নজরে বিধানসভা নির্বাচন, এক মাসের মধ্যে ফের রাজ্যে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার

নজরে বিধানসভা নির্বাচন, এক মাসের মধ্যে ফের রাজ্যে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের মতে এবারের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের দু'দিনের সফরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবারের আলোচনাতেই কার্যত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের খানিকটা হলেও ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের মতে এবারের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের দু'দিনের সফরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবারের আলোচনাতেই কার্যত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের খানিকটা হলেও ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যেতে পারে।

  • Share this:

#কলকাতা: এক মাসের মধ্যেই ফের রাজ্যে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা। বিধানসভা ভোট কবে হবে রে রাজ্যে এখন সেটাই সবথেকে চর্চার বিষয়। তার মাঝেই মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রসঙ্গ নিয়ে নির্বাচন সদনে বৈঠক করেছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের নিয়ে। সে ক্ষেত্রে এ রাজ্যের ভোটের প্রস্তুতি কার্যত তৎপরতার সঙ্গে চলছে বললেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। সেই মর্মে এক মাসের মধ্যেই ফের রাজ্য ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, এবারের সফরে ভোটই আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু। আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রসঙ্গ। অর্থাৎ রাজ্যের ভোট করাতে গেলে কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে কোন জেলায় কতটা কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই বুধবারের জেলাশাসক,পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার প্রথম দফায় দক্ষিণ বঙ্গের জেলা শাসক,পুলিশ সুপার, কমিশনারদের সঙ্গে সশরীরে বৈঠক করবেন সুদীপ জৈন। উত্তরবঙ্গের সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপাররা থাকবেন ভার্চুয়ালি। দ্বিতীয় দফায় শুধুমাত্র জেলাশাসক দের সঙ্গেই বৈঠক করবেন সুদীপ জৈন। যদিও এবারের রাজ্য সফরে কলকাতা থেকেই যাবতীয় বৈঠক প্রস্তুতি করবেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।


গত মাসেই রাজ্যে এসেছিলেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সুদীপ জৈন। রাজ্যে এসেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। শুধু তাই নয় এর সঙ্গে একাধিক পরামর্শ দিয়ে গিয়েছিলেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের। বিশেষত রাজনৈতিক দলগুলিকে সভা-সমাবেশ করা, প্রত্যেক সপ্তাহ অন্তর অন্তর রাজনৈতিক খুন হিংসা বা এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটছে নাকি তার বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো সহ একাধিক পরামর্শ দিয়েছিলেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার। সে ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেছিলেন জেলাশাসক,পুলিশ সুপারদের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার। শুধু তাই নয় ডিসেম্বর মাসেই জানিয়ে গিয়েছিলেন জানুয়ারি মাসে আসতে পারে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। যদিও সেই সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দিচ্ছে না কলকাতার নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। মনে করা হচ্ছে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার তার দু দিনের সফর শেষ করেই জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে আসতে পারে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

সূত্রের খবর বুধবার দিনভর জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক সেরে নেবেন। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের। আলোচনাতে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত আলোচনা বিশেষত্ব ভোটের কাজে যারা নিযুক্ত হবেন তাদেরকে কিভাবে সহযোগিতা করা যায় সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে স্বাস্থ্য দপ্তরের সঙ্গে বলেই মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের একাংশের মতে এবারের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনারের দু'দিনের সফরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবারের আলোচনাতেই কার্যত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের খানিকটা হলেও ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে যেতে পারে। বিশেষত কোন জেলায় কত বুথে অতি স্পর্শকাতর পাশাপাশি কোন জেলায় কত কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগতে পারে এবং সার্বিকভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী কত সংখ্যক লাগবে তার চরিত্রটা এই দুদিনের বৈঠকে স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি নির্বাচন কমিশনের কোনো আধিকারিক। বস্তুত এর আগেরবার অর্থাৎ গত ডিসেম্বর মাসে যখন রাজ্যে এসেছিলেন ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার তখন সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গেই সশরীরে বৈঠক করেছিলেন সুদীপ জৈন। আর তাই মনে করা হচ্ছে এই দুদিনের সফরে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সার্বিক খুঁটিনাটি নিয়ে যাবেন দিল্লিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Elina Datta
First published: