চিঁড়ে দিয়ে অনুপ্রবেশকারী চেনা ? বিজয়বর্গীয়র তত্ত্বে সায় নেই দিলীপের

চিঁড়ে দিয়ে অনুপ্রবেশকারী চেনা ? বিজয়বর্গীয়র তত্ত্বে সায় নেই দিলীপের

চিঁড়ে ভিজল না! চিঁড়ে দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার অভিনব তত্ত্ব আওড়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়

  • Share this:

#কলকাতা: চিঁড়ে ভিজল না!  চিঁড়ে দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার অভিনব তত্ত্ব আওড়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কৈলাসের সেই মন্তব্যের একসুরে কড়া সমালোচনা করেছিল বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল। আজ, মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও  সমর্থন করলেন না কৈলাসকে।

কলকাতায়, প্রেস ক্লাবে দ্বিতীয়বার রাজ্য সভাপতি হওয়ার জন্য আয়োজিত এক সম্বর্ধনা সভায় দিলীপ ঘোষ সাফ জানালেন, ' চিঁড়ে খাওয়ার মধ্যে খারাপ তো কিছু নেই। আমি তো খাই। ভালই লাগে।' কৈলাসের মন্তব্যের সঙ্গে তিনি যে সহমত নন, সেটা বোঝাতে দিলীপের আরও সংযোযন, 'সবাই যে একরকম মন্তব্য করবেন , এমনটা না ভাবাই ভাল।'

 ‌সম্প্রতি, ইন্দোরে তাঁর বাড়ির নির্মাণ শ্রমিকদের চিঁড়ে খাওয়া দেখে তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি যোগ খুঁজে পেয়েছিলেন কৈলাস। পোশাকের পর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কৈলাসের মন্তব্যে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল রাজ্যজুড়ে। গরিব শ্রমিকের খাবার নিয়ে অনুপ্রবেশের রাজনীতি টেনে এনে বাংলা, বাঙালি ও গরিব শ্রমজীবী মানুষকে অসম্মান করছে বলে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপদাগে বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল।  এন আর সি, সিএএ বিতর্কের মধ্যে কৈলাসের এই মন্তব্য অস্বস্তি বাড়িয়ে ছিল রাজ্য বিজেপিতে। অস্বস্তির জেরে কৈলাসের পাশে দাঁড়ায়নি বিজেপিতে কৈলাস ঘনিষ্ট মুকুল রায়ের  মত নেতারাও। উল্টে সমালোচনা শুনতে হয়েছে দলের অন্দরে।

পরিস্থিতি দেখে রাজ্য বিজেপিতে কৈলাস বিরোধী শিবিরের এক নেতা ঘনিষ্ট মহলে বিজয়বর্গীয়র সমালোচনা করে বলেছিলেন,‌ 'সুদূর ইন্দোরের নেতাকে দিয়ে বাংলার রাজনীতি হয় না। বাংলার রাজনীতি করার জন্য, বাংলার মাটি, জল, হাওয়ার সঙ্গে যোগ থাকা দরকার। পরিস্থিতির আগুপিছু বিচার না করে আচমকা এ'ধরনের মন্তব্যে আখেরে রাজ্যে দলের ক্ষতি হয়, এটা কেন্দ্রীয় নেতারা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই মঙ্গল। অনুপ্রবেশ রাজনীতি উস্কে দিতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র এমন গল্প ফাঁদার কোনও  দরকার ছিল না। এতে কৈলাসের 'চাল' ভাতে বাড়ল না। "

এরপর মঙ্গলবার কৈলাসের চিঁড়ে বিতর্ক নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল, কৈলাসের চিঁড়ে তত্ত্বে তাঁর দলের  রাজ্য সভপতিরই সায় নেই। ওয়াকিবহল মহলের মতে, রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরে কৈলাস বিজয়বর্গীয় - দিলীপ ঘোষ শিবিরের টানাপোড়েন সকলের কাছেই সুবিদিত।  দ্বিতীয়বার রাজ্য সভাপতি‌ নির্বাচনের মুখে রানাঘাটের সভায় 'গুলি করে মারার' নিদান ঘোষণা নিয়ে জল ঘোলা করেছিল দিলীপ বিরোধী শিবির। কিন্তু, তা সত্ত্বেও, দ্বিতীয় দফায় সভাপতি হওয়া আটকায়নি দিলীপের। এদিন কৈলাসের মন্তব্যকে প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে সুদে আসলে তারই  উশুল তুললেন দিলীপ।

ARUP DUTTA

First published: January 28, 2020, 11:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर