কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'পাপের বোঝা অনেক ভারী, আমফানে তারই মাশুল গুণছে কলকাতা'

'পাপের বোঝা অনেক ভারী, আমফানে তারই মাশুল গুণছে কলকাতা'

শুধুই কি আমফান? এত গাছের মৃত্যুর কোনও পূর্বাপর নেই? পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলছেন, আলবাত রয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনও দায়ী এই বিরাট অভিঘাতের পিছনে।-অর্ক দেব

  • Share this:

#কলকাতা: যেন কোনও ভয়াল যুদ্ধে নিহত সৈনিকের মৃতদেহের সারি। বুধবার আমফানের ধাক্কায় শত শত পুরনো গাছ ভেঙে পড়ার পর, শহরের বেশির ভাগ রাস্তার ছবিটাই এমন।

২৮৬ বছর আগের ঘূর্ণিঝড়ে সাধের শহর ছত্রাখান হয়েছিল। দু'শোর বেশি বাড়ি হয়েছিল সেদিন। প্রাণ গিয়েছিল তিনলক্ষ মানুষের। ক্ষতির এমন বীভৎস খতিয়ান আর এই শহর দেখেনি। তবে আমফান যেন বারবার এই স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।শুধুই কি আমফান? এত গাছের মৃত্যুর কোনও পূর্বাপর নেই? পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলছেন, আলবাত রয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের জীবনও দায়ী এই বিরাট অভিঘাতের পিছনে।

কেমন সেই দায়? সুভাষবাবু মনে করেন, কলকাতার গাছের অধিকাংশই দীর্ঘদিন মৃত্যুর জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করছিল। সুভাষবাবু বলছেন,"রাস্তার ধারের গাছগুলির পায়ে অজস্র শেকল বাঁধা। টেলিফোনের তার, ইন্টারনেটের তার,জলের লাইন ইত্যাদিতে গাছের গোড়া ধাক্কা খেতে খেত দুর্বল হয়ে গিয়েছে। ফুটপাত বাঁধিয়ে দেওয়াটাও গাছের ক্ষতিই করেছে। ফলে গাছগুলি যেন প্রতিবন্ধী হয়েই বেঁচেছিল। অবশেষে তার মৃত্যু হয়েছে ঝড়ের ধাক্কায়।"

আমফান চলে গিয়েছে। কিন্তু গাছ পড়ে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে বহু গ্রাম-নগরী সভ্যতা থেকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিলিটারি নেমেছে। সরানো হচ্ছে গাছের গুঁড়ি। এই ব্যবস্থা নিয়েও সন্দিহান সুভাষবাবু। তাঁর মতে, গাছের বেড়ে ওঠা, বেঁচে থাকা বিষয়ে আমাদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই। "প্রতি বছর পুজোর ঠাকুর আনা বা ভাসানে যাওয়ার সময় একদল লোক গাছের ডাল কাটতে কাটতে যান। তাঁরা জানেনও না কী ক্ষতি করছেন। আসলে এই নানা দিকে বেরিয়ে থাকা ডালপালার মাধ্যমেই গাছ ভারসাম্য রক্ষা করে। একই যুক্তি সেনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, তাঁরা রাস্তা পরিষ্কারের কারণে নুইয়ে পড়া গাছের ডাল নির্বিচারে কাটতে কাটতে যাবেন। এতে যে গাছগুলির দেহে এখনও পর্যন্ত প্রাণ রয়েছে, তারা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।"

আমফান পরবর্তী কলকাতার খণ্ডচিত্র। আমফান পরবর্তী কলকাতার খণ্ডচিত্র।

দূষণ রোধে ময়দান থেকে বইমেলা বন্ধ করা হোক বা বিশ্বভারতীর পৌষমেলার দূষণ নিয়ে আইনি লড়াই, বহু ঝড়ঝঞ্ঝা দেখেছেন সুভাষবাবু। ত্রিশ বছর পরিবেশ নিয়ে কাজ করার পর আজ তিনি মনে করেন, স্থূলেই ভুল। কলকাতাকে সঠিক সুর-তাল-লয়ে পৌঁছতে গেলে সেই ভুলটাকেই এবার শুধরোতে হবে।

প্রকৃতি সম্পর্কিত জ্ঞান, ইতিহাসবোধ এই দুই গুণের উপরেই জোর দেন তিনি। যশোর রো়ডের প্রসঙ্গ তুলে আনেন সুভাষবাবু। তাঁর কথায়, "যশোরের রানি যখন কলকাতায় পালকিতে চড়ে আসতেন, তাঁর চলার পথ যাতে ছায়াছন্ন থাকে, সে কথা মাথায় রেখেই যশোর রোডের গাছ লাগানো হয়েছিল। এই ইতিহাস মনে রাখেনি কেউ। উদ্য়ত হয়েছে রাস্তার ধারের প্রাচীন গাছগুলি কাটতে।"

কী ভাবে বাঁচবে কলের শহর? সুভাষবাবুর চটজলদি নিদান, এখনও যে অঞ্চলগুলিতে গাছ রয়েছে, যেমন ময়দান রবীন্দ্র সরোবরের মতো অঞ্চলগুলিকে অবিলম্বে হেরিটেজের মর্যাদা দিক রাজ্য। ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বাড়ির প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্রিয়তা চান তিনি। চান গাছ কাটতে হলে, বিকল্প গাছ লাগানোর ব্যবস্থাটাও সুনিশ্চিত হোক।

আমফান পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সুভাষবাবুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পুঁজির এক খণ্ড মাত্র। তাতে কলকাতার টনক নড়বে কিনা, জানে সারি সারি গাছের মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে থাকা সরল মুখগুলোই।

Published by: Arka Deb
First published: May 25, 2020, 12:28 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर