২৪ ঘণ্টা নয়, UGC নিয়ম মেনেই ২-৩ ঘণ্টায় নিতে হবে পরীক্ষা, অধ্যক্ষদের বার্তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

২৪ ঘণ্টা নয়, UGC নিয়ম মেনেই ২-৩ ঘণ্টায় নিতে হবে পরীক্ষা, অধ্যক্ষদের বার্তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
যারা অফলাইনে জমা দেবেন উত্তরপত্র তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হবে। তবে তার মধ্যে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী উত্তর পত্র জমা না দিতে পারেন কলেজে এসে সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলেজের অধ্যক্ষরাই নেবেন।

যারা অফলাইনে জমা দেবেন উত্তরপত্র তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হবে। তবে তার মধ্যে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী উত্তর পত্র জমা না দিতে পারেন কলেজে এসে সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলেজের অধ্যক্ষরাই নেবেন।

  • Share this:

#কলকাতা: ইউজিসির নির্দেশ মোতাবেক ২৪ ঘন্টা ধরে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তার বদলে দু'ঘণ্টা ধরে লিখিত পরীক্ষা এবং ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হবে উত্তরপত্র আপলোড করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের। গত শুক্রবারই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সোমবার কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় ইউজিসি গাইডলাইন মেনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা নিতে হবে সেই বার্তা অধ্যক্ষদের দিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিন সহ-উপাচার্যের নেতৃত্বে তিন দফায় অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রত্যেকটি ধাপে ৫০ জন করে অধ্যক্ষ ডাকা হয় এই দিনের বৈঠকে।

গত দুই সপ্তাহ আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় অধ্যক্ষদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে অবশ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার জন্য যে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে ছাত্র-ছাত্রীদের সেই বিষয়ে জানিয়েই বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু তার পরবর্তীকালে ইউজিসি তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা রাজ্যকে যে, বাড়িতে বসে ওপেন বুক পদ্ধতিতে ২৪ ঘণ্টা ধরে যদি পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে সেটিকে পরীক্ষা বলা হয় না, সেটাকে বলা হয় self-assessment। ইউজিসির তরফে সেই চিঠি আসার পরই আবার পরীক্ষা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গত শুক্রবার বিভিন্ন বিভাগের বোর্ড অফ স্টাডিস এর সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার রূপরেখা চূড়ান্ত করে। ওইদিনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যেহেতু সময়সীমা কমানো হচ্ছে তার জন্য প্রশ্নপত্র সংখ্যাও কমানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুক্রবারের সিদ্ধান্তের পর সোমবার অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ পরীক্ষা দেওয়া এবং তার সঙ্গে এত কম সময়ের মধ্যে কি করে অনলাইনে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্নপত্র আপলোড করে দেবেন, বিশেষত যেসমস্ত ছাত্রছাত্রীরা গ্রামাঞ্চলের দিকে থাকেন তাদের দিকে কতটা নেটওয়ার্ক সুবিধে করবে তা নিয়েই মূলত সংশয় প্রকাশ করছিলেন অধ্যক্ষরা। সে ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ দক্ষিণ ২৪ পরগনা,উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে কলেজ গুলি রয়েছে সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা কতটা ইন্টারনেটে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট নিয়ে আবার অনলাইন মারফত স্ক্যান করে পাঠাতে পারবেন ওই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অধ্যক্ষরা।


এদিনের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠকেও সেই সংশয় প্রকাশ করা হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষদের এই দিনের বৈঠকে পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনেকটাই ক্ষমতা দিয়েছে বলেই অধ্যক্ষদের দাবি। যারা অফলাইনে জমা দেবেন উত্তরপত্র তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হবে। তবে তার মধ্যে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী উত্তর পত্র জমা না দিতে পারেন কলেজে এসে সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলেজের অধ্যক্ষরাই নেবেন। তবে কলেজে এসে কোন ছাত্র-ছাত্রী যাতে পরীক্ষা নেন সেদিকেও কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এদিন এর বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
Published by:Elina Datta
First published: