দুর্গাপুজো মানেই পুরুষশূন্য এই গ্রাম

মহালয়ার পর থেকেই বদলে যায় গোটা গ্রাম। ঢাক কাঁধে গ্রাম ছাড়ে পুরুষরা।

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 22, 2017 04:19 PM IST
দুর্গাপুজো মানেই পুরুষশূন্য এই গ্রাম
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 22, 2017 04:19 PM IST

#বর্ধমান: মহালয়ার পর থেকেই বদলে যায় গোটা গ্রাম। ঢাক কাঁধে গ্রাম ছাড়ে পুরুষরা। তারপর সেই দ্বাদশীর অপেক্ষা। যখন ঘরে ফিরবে ঘরের মানুষ। তারপর পুজো নামে বর্ধমানের খন্ডঘোষে ঢাকিদের গ্রামে। উৎসবে যখন মাতে গোটা বাংলা। তখন শুধু সন্ধ্যা দীপ জ্বলে। কৈয়র গ্রামে আসল উৎসব শুরু হয় লক্ষ্মী আরাধনার পর।

রুইদাসরা ঘর ছাড়ে মহালয়ার আগে থেকেই। কেউ যাবেন কলকাতা হাওড়া শ্রীরামপুর। কেউ বা দিল্লি মুম্বাই মধ্যপ্রদেশ। ডাক আসে সব প্রান্ত থেকেই। যার যেমন যোগাযোগ। আর পঞ্চমীতে একেবারে পুরুষ শূন্য হয়ে যায় গ্রাম। ফের দ্বাদশীর পর শুরু হয় উৎসব। ঢাকি গ্রামে।

বর্ধমানের খন্ডঘোষের কৈয়ড় গ্রাম। ৮০ ঘর রুইদাস পরিবার রয়েছেন এই গ্রামে। পুজোয় ঢাক বাজাতে যান গ্রামের সব পুরুষই। আর বাপ কাকা জ্যাঠার পিছু পিছু কাঁসি হাতে যায় সদ্য কিশোর সন্তান। পুজোর দিনগুলো কাটে অপেক্ষা আর চোখের জলে। এই গ্রামে পুজোর আনন্দ শুরু হয় দুর্গা ভাসানের পর। মাথায় বোঁচকা নিয়ে ঢাক বাজাতে বাজাতে একে একে বাড়ি ফিরে আসে পুরুষরা। বোঁচকায় থাকে বাবু বাড়ির শুকনো খাবার। নারকেল নাড়ু, মুড়ির মোয়া। ভাগ করে দেন ছেলেমেয়েদের।

সারা বছর মাঠে কাটে দিন। ফের পুজোর কটা দিন বাড়ির সবাইকে ছেড়ে বেরিয়ে পড়া। কিন্তু বাড়তি একটু রোজগারের আশায় ঢাক নিয়ে যেতেই হয়। কারো কারো আবার ক্লাব,বনেদি বাড়ি ধরা থাকে। বছর বছর তাদের পূর্ব পুরুষরাই বাজিয়ে এসেছেন এই সব জায়গায়।

তবে এখন ঢাক নিয়ে ফ্যাকড়া বেড়েছে। ভালো চামড়া মেলে না। মেলেনা ঢাকের খোল। ঢাক ছাইতেও খরচা বাড়ছে। চামড়ার ঢাকের বোল মিঠা হলেও শহুরে বাবুদের পছন্দ, জোরদার চটুল আওয়াজ। সেই কারণে প্লাস্টিকে চাদরে ছাইতে হচ্ছে ঢাক। ঢাকে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠের বদলে টিনের খোল।

অনেক পুজো কমিটি আবার বেছে নিচ্ছেন যন্ত্রবদ্ধ ঢাকের আওয়াজ। সিডি ডিভিডিতে। বাজছে ঢাক। মণ্ডপে- মণ্ডপে। কিন্তু ঢাকির দেখা মিলবে না। তাই চাহিদাও কমছে। তবে সবাই তেমন নয়। তাদের জন্য তো প্রস্ততি নিতে হয়। তাই পুজো মাস খানেক আগে থেকেই চলে ঢাক সারানো। আর হাত মকশো করে নেওয়ার কাজ।

ঢাকের বোলে আবাহন যেমন থাকে। তেমনই বিসর্জনও থাকে। উৎসবের শেষে হাজার পাঁচ-ছয়েকের রোজগার। টানাটানির সংসারে তাই বা কম কিসের?

First published: 04:19:12 PM Aug 22, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर