ইয়াসের দাপটে সমুদ্রের গ্রাসে চাঁদিপুরের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাস্তা! কার্যত বিচ্ছিন্ন জনজীবন

এমনই অবস্থা ডিআরডিও-র এই রাস্তার।

এই রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতেও ব্য়াপক অসুবিধের সৃষ্টি হয়েছে।

  • Share this:

#চাঁদিপুর: সাইক্লোন ইয়াসের প্রভাবে সমুদ্রে তলিয়ে গেল চাঁদিপুরে ডিআরডিও'র রাস্তা। চাঁদিপুরে রয়েছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ। সমুদ্রের ধারে এই রাস্তা এলসি ১ নামে পরিচিত। গুরপাই গ্রামের পাশের এই রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতেও ব্য়াপক অসুবিধের সৃষ্টি হয়েছে।

 এলসি-১ রাস্তা একেবারে সমুদ্রের গা ঘেঁষে গিয়েছে। জোয়ারের জল মাঝে মধ্যেই এই রাস্তায় চলে আসে। তবে সুপার সাইক্লোনেও এই রাস্তার কোনও ক্ষতি হয়নি। অথচ বুধবার ইয়াসের পদাপটে এই রাস্তার অ্যাসফল্টের যে মোটা চাদর রয়েছে তা ভেসে চলে গিয়েছে সমুদ্রে। প্রায় ৩ কিমি রাস্তা জুড়ে ফাটল চওড়া হয়েছে। এমনকি রাস্তার ক্ষতি রুখতে যে বোল্ডার দেওয়া হয়েছিল সেই বোল্ডার ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে সমুদ্র।

বৃহস্পতিবার সকালেও দেখা যাচ্ছে সমুদ্রের জল রাস্তায় এসে আছড়ে পড়ছে। যে রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছে তা একটি সেতুর রাস্তা। এই সেতুর পাশেই রয়েছে অব্যবহৃত পরিত্যক্ত একটি সেতু। সেই সেতুর কাঠামোও ভীষণ রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবহৃত সেতুর পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক জায়গা থেকে খসে পড়ছে বালি-সিমেন্ট-পাথর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সমুদ্রের ধারে যেন একটা খাদ তৈরি হয়েছে। সেই খাদের নিচেই এখনও আছে সমুদ্রের জল। যে ভাবে এদিনও চোখ রাঙাচ্ছে সমুদ্র তাতে বাকি রাস্তাও থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে এলাকার বাসিন্দারা।

 স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল বলছেন, "সুপার সাইক্লোন, ফিলিন, ফণীর মতো ঝড় আগে দেখেছি এখানে। কিন্তু এই রাস্তায় সমুদ্রের জল আর প্রবল হাওয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাস্তা ভেঙে চলে যাবে তা কখনও ভাবিনি।" পাশের গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ  মাঝি বলছেন, "ঝড়ের সময়ে যে তীব্র জলোচ্ছ্বাস হল তাতে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বড় বড় বোল্ডার ভেঙে সমুদ্র নিয়ে চলে গেছে। এমন চেহারা আগে কখনও দেখিনি।" এখন এই রাস্তা ব্যবহার করা কতটা যুক্তিসঙ্গত হবে তা নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ হওয়ার কারণে দ্রুত রাস্তা মেরামত করা হবে বলে সূত্রের খবর।

Published by:Arka Deb
First published: