বড়দিনে কেক কারখানায় অন্য ছবি, কেক তৈরির উপকরণ নিয়ে হাজির ক্রেতারা

বড়দিনে কেক কারখানায় অন্য ছবি, কেক তৈরির উপকরণ নিয়ে হাজির ক্রেতারা

যে সমস্ত ক্রেতারা এই বেকারিতে হাজির হচ্ছেন তারা বেকারি থেকে কেনা নয় , কেক তৈরি করতে ভিড় জমাচ্ছেন এই কারখানায়, তারা নিজেরাই কেক তৈরির উপকরণ নিয়ে এসে নিজের চোখের সামনে তৈরি করাচ্ছেন কেক। তার জন্য আলাদা করে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কারিগরদের।

  • Share this:

Venkateshwar Lahiri

#কলকাতা: কেক কারখানায় অন্য ছবি। শহরের একটি কারখানায় চলছে বড়দিন উপলক্ষে কেক তৈরি। গত সাতদিন ধরে দিনরাত এক করে চলছে বিশাল কর্মকান্ড। বড়দিনের সকালেও ছবিটা একই রকম। তবে যে সমস্ত ক্রেতারা এই বেকারিতে হাজির হচ্ছেন তারা বেকারি থেকে কেনা নয় , কেক তৈরি করতে ভিড় জমাচ্ছেন এই কারখানায়, তারা নিজেরাই কেক তৈরির উপকরণ নিয়ে এসে নিজের চোখের সামনে তৈরি করাচ্ছেন কেক। তার জন্য আলাদা করে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কারিগরদের।

বড়দিন এখন সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর যে উৎসব কেক ছাড়া ভাবাই যায় না। কলকাতার তালতলা এলাকা। সেখানে এখন শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত ব্যস্ততা। বেকারির মালিক শেখ নুরুদ্দিনের এখন নাওয়া-খাওয়ার সময় নেই। গত কয়েকদিন ধরে দিনরাত এক করে হরেক রকমের কেক তৈরি চলছে তার বেকারিতে। বড়দিনের সময় ব্যস্ততা অনেকটাই বেশি থাকে। তাই বাড়তি কারিগরদেরও নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এই বেকারিতে এসে যেটা নজরে পড়ল তা নিঃসন্দেহে বলা যায় এক ব্যতিক্রমী ছবি। একদিকে যখন বেকারিতে চলছে নিজেদের কেক তৈরির ব্যস্ততা। সেখানে অন্যদিকে সারি সারি লাইন দিয়ে মানুষজন দাঁড়িয়ে আছেন কেকের উপকরণ হাতে।

ছবিটা অবাক হওয়ারই মত। কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে সামনে গিয়ে কথা বলতেই বেরিয়ে এল এক অন্য ধরনের বেকারির ছবি। এই বেকারিতে শুধুমাত্র খ্রিস্টানরাই নন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষজন কেক তৈরির উপকরণ নিয়ে হাজির হয়েছেন । বাটার ডিম চিনি এবং অন্যান্য যে সমস্ত উপকরণ কেক তৈরিতে লাগে সেই সমস্ত উপকরণ নিয়ে এসে এই বেকারিতে দিলেই সেই কারখানার যারা কারিগর তারা তাদের চোখের সামনেই তৈরি করে দেন সুস্বাদু কেক। গত ২৫ বছর যাবত এ রকমই একজন ক্রেতা মনোরঞ্জন সাহাকেও দেখা গেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে ।কেক তৈরির সমস্ত উপকরণ নিয়ে হাজির হন কেন এখানে? "অনেক সময় বাইরে থেকে কেক কিনলে তার গুণগতমান কিম্বা স্বাদ মনপসন্দ হয় না , তাই বাজার থেকে সবকিছু কিনে নিয়ে এসে নিজের মনের মতো করে কারিগরদের বলে কেক তৈরি করাই সে কারণেই এখানে আসা"। অপর এক ক্রেতার কথায়, "কারখানায় এসে চোখের সামনে যে কেক বানিয়ে নিয়ে যাই আর বাজারে যে কেক পাওয়া যায় তার মধ্যে অনেক তফাৎ থাকে। চোখের সামনে এখান থেকে কেক বানিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই দিনটার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন "। রসিকতা করে একজন ক্রেতা বললেন, "যেমন চিনি কিম্বা গুড় দেবেন তেমনই তো মিষ্টি হবে "।

20191224_164036

অনেক ক্রেতা বড়দিনের সুস্বাদু কেক কারখানায় আসার পর ঘণ্টা দু’য়েকের মধ্যেই হাতে গরম কেক নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। বেকারির মালিক শেখ নুরুদ্দিন বললেন, বড়দিন আজ সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে তাই এখানে শুধুমাত্র একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষজনইনয় , হিন্দু-মুসলমান শিখ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষজন নিজের সামনে তৈরি করা কেক গ্রহণ করতে কিম্বা আমাদের বেকারিতে আমাদের তৈরি কেক কিনতে প্রতিবছরই এই সময়ে ভিড় জমান। সত্যি , এই বেকারিতে এসে মনে হল বড়দিন আজ সবারই।

First published: December 25, 2019, 10:07 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर