corona virus btn
corona virus btn
Loading

নিজে গাড়ি চালিয়ে রোগীকে কলকাতা থেকে রামপুরহাট পৌঁছে দিলেন ডাক্তারবাবু

নিজে গাড়ি চালিয়ে রোগীকে কলকাতা থেকে রামপুরহাট পৌঁছে দিলেন ডাক্তারবাবু

নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান অ্যাঞ্জেল ও তার অভিভাবকদের। ২৭০ কিলোমিটার পথ তিনি ৭ ঘন্টায় চলে যান।

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউনের সময়, রোগীকে বাড়ি পৌছে দিয়ে এলেন চিকিৎসক। রাজ্যের সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতাল এস এস কে এম-এর চিকিৎসক বাবলু সর্দারের এই কাজের প্রশংসা এখন সমাজের প্রতিটি কোণায়। বীরভূমের রামপুরহাটের ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া একটি গ্রামের বাসিন্দা রাজেশ বক্সির। দিন আনি দিন খাই পরিবারে রাজেশ বাবুর ৮ বছরের মেয়ের পেটে ব্যাপক যন্ত্রণা শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসক রোগী দেখার পরে তড়িঘড়ি কলকাতায় রেফার করেন। এস এস কে এম হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয় রাজেশবাবুর মেয়েকে। চিকিৎসকরা একাধিক পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হন, বাচ্চাটির দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

সেই অনুযায়ী অ্যাঞ্জেল বাস্কির চিকিৎসা শুরু হয়। মেইন বিল্ডিংয়ে তার চিকিৎসা শুরু হয়। গত মাসের ২৩ তারিখ হাসপাতাল তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু লকডাউনের জেরে তারা আটকে থাকে কলকাতায়। এদিকে কলকাতা থেকে তারা যাবেন কি করে? কোনও অ্যাম্বুলেন্স যেতে রাজি নয়। গাড়িও যেতে রাজি নয়। রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও জোগাড় করা যায়নি গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স। অন্য চিকিৎসকদের থেকে এই কাহিনী শোনেন বাবলুবাবু। তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ি পৌছে দেওয়ার এই পরিবারকে।

খাবার না পেয়ে তখন এস এস কে এমের চিকিৎসকদের মুখের দিকে চেয়ে রাজেশ বাস্কি, তার স্ত্রী ও অসুস্থ মেয়ে।। শেষমেষ ২৪ তারিখ রাত ১০টা নাগাদ বাবলু বাবু নিজের গাড়ি নিয়ে রওনা হন রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে। নিজেই গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান অ্যাঞ্জেল ও তার অভিভাবকদের। ২৭০ কিলোমিটার পথ তিনি ৭ ঘন্টায় চলে যান। বাবলু বাবু জানান, "সন্ধা ৮ টায় মাত্র এক বোতল জল নিয়ে বেরিয়েছিলাম। রাস্তায় কোনও খাবার দোকান অবধি খোলা ছিল না। ভোর ৩ টের সময় যখন ওখানে গিয়ে পৌছই তখন ক্লান্তি ঢেকে দেয় বাচ্চাটির হাসি।" যদিও ক্লান্ত হতে চাননি ডাক্তারবাবু। গাড়ি নিয়ে ফিরে এসে আবার তিনি অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে কাজে যোগ দেন। রাস্তায় যাওয়ার পথে অবশ্য দু'বার তার গাড়ি থমকায়। পুলিশ জানতে চায়। যদিও ডাক্তার বাবুর পরিচয় পেয়ে তারা গাড়ি ছেড়ে দেন। বাবলু বাবুর এই কাজের প্রশংসা করছেন চিকিৎসক মহল।যদিও ডাক্তার বাবু এই কাজ করে নিজের প্রশংসা শুনতে চান না। তার কথায়, "চিকিৎসক হিসাবে আমি তো খালি হাসি মুখ দেখতে চেয়েছিলাম। ওকে বাড়ি পৌছে দিতে পেরে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।" রোজই ছোট্ট অ্যাঞ্জেলার সাথে ফোনে কথা বলছেন বাবলুবাবু। তিনি স্বপ্ন দেখেন সব মানুষই সব মানুষের পাশে এভাবেই দাঁড়াবে।

First published: April 3, 2020, 5:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर