পথশিশুদের জন্য নিখরচায় ডাক্তারখানা ধর্মতলায়, মিলছে ওষুধও

পথশিশুদের জন্য নিখরচায় ডাক্তারখানা ধর্মতলায়, মিলছে ওষুধও

ওরা চোখ খোলে খোলা আকাশের নিচে। রাতও হয় সেখানেই। রাস্তার ধারের চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বেড়ে ওঠা।

  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: ওরা চোখ খোলে খোলা আকাশের নিচে। রাতও হয় সেখানেই। রাস্তার ধারের চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বেড়ে ওঠা। তাই ছোট থেকেই বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে শরীরে। যার চিকিৎসা করার সামর্থ্য ওদের নেই। না ওদের বাবা-মায়ের সময় আছে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর। কারণ সেখানে সময় দিতে গেলে একবেলার রোজগার নষ্ট হবে।

ফুটপাথের সেই শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবেছে একদল শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে শনিবার ধর্মতলা ট্রামডিপোর পাশে জড়ো হয়ে হয়েছিলেন তাঁরা। ধর্মতলা ট্রামডিপোর পাশে আজ থেকে শুরু হলো পথ শিশুদের জন্য অস্থায়ী ডাক্তারখানা। মাসে এক থেকে দুবার সেখানে আসবেন এই ডাক্তারবাবুরাই।

এদিন এই 'ফুটপাথ ডিস্পেনসারি'তে প্রায় ৩৫ জন পথ শিশুর চিকিৎসা করা হয়। তাদের রোগ নির্ণয় করে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় সব রকম ওষুধ। সবই বিনামূল্যে। পরম স্নেহে রোগী দেখা আর ডাক্তারবাবুদের কাছে পেয়ে খুশি ফুটপাথের কচি মুখ গুলো। যারা এতদিন নিজের শরীরে রোগ বয়ে নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছিল, কাছে ডাক্তার পেয়ে তাদের রোগ যেন উবে গেল।

আরিফা গত বেশ কিছুদিন ধরে সর্দি, কাশিতে ভুগছিল। বাবা মাকে বললেও তারা হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেনি। ফলে সেই অবস্থাতেই দিন কাটছিল তার। আরিফার কথায়, "আমাদের ওষুধ কেনার টাকা নেই। হাসপাতালে গিয়ে লাইন দিয়ে ডাক্তার দেখাতেও যেতে পারিনি। ডাক্তারবাবুকে সব বললাম। একটা সিরাপ আর ট্যাবলেট দিয়েছেন।"

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দিব্যেন্দু রায়চৌধুরী রোগী দেখতে দেখতে জানাচ্ছিলেন, "অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার জন্য এদের বেশিরভাগেরই চর্মরোগ আর পেটের রোগ বেশি। শিশুদের অপুষ্টি রয়েছে। ওষুধ ছাড়াও ভাল খাবার দরকার এদের।" ওষুধ তো হল, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার মুখে তুলে দেবে কে? সেই প্রশ্ন থেকেই গেল।

গত তিন বছর ধরে পথশিশুদের জন্য কাজ করছেন সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর কুন্ডু। এদিনের কর্মসূচির তিনিও অন্যতম উদ্যোগতা। তিনি বলেন, "শিশুরাই ভবিষ্যৎ। এই শিশুদের পাশে যদি ছোট থেকে দাঁড়ানো যায় তবেই তাদের ভবিষ্যৎ ভাল হবে। সেই ভাবনা থেকেই ওদের জন্য কাজ করি। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে দিতে চাই।"

ফুটপাথের শিশুরাও চায় এড়িয়ে না গিয়ে সবাই ওদের পাশে থাকুক।

First published: 08:39:03 AM Dec 01, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर