Home /News /kolkata /
Exclusive: মাতৃহারা নাবালকের জন্য নজিরবিহীন পদক্ষেপ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

Exclusive: মাতৃহারা নাবালকের জন্য নজিরবিহীন পদক্ষেপ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় 

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় 

Exclusive: নাবালকের অর্থের অভাবে নিম্ন আদালতের ওকালতির  খরচ বহন করতে চাইলেন খোদ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

  • Share this:

#কলকাতা: মাতৃহারা নাবালকের জন্য নজিরবিহীন পদক্ষেপ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। জেলা জজ'কে সটান ফোন এজলাস থেকে। নাবালকের অর্থের অভাবে নিম্ন আদালতের ওকালতির খরচ বহন করতে চাইলেন খোদ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নাবালকের শিক্ষিকা মা খুন হন ২০১০ সালে। অবসরকালীন সুবিধা আটকে নাবালক অভিভাবকহীন হয়। অভিভাবক প্রমাণ জোগাড়ে নিম্ন আদালতে মামলা। ২ মাসের মধ্যে মেদিনীপুর আদালতের নাবালকের মামলা নিষ্পত্তি করতে বলে হাইকোর্ট।

২৬ এপ্রিল মামলা দায়েরের ২ মাস পর শুনানির দিন নির্দিষ্ট করে মেদিনীপুর আদালত। জেলা জজের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত নাবালকের মামলার শুনানির ব্যবস্থা করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর সবং এর ঘটনায় গায়ে কাঁটা দেয়। নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন না করায় এজলাসে বসেই নিজের মোবাইল থেকে সটান ফোন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জজকে। শুধু তাই নয়, এক মাতৃহারা নাবালক নিম্ন আদালতে মামলার খরচ যোগাতে পারছে না শুনে হাইকোর্টের একজন আইনজীবীকে ওই নাবালকের হয়ে নিখরচায় মামলায় সাহায্য করার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

নাবালকের মা মৌসুমী দে ছিলেন সবং কেরু হাইস্কুল শিক্ষিকা। ২০১০ সালে তিনি নিজের স্বামী পুষ্পেন্দু মাইতির হাতেই খুন হন বলে অভিযোগ। নাবালকের বয়স তখন এক। বাবা সন্তানের দায়িত্ব না নেওয়ায় তার ঠাঁই হয় মামাবাড়িতে দাদুর কাছে। তখন থেকে দাদুই ছিল নাবালকের আইনি অভিভাবক। কারণ বাবা নাবালকের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে। অভিযোগ, মায়ের মৃত্যু হলেও তার কর্মকালীন কোনও সুবিধাই স্কুল শিক্ষা দফতর মিটিয়ে দেয়নি। নাবালকের বাবা যেহেতু ততদিনে অন্য বিয়ে করে ফেলেছে তাই মায়ের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা ওই নাবালকেরই।

আরও পড়ুন- স্কুলে স্থায়ী-অস্থায়ী শিক্ষকদের মধ্যে বেতন বৈষম্য কেন? প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় 

সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় এবার দাদুর মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ওই নাবালক। কিন্তু মামলা চলাকালীন দাদু শংকর দে-র মৃত্যু হয় ২০২১ সালের শেষের দিকে। আর্থিক অনটন তো ছিলই। এবার অথৈ জলে পড়ে ওই নাবালক। এখন তার বয়স তেরো। ইতিমধ্যে মামলাটি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এলে নাবালকের আইনজীবী সারওয়ার জাহানের কাছ থেকে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন পশ্চিম মেদিনীপুর নিম্ন আদালতে নাবালকের অভিভাবক হওয়ার জন্য আবেদন জানাবেন তার দিদা।

আদালত আবেদন পাওয়া মাত্রই দু'মাসের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করবে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নির্দেশমতো গত ২৬ এপ্রিল নিম্ন আদালতে আইনি অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন জানান নাবালকের দিদা। দেখা যায় দুমাসে বিষয়টি নিষ্পত্তি তো দূরের কথা দু মাস পেরিয়ে ২৭ জুন মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে নিম্ন আদালত। এখানেই শেষ নয়, নাবালক পশ্চিম মেদিনীপুরের নিম্ন আদালতে আইনজীবীদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তারা তাকে মুখের উপর জানিয়ে দেয় ১০০ টাকায় মামলা হয় না। বৃহস্পতিবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসের মামলাটি উঠলে সমস্ত টা শোনার পর রীতিমত বিরক্তি প্রকাশ করেন বিচারপতি।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সত্যিই তো দেশে ১০০ টাকায় মামলা হয় না। লাখ টাকা দিলে তবেই মামলা হয়। এর পরই কেন নিম্ন আদালত তাঁর নির্দেশ পালন করেনি তা জানতে নিজেই নিজের মোবাইল ফোন থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রধান বিচারককে ফোন করেন। এজলাসে উপস্থিত হাইকোর্টের আইনজীবী সঞ্জয় সাহাকে বিচারপতি নির্দেশ দেন তিনি যাতে ওই নাবালকের হয়ে মামলাটি করেন এবং নিখরচায় তাঁকে সবরকম সাহায্য করেন। নিম্ন আদালতের বিচারককেও বিচারপতি ফের নির্দেশ দেন, আবেদন পাওয়া মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে হবে। ১৯ মে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সেদিন গোটা বিষয়টি দেখে নাবালকের মায়ের কর্মজীবনের সমস্ত বকেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: High Court

পরবর্তী খবর