corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘সেই লোকটার সঙ্গে দেখা করতে চাই, দিল্লিতে যে আমার প্রাণরক্ষা করেছিল...’

‘সেই লোকটার সঙ্গে দেখা করতে চাই, দিল্লিতে যে আমার প্রাণরক্ষা করেছিল...’

দিল্লির হিংসায় আক্রান্ত হয় কলকাতার এই দুই যুবক

  • Share this:

#কলকাতা: শহীদ মিনার ময়দানে তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিরোধীদের তুলোধোনা করছেন। ২ কিলোমিটার দূরের একটি গেস্ট হাউসে বসে তখন কালিম আর ইউসুফ ফেসবুক আর ট্যুইটার দেখছে। যদি দেখা মেলে সেই লোকটার। কালিমের মুখের ডানদিকটা এখনও ফুলে আছে। আর ইউসুফের চোখে এখনও ভয়। তবে ভয় আর যন্ত্রণা দূরে সরিয়ে রেখে দিল্লি গিয়ে নাম না জানা ভগবানকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে চায় কলকাতার দুই বন্ধু। দিল্লি নিয়ে রাজনীতির লড়াই বন্ধ হোক, দিল্লি হোক বন্ধুত্বের এমন স্বপ্ন দেখছে দিল্লির বিপদ থেকে ফিরে আসা দুই বাল্যবন্ধু। ট্রাম্পের কনভয় যখন তাজমহল ঢুকছে, ভাড়ায় নেওয়া গাড়িতে মুসৌরি থেকে নয়ডাকে পাশ কাটিয়ে দিল্লির ক্যানাল রোডে গাড়ি ঢুকছে ইউসুফ-কালিমের এস ইউ ভি।

কাচ তোলা গাড়িতে বাইরের আওয়াজ কানে আসেনি দুজনের। গুগল ম্যাপ দেখতে দেখতে গাড়ি যখন চাঁদবাগের রাস্তায়, তখনই চোখে পড়ে একটি বাড়ি থেকে আগুন জ্বলছে। কেঁপে ওঠে স্টিয়ারিং। গতি একেবারেই কমে গাড়ির। আর তারপরে....."হঠাৎ করে দেখলাম একদল লোক ছুটে আসছে। গাড়ি ব্রেক কষে দাঁড় করাতেই, উত্তেজিত ভিড়টা গাড়ির বনেটের ওপর ধাক্কা মারতে থাকে। গাড়ির কাঁচ নামাতেই একজন কেড়ে নিল গাড়ির চাবি।" এক নিঃশ্বাসে গত সপ্তাহের ঘটনার বিবরণ দিচ্ছিলেন ইউসুফ। জুতোর ব্যবসায়ী ইউসুফ আর কালিম দিল্লির ভয়ংকর ঘটনার সাক্ষী। নিজেরাই দাবি করছেন প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন। কিন্তু কিভাবে? "গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি। সত্যি বলছি জানিনা, দিল্লিতে কোনও গন্ডগোল হয়েছে বলে। কাঁচ নামাতেই গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে ওরা আমার মুখে ঘুষি মারতে লাগল। বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগল আমাদের নাম কি? আমরা কোন.... "এটুকু বলেই থেমে যায় কালিম। তবে দুজনের কথা থেকে জানা যায়, ওই ভীড়ের মাঝে কেউ একজন ছিলেন। যিনি অশান্ত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করেন। মারধর করতে বারণ করেন। মিনিট দুয়েকের মধ্যেই সেই লোকটাই গাড়ির চাবি ফিরে দেয়। তারপর নিজের দায়িত্বে ওই এলাকা থেকে তাদের বের হতে সাহায্য করে। তবে গোটা এপিসোডটাই ছিল মিনিট চারেকের। " এত অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল যে, লোকটার নাম অবধি জানতে পারিনি। তবে লোকটা আমাদের কাছে ভগবান। উনি না থাকলে প্রাণে বেঁচে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারতাম না।"

টিভিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ভাষণ শুনতে শুনতে বলছিল ইউসুফ। তাদের অবশ্য অভিযোগ, যখন তাদের মারধর করা হচ্ছে তখন পুলিশকে লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু সেই পুলিশ কোনো সাহায্য করেনি। দরগা রোডের চামড়া কারখানার মালিক কালিম জানাচ্ছে, ৩৪ বছরে ভগবান দেখিনি, ওই মানুষটাই ছিল আমার কাছে ভগবান। দিল্লি এখন শান্ত। এখন শুধু কেন এমন ভাবে অশান্ত হল দিল্লি তা নিয়ে কাঁটাছেড়া হবে। ইউসুফ আর কালিম চাইছে আবার দিল্লি যেতে। খুঁজে বার করতে সেই লোকটাকে। যে তাদের ভগবান। নাম না জানা লোকের সন্ধানে তাই ভরসা সোশ্যাল মিডিয়া। যদি সেখানে দেখা মেলে ভগবানের। ক্ষত বা যন্ত্রণা যা আছে সব মিটে যাবে। ওই লোকটার জন্য ইউসুফ-কালিম বলছে "দিল সে দিল্লি"

Published by: Akash Misra
First published: March 1, 2020, 8:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर