বৃদ্ধার দেহ টুকরো করে লোপাট করার পরিকল্পনা ছিল বৌমা-নাতনির!

বৃদ্ধার দেহ টুকরো করে লোপাট করার পরিকল্পনা ছিল বৌমা-নাতনির!
Representative Image

পুলিশ জেনেছে, গোটা পরিকল্পনা ছিল বৃদ্ধার বড় বৌমা ও ডিম্পল ও নাতনি গুড়িয়ার।

  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: চোখের সামনে শুধু খুন হতে দেখাই নয়, পরিকল্পনা ছিল আরও বড়। গড়িয়াহাটে বৃদ্ধা উর্মিলা ঝুন্ডকে খুন করে দেহ টুকরো করে দূরে কোথাও ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বৌমা ডিম্পল ও নাতনির গুড়িয়ার। কিন্তু রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে আসায় সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি।।লালবাজার সূত্রে খবর, গড়িয়াহাটের গরচা ফার্স্ট লেনের বাসিন্দা উর্মিলাদেবীকে যে ঘরে খুন করা হয় তার পাশের ঘরে দুটি ট্রলি ব্যাগ খোলা অবস্থায় মিলেছে। আলমারি থেকে সেগুলি নামানো হয়েছে বুধবার রাতে খুনের আগেই। ট্রলি দুটি খুলে রাখা হয়েছিল। লালবাজারের গোয়েন্দারা মনে করছেন, উদ্দেশ্য ছিল দেহ টুকরো টুকরো করে ওই দুই ট্রলিতে ভরে নির্জন কোনও জায়গায় ফেলে দেওয়া। যাতে খুঁজেও না পাওয়া যায়। কিন্তু ওই রাতে বৃদ্ধাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তারপর খুন করতেই অনেক সময় চলে গিয়েছিল। প্রায় ভোর হয়ে গিয়েছিল। আরও দেরি করলে ওই রাতেই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে দেহ লোপাটের পরিকল্পনা সফল হয়নি।

এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, "দেহ লোপাট করার উদ্দেশ্য ছিল সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। ওই উদ্দেশেই শরীর থেকে মাথা আলাদা করাও হয়েছিল। সম্ভবত দেহ তিন টুকরো করার উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সময় কম থাকায় সেটা হয়নি। পেট বা কোমরের অংশ থেকে আরও একটি টুকরো করার পরিকল্পনা ছিল। তাই পেট চিরে দেওয়া হয়েছিল।" যদিও দেহ লোপাট করার উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি বৃদ্ধা খুনে ধৃত তিনজন। তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে সেই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায় লালবাজার।

গড়িয়াহাটের এই খুনের ঘটনা সামনে আসার পর তদন্তকারীদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল। তা হল কেন এতটা নৃশংসতা? উদ্দেশ্য শুধু খুনের হলে গলা কেটেই খুন করতে পারতো, তাহলে কেন মাথা আলাদা করা হলো শরীর থেকে? কেন পেটের অর্ধেকটা কেটে নাড়িভুঁড়ি বের করে দেওয়া হল? তবে মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া ট্রলিব্যাগ গোয়েন্দাদের মনের এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তাই তদন্ত বেশ কিছুটা এগনোর পর তাঁরা মনে করছেন দেহ লোপাটের জন্যই মাথা আলাদা করা হয়েছিল। শরীরের বাকি অংশ কেটেও ওই ট্রলিবাগে ভরে দুটি আলাদা জায়গায় ফেলে দিতে চেয়েছিল তারা। দেহ লোপাট করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার এই তত্ত্ব আরও জোরালো হয়েছে কারণ খুনের পর রক্ত ধোয়ার চেষ্টা ছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও বলা হয়েছে খুনের পর মাথা কেটে আলাদা করা হয়েছে।

পুলিশ জেনেছে, গোটা পরিকল্পনা ছিল বৃদ্ধার বড় বৌমা ও ডিম্পল ও নাতনি গুড়িয়ার। এমনকি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও বড় বৌমা নিজের রান্নাঘর থেকে দিয়েছিল। রান্নাঘরে ব্যবহৃত চাকুর সেটের মধ্যে সব থেকে বড় চাকু ব্যবহার করা হয়েছে খুনে। বৌমা-নাতনি তাদের দুজনের প্রেমিক সৌরভ পুরীকে দিয়ে খুন করিয়ে দেহ টুকরো করে সেই রাতেই অন্যত্র ফেলে দেওয়ার প্ল্যান সফল না হলেও সেই লক্ষ্যে বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিল।তবে তাড়াহুড়োয় বেশ কিছু ক্লু ফেলে যাওয়ায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করতে সফল হয় পুলিশ। ইতিমধ্যেই বৃদ্ধার বৌমা আর নাতনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ট্রানজিট রিমান্ডে পাঞ্জাব থেকে আজকেই কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে খুনী সৌরভকে। এবার তিনজনকে জেরা করে আরও তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে।

First published: December 15, 2019, 10:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर