লক ডাউনঃ সম্পূর্ণ স্তব্ধ রেল পরিষেবা, শাটার পড়ল দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিয়ালদহ স্টেশনে

লক ডাউনঃ সম্পূর্ণ স্তব্ধ রেল পরিষেবা, শাটার পড়ল দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিয়ালদহ স্টেশনে

রবিবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন।

  • Share this:

#কলকাতাঃ  লক ডাউন। শাটার নামানো শিয়ালদহ ষ্টেশন।

এ শহর নানা ওঠাপড়ার সাক্ষী থেকেছে।  বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বনধ আন্দোলন দেখেছে। কিন্তু এ ছবি শিয়ালদহ স্টেশনে শেষ কবে দেখা গিয়েছে, কেউ মনে করতে পারছেন না। এমনকি বহুদিন ধরে শিয়ালদহ স্টেশনের সাথে যুক্ত রেলের আধিকারিকরাও কেউ মনে করতে পারছেন না কবে এমন শুনশান দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশনকে তাঁরা দেখেছেন।

রবিবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হয়েছে শিয়ালদহ স্টেশন। জনতা কার্ফু'র দিন শিয়ালদহ ডিভিশনে চলাচল করেছিল ৫০০ লোকাল ট্রেন। চলেনি কোনও মেল, এক্সপ্রেস বা দূরপাল্লার প্যাসেঞ্জার ট্রেন। রবিবার রাত থেকে ট্রেনের সাইরেন আর শোনা যায়নি শিয়ালদহ স্টেশন থেকে। ফলে উত্তর থেকে দক্ষিণ, বন্ধ হয়েছে ৫৯ শাটার। লক ডাউন হয়েছে স্টেশনের। যদিও সকাল থেকে একাধিক লোক এসেছেন শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে। কেউ খোঁজ করেছেন ক্যানিং লোকাল পাওয়া যাবে কিনা। তো কেউ খোঁজ করেছেন ট্রেনে শিলিগুড়ি যাওয়া যাবে কিনা। বনগাঁর দিকে ট্রেনে চেপে গিয়ে বাংলাদেশ যাওয়া যাবে কিনা সেই প্রশ্নও ঘুরে বেড়িয়েছে। বেজে গিয়েছে স্টেশনের অনুসন্ধান অফিসের ফোন। কখন চলবে ট্রেন সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন অনুসন্ধান অফিসের কর্মীরা।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী জানান, "৩১ তারিখ পর্যন্ত কোনও ট্রেন চলবে না। শুধুমাত্র পণ্যবাহী ট্রেন চালানো হবে। বারবার আমরা জানিয়ে চলেছি, তাও বোঝানো সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা করেই যাচ্ছি যাতে সাধারণ মানুষ পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।" এদিকে, সোমবার ভোররাত থেকেই শুরু হয় স্টেশন পরিষ্কারের কাজ। পুরো স্টেশন স্যানিটাইজ করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টার। বন্ধ ফুড প্লাজা, জন আহার-সহ বাকি জায়গা। শুধুমাত্র হাতে গোনা কিছু আর পিএফও রেলের স্টাফ ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি স্টেশনের টিকিটিং জোনের মধ্যে। প্রতিদিন যে স্টেশনে ভিড় করে থাকে কমপক্ষে ১০ লক্ষ যাত্রী, আজ সেখানে মাছি গলারও ফাঁক নেই। দেখে বোঝা দায়, এটা কি স্টেশন নাকি অন্যকিছু।

রেল পরিষেবা বন্ধ তাই ভিড় কম বাইরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে। আর যাদের ভরসা শুধুই ট্রেন তারা স্টেশনের বন্ধ শাটারের সামনেই বসে থাকলেন দিনভর। যদি একটিবার ঘোষণা হয় ট্রেন চলবে আবার। তবে রেল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্টেশনের কুলিরা। বন্ধ ট্রেন তাই রোজগার শূন্য। তবে রেলের আধিকারিকরা বলছেন, গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে অন্য রাস্তা খোলা নেই।

ABIR GHOSHAL

First published: March 23, 2020, 1:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर