায়ী কমিশন (পারমানেন্ট কমিশন) দিতে। শীর্ষ আদালত এও জানায়, এই মামলা চলাকালীন কেন্দ্র এই রায়ের বিরুদ্ধে যে যুক্তি দেখিয়েছিল তা সাম্যের নীতি লঙ্ঘন করেছিল। প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছিল লিঙ্গবৈষম্যকেই।

Venkateswar Lahiri   

First published: February 18, 2020, 10:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर