ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত মেডিক্যল কলেজের চিকিৎসক দেবাংশী সাহা, রিপোর্ট জমা স্বাস্থ্য ভবনে

টোসিলিজুম্যাব কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসক দেবাংশী সাহা।

ওই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ২৬ টি টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশান নিয়েছিলেন এই চিকিৎসক, যার বাজারমূল্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইঞ্জেকশন কাণ্ডে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ল স্বাস্থ্য ভবনে। কমিটির দেওয়া রিপোর্টে দোষী প্রমাণিত চিকিৎসক দেবাংশী সাহা। ওই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে,  নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ২৬ টি টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশান নিয়েছিলেন এই চিকিৎসক, যার বাজারমূল্য প্রায় দশ লক্ষ টাকা।

নিয়মানুসারে কোনও হাউস স্টাফ বা মেডিক্যাল অফিসার এই ইঞ্জেকশান নিতে পারে না। তবে  নির্দিষ্ট করে যে রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার বা আর এম ও,  যে চিকিৎসক রোগীকে দেখছেন তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। অথবা সিনিয়র রেসিডেন্ট পদের চিকিৎসক এই ইনজেকশন নিতে পারে। টোসিলিজুম্যাব অত্যন্ত দামী ইঞ্জেকশান, করোনা পরিস্থিতিতে তা জীবনদায়য়ীও বটে। তাই বিধি মেনে কোন রোগীকে দেওয়া হচ্ছে কি ডোজ দেওয়া হচ্ছে সমস্ত টা লিপিবদ্ধ করতে হবে। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী দেবাংশী কোনও নিয়মই মানেননি।

বেশ কয়েকদিন ধরেই এই ইঞ্জেকশন চুরি নিয়ে হইচই চলছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আইএনটিটিইউসি সেবা দলের পক্ষ থেকে বুধবার এই ঘটনা নিয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগকারীরা জানান ওই ২৬ টি জীবনদায়ী ইঞ্জেকশান পরিকল্পনামাফিক ভাবে শিশু বিভাগের দায়িত্বে থাকা সিস্টারকে বোকা বানিয়ে গায়েব করা হয়েছে। তারা চাইছিলেন, এই দুর্নীতিতে প্রশাসনের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ঘটনা কানে আসতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ। স্বাস্থ্য দফতর যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। মেডিকেল কলেজের আইনত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে বিষয়টি তারাই দেখবেন।

অন্য দিকে মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি কমিটি গড়ে তোলা হয় তদন্তের জন্য। কমিটিতে রাখা হয়েছিল ফার্মাকোলজি ফরেনসিক-সহ নানা বিভাগের চিকিৎসক নার্সিং বিভাগের আধিকারিকদের।

বলাই বাহুল্য টোসিলিজুম্যাব কোন সাধারণ ইঞ্জেকশান নয়। করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে এটিকে জীবনদায়ী বলা চলে।  শরীরে সাইটোকাইনিন ঝড় দেখা দিলে এই ইঞ্জেকশান ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা। রোগীর শরীরে করোনার কারণে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয় কোষে কোষে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেয় এই ইঞ্জেকশন। ফলে এই মুহূর্তে এক কথায় তা মহার্ঘ্য। এক একটি টোসিলিজুমাবের বর্তমান বাজারে দাম ৫০-৫৬ হাজার টাকা। কালোবাজারে এই ইঞ্জেকশান দুই আড়াই লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

Published by:Arka Deb
First published: