পুজোর ক্যানভাসে লাহা বাড়ির বনেদিয়ানা

পুজোর ক্যানভাসে লাহা বাড়ির বনেদিয়ানা

নতুন ভাবনা, থিমকে সেলাম. কিন্তু শহর কলকাতার বুকে কান পাতলে যে ঢাকের কড়া নাড়া শোনা যায়, তার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বনেদিয়ানা ৷

  • Share this:

#কলকাতা: নতুন ভাবনা, থিমকে সেলাম. কিন্তু শহর কলকাতার বুকে কান পাতলে যে ঢাকের কড়া নাড়া শোনা যায়, তার পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বনেদিয়ানা ৷ কলকাতার সাবেকী পুজোর আঙিনায় খানিক নস্ট্যালজিয়ায় উদাস হতে না পারলে আর বাঙালিয়ানা কিসের? কলকাত্তাইয়া বনেদীবাড়ির মধ্যে লাহাবাড়ি অন্যতম ৷

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সহাবস্থান এখানে নয় নয় করে বয়স প্রায় দুশো বছরের দোরগোড়ায়. সেকালের বাবু কালচারের প্রতিভূ প্রাণকৃষ্ণ ল শুরু করেছিলেন এই পুজোর. লোকমুখে ল-বাড়ি হয়ে ওঠে লাহাবাড়ি. প্রাণকৃষ্ণবাবুর সাহেব প্রীতি বেচারা মধ্যবিত্ত বাঙালির অ্যান্টেনায ধরেনি ৷ সুবিশাল ঠাকুর দালান তবে থেকেই প্রতি শারদীয়ায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, স্বমহিমায় বাঙালি জীবনে, মননে আজও জমকালো বনেদীয়ানা বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাহাবাড়ি। তাই বাঙালি পরিচালকেরাও বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে বারবার সেলুলয়েডে নিয়ে এসেছেন এই সাবেক বাড়ির কাঠের সিঁড়ি, ধবধবে থামের আড়ালে সুবিশাল ঠাকুর দালান।

সেই বনেদিয়ানা।বংশ পরম্পরায় আজও মেনে চলেছেন লাহাবাড়ির উত্তরসূরিরা। মনে হতেই পারে। লাহা বাড়িতে এসে থমকে যায় সময়। মুখ ফিরিয়ে চায় সেই সব রীতি আর রেওয়াজ।

রাস্তার ওপারে ঠনঠনিয়া কালিবাড়ি। তাই পুজোর কদিন লাহাবাড়ি আর কালিবাড়ির যৌথ সঙ্গতে বাজে। ঢাক-আরতির আবহে ধরা দেয় বাঙালির সাবেক পীঠস্থান। মহালয়ার পর থেকেই তাই সাজো সাজো রব। বাড়ির চৌহদ্দি জুড়ে। কোনও শর্ট-কাট নয়। একেবারে নিয়ম-রীতি মেনেই নিষ্ঠার সঙ্গে চলে প্রতিটি দিনের পুজো-পর্ব। তার আগের মাস খানেক প্রস্তুতি আর অপেক্ষা।

আট থেকে আশি. বাড়ির প্রায় সব সদস্যই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন লাহাবাড়িতে. শিকড়ের টানে। ঐতিহ্যের টানে। ইতিহাসের টানে। তাঁরাই যে উত্তরসূরি। তাঁরাই সাবেকীয়ানার ধারক আর বাহক। তাই তাঁদের হাত ধরেই প্রতিবছরের মতো দেবীপক্ষে জীবন্ত হয়ে এই ঠাকুর দালান।

First published: 02:05:42 PM Aug 23, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर