কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

নজিরবিহীন! সামর্থ্য নেই, তাই অধ্যক্ষ-অধ্যাপকরাই পরীক্ষার জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের

নজিরবিহীন! সামর্থ্য নেই, তাই অধ্যক্ষ-অধ্যাপকরাই পরীক্ষার জন্য অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদের

সম্প্রতি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফান কেড়ে নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাটুকুও। এই পরিস্থিতিতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে কিভাবে পরীক্ষা দেবে সেটাই ছাত্রছাত্রীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

  • Share this:

#কলকাতা: ইউজিসি এর গাইডলাইন মেনে নিতে হবে পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা হবে অনলাইনে। তাই পরীক্ষার জন্য  দরকার ডিজিটাল ডিভাইস বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন। শহর বা শহরাঞ্চলে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তা সহজেই পাওয়া গেলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে সেটাই এখন যথেষ্ট প্রশ্নচিহ্নের মুখে। সম্প্রতি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফান কেড়ে নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাটুকুও। এই পরিস্থিতিতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনে কিভাবে পরীক্ষা দেবে সেটাই ছাত্রছাত্রীদের কাছে বড় প্রশ্ন।

শুধু তাই নয়, সুন্দরবন লাগোয়া বিভিন্ন দ্বীপে ইন্টারনেট সংযোগ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে। তাই সেই জায়গায় কিভাবে ইন্টারনেট সংযোগে দু'ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা এবং তারপর ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তরপত্র আপলোড করা সম্ভব তা নিয়ে চিন্তিত সুন্দরবনের একাধিক কলেজের অধ্যক্ষরা। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সুন্দরবনের পাঠানখালী হাজী দেশারত কলেজের এক উদ্যোগ, নজিরবিহীনভাবে সারা ফেলল দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাতেই। সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন সহজলভ্য নয়। তাই বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে স্নাতক স্তরের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য নিজেদেরই অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে দিচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে। অধ্যক্ষ নয় এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকা একাংশ।

এমনকি শিক্ষা কর্মীরাও তাদের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। যেসব ছাত্রছাত্রীদের কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সুবিধা নেই তাদেরকে কলেজ থেকেই ফোন করে যোগাযোগ করে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাপক অধ্যাপিকা শিক্ষা কর্মীদের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দেওয়া হচ্ছে ।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাজী দেশারত কলেজের অধ্যক্ষ তরুণ মন্ডল বলেন, " একটি দ্বীপের মধ্যে আমাদের কলেজ । আমরা চেষ্টা করছি যাতে পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে নেওয়া যায়। যাদের কাছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই সেই সব ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আমরা নিজেদের ফোন  দেওয়ার চেষ্টা করেছি  । বিভিন্ন দিতে যেহেতু ছাত্রছাত্রীরা রয়েছেন তাই বিভিন্ন রূপে আমাদের কলেজের শিক্ষা কর্মীদের পাঠিয়েছি যাতে উত্তরপত্র তারা পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র গ্রহণ করে কলেজে নিয়ে চলে আসতে পারেন।"

তবে শুধু সুন্দরবনের পাঠানখালীর হাজি দেসারত কলেজ নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলির একাধিক কলেজ চিন্তিত স্নাতক স্তরের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে কিভাবে শেষ করা যাবে। আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ কলেজ। ক্ষতিগ্রস্ত হবার পর এখনও পর্যন্ত কলেজের মেরামতির কাজই শুরু করা যায়নি। তবে এই পরিস্থিতিতে যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নিয়ে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য আগামীকাল বিভিন্ন অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষ নিজেই যাচ্ছেন কলেজে।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কাকদ্বীপ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রবীর দাস বলেন " যারা অনার্সের পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই আমরা ধারণা করছি। কিন্তু যেসমস্ত ছাত্রছাত্রীরা পাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন তাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে উত্তরপত্র জমা দিতে সমস্যা হতে পারে। অন্তত তাদের সমস্যার কথা আমাদের কাছে  বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী জানিয়েছে । কালকের দিনের পরীক্ষা শুরু হলেই বুঝতে পারব সামগ্রিকভাবে সমস্যা হচ্ছে না কি সমস্যা কাটানো গেল।"

দক্ষিণ 24 পরগনা পাথরপ্রতিমা কলেজ সাগর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকা একাংশ। যদিও গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপিকা পর্যায়ক্রমে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন কিভাবে অনলাইনে উত্তর পত্র জমা দিতে হবে। সাগর কলেজের অধীনস্থ ছাত্র-ছাত্রীরাও বিভিন্ন দ্বীপে থাকেন এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও থাকেন। কলেজ সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাই কলেজ এর কাছাকাছি এসেই পরীক্ষা দেবেন।

এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সাগর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রবীর খাটুয়া বলেন " ইউজিসির গাইডলাইন মোতাবেক আমরা কোনভাবেই কলেজের ক্যাম্পাসের ভেতরে পরীক্ষা নেব না। অনেক ছাত্রছাত্রী আমাদেরকে জানিয়েছে যে তারা অফলাইনে এসে উত্তর পত্র জমা দিয়ে যাবেন। তাদের অভিভাবকরা এসে উত্তর পত্র জমা দিয়ে যেতে পারেন।" ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে বৃহস্পতিবার থেকেই ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ জাতিসত্তাকে তার জন্য সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদকে ইতিমধ্যেই আবেদন জানিয়েছে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তর। যা ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার ট্যুইট করে জানিয়েছেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: September 30, 2020, 6:45 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर