কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'রেলের বৈঠকে বাংলাদেশ গিয়েছিলাম এই পথে', দু-দেশের রেলযাত্রায় আবেগতাড়িত প্রাক্তন রেলকর্তা

'রেলের বৈঠকে বাংলাদেশ গিয়েছিলাম এই পথে', দু-দেশের রেলযাত্রায় আবেগতাড়িত প্রাক্তন রেলকর্তা

রাজশাহীর বাড়ি থেকে শিলিগুড়ি আসার জন্য এই লাইন ব্যবহার করতেন বাবা-মা। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর এই রেললাইন চালু হওয়ায় আবেগতাড়িত ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের প্রাক্তন অতিরিক্ত সদস্য সুভাষ রঞ্জন ঠাকুর।

  • Share this:

#কলকাতা: সুদীর্ঘ ৫৫ বছর পর ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার  সকাল ১১:৩০ মিনিটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই রেলযাত্রার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ দিনই চিলাহাটি স্টেশন থেকে ৩২টি পণ্যবাহী বগি নিয়ে ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশনের উদ্দেশে একটি ট্রেন প্রথম রওনা হয়। 

চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেললাইন দিয়ে এত বছর পর পুনরায় ট্রেন চলাচলে খুশিচিলাহাটি-সহ গোটা জেলায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে তোরণ, গেট ও ব্যানার টাঙিয়ে শুভেচ্ছা জানান সব শ্রেনী এবং পেশার মানুষ। গোটা চিলাহাটি জুড়ে ছিল উৎসবের মেজাজ।

দীর্ঘদিন পরে এই রেললাইন চালু হওয়ায় আবেগতাড়িত ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের প্রাক্তন অতিরিক্ত সদস্য সুভাষ রঞ্জন ঠাকুর। রাজশাহীর বাড়ি থেকে কর্মস্থল শিলিগুড়ি মহকুমা আসার জন্য এই লাইন ব্যবহার করতেন তাঁর বাবা-মা। এমনকি  নিজে নিউ জলপাইগুড়িতে ১৯৭৭-১৯৮০ সালে এরিয়া অফিসার থাকার সময় হলদিবাড়ি গেলে পরিত্যক্ত লাইন দেখে ট্রেন চালু হোক চাইতেন মনে মনে, আজ সেই ঘটনাই সত্যি হওয়ায় খুশি অবসরপ্রাপ্ত এই রেল কর্তা। তিনি বলেন,  "খুব আনন্দ হচ্ছে। পুরনো দার্জিলিং মেল রুট আবার চালু হতে চলেছে।  ১৯৬৫ সালে এই লাইন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিস্তা দিয়ে অনেক জল গড়ানোর পর আজ তাই খুব আনন্দ হচ্ছে। এখন ভাবছি ইউরোপের মত কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত কী দার্জিলিঙ মেল চলবে? "

ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের প্রাক্তন অতিরিক্ত সদস্য সুভাষ রঞ্জন ঠাকুর। ভারতীয় রেলওয়ে বোর্ডের প্রাক্তন অতিরিক্ত সদস্য সুভাষ রঞ্জন ঠাকুর।

প্রাক্তন রেল্বরডের এই সদস্য আরও বলেন, "এই লাইন পদ্মার ওপর দিয়ে ছিল। 'সারা ব্রিজ' ১৯৭১ সালে খান সেনারা ভেঙে দিয়েছিল। ভারতীয় রেলের ইঞ্জিনিয়াররাই তার পুনর্নিমাণ করেছেন। বাংলাদেশ রেলের সঙ্গে মিটিং করবার সময় এই লাইনে শিয়ালদহ থেকে ঈশ্বরদি (সারা ব্রিজ হয়ে) যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সেই স্মৃতি আজ টাটকা।"

এ দিকে, রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট পাক-ভারত বিভক্ত হওয়ার পরও এই পথে রেল চলাচল চালু ছিল। সে সময়ে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতো যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে রেল চলাচল। পরিত্যক্ত রেলপথটি চালুর উদ্যোগ নেয় শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সরকার। রেলপথটি চালু করতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার। প্রকল্পটির মধ্যে রয়েছে চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬.৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ এবং ২.৩৬ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ-সহ অন্যান্য অবকাঠামো। কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেল স্টেশন চত্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন।

ABIR GHOSAL

Published by: Shubhagata Dey
First published: December 18, 2020, 9:14 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर