Dilip Ghosh: 'বিধায়ক মানেই নিজেকে কেউকেটা ভাববেন না', প্রশিক্ষণ শিবিরে কড়া বার্তা দিলীপের

বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

প্রশিক্ষণ শিবিরে মূলত দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এবং শুভেন্দু অধিকারীই (Suvendu Adhikari) বক্তব্য রাখেন৷ সূত্রের খবর, দিলীপ বাবু বিধায়কদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, বিধায়ক হলেও পা মাটিতে রেখেই চলতে হবে৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বিধায়ক হয়ে যাওয়া মানেই নিজেকে দলের ঊর্ধ্বে মনে করলে চলবে না৷ শুধু তাই নয়, দলকে না জানিয়ে নেওয়া যাবে না কোনও কর্মসূচির সিদ্ধান্তও৷ দলের প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রথমবার বিধানসভায় যাওয়া দলীয় বিধায়কদের এই কড়া বার্তাই দিয়ে রাখলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ রাজ্য সভাপতি যখন নতুন বিধায়কদের শৃঙ্খলার পাঠ পড়িয়েছেন, তখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, বিধানসভার ভিতরে বাইরে নানা ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখাই হবে বিজেপি-র লক্ষ্য৷

    বিজেপি-র ৭৫ জন বিধায়কের মধ্যে অধিকাংশই নতুন৷ বিধানসভার অন্দরে তাঁদের ভূমিকা কী হবে, বিধায়ক হিসেবেই বা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, এ দিনের প্রশিক্ষণ শিবিরে সেই সমস্ত বিষয়ে বিধায়কদের ধারণা দিতে চেয়েছিল দল৷ দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মূলত বিধায়কদের ক্লাস নেন৷ এ ছাড়াও ভার্চুয়ালি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ৷ এ ছাড়াও ছিলেন অমিতাভ চক্রবর্তী সহ রাজ্য স্তরের কয়েকজন সিনিয়র নেতা৷

    করোনা অতিমারির কথা মাথায় রেখে কলকাতার হেস্টিংস অফিসে মোট ৫০ জন থাকবেন বলে ঠিক হয়৷ এর মধ্যে সশরীরে প্রশিক্ষণ শিবিরে আসেন চল্লিশ জনের বেশি বিধায়ক৷ বাকিদের ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিতে বলা হয়৷

    প্রশিক্ষণ শিবিরে মূলত দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীই বক্তব্য রাখেন৷ সূত্রের খবর, দিলীপ বাবু বিধায়কদের স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, বিধায়ক হলেও পা মাটিতে রেখেই চলতে হবে৷ সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে৷ একা সিদ্ধান্ত নিয়ে দলকে না জানিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা চলবে না৷ বিজেপি রাজ্য সভাপতি বৈঠকে বলেন, 'বিধায়ক হয়েছেন মানেই নিজেকে কেউকেটা মনে করবেন না৷ মনে রাখবেন দলই আপনাদের বিধায়ক করেছে৷ ফলে কেউই দলের ঊর্ধ্বে নন৷'

    এর পাশাপাশি দলীয় বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় বেশি করে সময় কাটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ জনসংযোগ বৃদ্ধির উপরে জোর দেওয়া হয়েছে৷ এলাকার মানুষ যাতে প্রয়োজনে নিজেদের বিধায়ককে সবসময় পাশে পান, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবিরে৷ নতুন বিধায়কদের নিজেদের বিধানসভা এলাকার স্থানীয় সমস্যাগুলি বিধানসভায় তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করারও পরামর্শ দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি৷

    অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বিধায়কদের বুঝিয়েছেন, বিরোধী আসনে বসলেও হীনমন্যতায় ভোগার কোনও কারণ নেই৷ বরং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে হবে বলেও সতীর্থদের মানসিক ভাবে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন বিরোধী দলনেতা৷ আগামী পাঁচ বছরে বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে বিভিন্ন ইস্যুতে হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরাল আন্দোলন গড়ে তুলে বিরোধী দলের ভূমিকা যাতে যথার্থ ভাবে পালন করা যায়, অনভিজ্ঞ বিধায়কদের সেই বার্তাই দেন বিরোধী দলনেতা৷ প্রসঙ্গত বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনই রাজ্যপালের ভাষণের সময় তীব্র হইহট্টগোল শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা৷ আগামী দিনেও বিধানসভার অন্দরে দলীয় বিধায়কদের যে এই ভূমিকাতেই তিনি বার বার দেখতে চান, এ দিন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: