corona virus btn
corona virus btn
Loading

বিধ্বস্ত ইয়েস ব্যাঙ্ক, খাদ্য দফতরের তরফে বন্ধ ধান কেনা

বিধ্বস্ত ইয়েস ব্যাঙ্ক, খাদ্য দফতরের তরফে বন্ধ ধান কেনা
ফাইল ছবি

বিভিন্ন সমবায় সংস্থার দেওয়া চেক বদল হচ্ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: ইয়েস ব্যাঙ্কের ঘটনার জের। আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চাষীদের থেকে সরাসরি ধান কিনবে না তিন সরকারি সংস্থা। ইয়েস ব্যাঙ্কে মজুত থাকা খাদ্য দফতরের টাকা অন্য ব্যাঙ্কে ট্রান্সফার করতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে নবান্ন। খাদ্য দফতরের অধীনস্থ ইসিএসসি, সমবায় দফতরের বেনফেড ও  কনফেড গ্রামে গ্রামে সরাসরি কৃষকদের থেকে ধান কেনে। এছাড়া বিভিন্ন সমবায় সংস্থা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমেও বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হয়। সেই প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ করা হল।

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, "আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ওই সংস্থাগুলি ধান কেনার শিবিরের আয়োজন করতে পারবে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা কথা বলছেন।" অন্যদিকে, খাদ্য দফতরের তরফে সরাসরি ধান কেনার জন্য, প্রায় চারশো ধান কেনার যে সমস্ত স্থায়ী কেন্দ্র আছে সেগুলি যথারীতি ধান কেনার কাজ চালিয়ে যাবে। শনিবার থেকেই যেখানে ইয়েস ব্যাঙ্কের চেকে দাম মেটানো হত, সেখানে পিআইবি- ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া শুরু হয়েছে। যে সমস্ত চাষিদের ধানের দাম বাবদ ইয়েস ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁরা সেগুলো টাকা তোলার জন্য জমা দেননি, তাঁদের চেক ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে খাদ্য দফতর। এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি। এই সমস্ত চাষিদেরকেও পিআইবি ব্যাঙ্কের চেক দেওয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার জন্য গড়ে ৩০০ করে চেক দেওয়া হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, ইয়েস ব্যাঙ্কের লেনদেন বন্ধ হলেও ধান কেনার জন্য চলতি মরসুমে টাকার কোনও অভাব হবে না। সরকারি সংস্থাগুলির কাছেও ধান কেনার জন্য পর্যাপ্ত টাকা আছে। ফলে কোনও চাষীর টাকা পেতে অসুবিধা হবে না। সমবায় দফতর এই মরশুমে ধান কেনার জন্য চাষিদেরকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা মিটিয়েছে ইয়েস ব্যাঙ্কের মাধ্যমেই। সমবায় ও খাদ্য দফতর সূত্রে খবর, গত দু'বছরে দারুণ কাজ করেছে ইয়েস ব্যাঙ্ক। তাদের থেকে কোনও দিন কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি। পরিস্থিতি খারাপ বোঝা গিয়েছে গত দু'মাস ধরে। তখন একসঙ্গে বেশি পরিমাণে টাকা তাদের পাঠানো হয়নি সেই কারণে। চেক অনুযায়ী হিসেব করে টাকা পাঠানো হয়েছে  ব্যাঙ্কে। তাই লেনদেন বন্ধ হওয়ার সময় ইয়েস ব্যাঙ্কে খাদ্য দফতরের পড়ে আছে ৪২ কোটি টাকা।

সমবায় দফতরের বেনফেডের পড়ে আছে ১০ কোটি টাকা। আপাতত ঠিক হয়েছে, দ্রুত অন্য কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে টাকা পাঠিয়ে চাষিদের চেক দেওয়ার ব্যবস্থা করবে খাদ্য দফতর। একইভাবে সমস্যা মেটাবে বেনফেড, কনফেড ও ইসিএসসি। এই কাজে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগবে । কারণ বুধবারের আগে ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজ শুরু হবে না। তাই আপাতত বুধবার পর্যন্ত ধান কেনার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখছে সমস্ত সরকারি সংস্থা। অন্যদিকে ইয়েস ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ধান কেনার খাতে যে টাকা আটকে রয়েছে তা দ্রুত উদ্ধার করার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে। খাদ্য দফত্র সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বুধবার দোলের পর অফিস খুললেই অর্থ দফতর সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ ব্যাপারে রাজ্যের ‘লিড’ ব্যাঙ্ক ইউবিআই-এর থেকে সাহায্য নেওয়া হবে। ধান কেনার টাকা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আরবিআই-এর গাইডলাইন কোনও সমস্যা করবে না বলেই আশা করছে খাদ্য দফতর৷

ABIR GHOSHAL

First published: March 8, 2020, 5:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर