corona virus btn
corona virus btn
Loading

আবার ফাটল! চিন্তায় ঘুম উড়েছে বউবাজারের চৈতন সেন লেনের বাসিন্দাদের

আবার ফাটল! চিন্তায় ঘুম উড়েছে বউবাজারের চৈতন সেন লেনের বাসিন্দাদের
বাড়িতে ফাটল৷ আতঙ্কে মানুষ৷

নতুন ফাটল ঘিরে এরকমই নানা সমস্যা ভাবাচ্ছে বউবাজারের মানুষদের।

  • Share this:

#কলকাতা: মেট্রোর কাজ শুরু হতেই ফের ফাটল। বউবাজারের চৈতন সেন লেনের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরা পড়েছে। খসে পড়ছে ছাদের চাঙর। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এমনকি ফাটল ধরেছে মেঝেতেও। বউবাজারের চৈতন সেন লেনের একাধিক বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেট্রোর কাজ শুরু হতেই এই কাণ্ড হচ্ছে।

চৈতন সেন লেন বউবাজারের অন্যতম পুরানো একটি জায়গা। কলকাতার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, আগে এই জায়গায় ঘোড়ার জল খাওয়ার ব্যবস্থা থাকত। তখন শহরে ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলত। সেই লেনে বেশ কিছু সংষ্কার হওয়া বাড়ি থাকলেও বহু পুরনো বাড়ি আজও রয়েছে এখানে।

তবে মেট্রোর কাজ শুরু হওয়ার পরেই সেই বাড়ির বাসিন্দাদের মনে ভয় তৈরি হয়েছে। কারণ নতুন করে ফাটল ধরা দিয়েছে পুরনো বাড়িগুলিতে। গত আগষ্ট মাসেও এই বাড়িগুলিতে ফাটল ধরা পড়েছিল। তখন অবশ্য এই সব বাসিন্দাদের পাঠানো হয়েছিল হোটেলে। ফাটলের মেরামতি করা হয়েছিল। আবার সেই ফাটল ফিরে এসেছে। এছাড়া, নতুন কিছু ফাটলও দেখা গিয়েছে। যদিও বাসিন্দাদের দাবি, মেট্রো তাদের জানিয়েছিল এই সব বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দুর দিয়ে টানেল বোরিং মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরেও কেন ফাটল? তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।

চৈতন সেন লেনেই থাকেন মিতা বসাক। ২০১২ সালে তিনি হারিয়েছেন তার ছেলে ঋজুকে। সেই কারণেই গোটা বাড়ি জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছেন ছেলের নানা স্মৃতি। ছেলের ঘরে ডাঁই হয়ে পড়ে আছে বই। আছে পোস্টার, সিডি। ছেলের কম্পিউটার চাঙর ভেঙে নষ্ট হয়েছে। ছাদের ফাটল চওড়া হতেই জলে ভিজেছে বই। ফাটল দেখাতে দেখাতে তিনি বললেন, "ওঁরা ইঞ্জিনিয়ার মানুষ। কংক্রিটের রাজত্বে বসবাস করেন। সন্তান হারানো মায়ের স্মৃতি নষ্টের যন্ত্রণা ওঁরা বুঝবেন না। কিন্তু মেট্রো হবে বলে আমি আমার ছেলের সব হারিয়ে ফেলব এটা তো হতে পারে না।" এই ছেলে হারা মায়ের এই কথা কে শুনবে? অগ্যতা ফাটল ধরা বাড়িতে ছেলের স্মৃতি নিয়ে বসে আছেন বসাক দম্পতি। একই অভিযোগ বসাক বাড়ির পাশের দত্ত বাড়িরও। এই বাড়ি একসময় পরিচিতি ছিল ডাক্তার বাড়ি হিসাবে। এই বাড়ির দেওয়াল, মেঝে বা ছাদেও ধরেছে ফাটল। বাড়ির অন্যতম অংশীদার শোভন দত্ত বলছেন, ‘মেঝেও অসমান হয়ে পড়েছে। দেওয়ালের চাঙর খসে খসে পড়ছে। মেঝেতে ফাটল ধরা পড়েছে।’ যদিও শোভনবাবুদের বাড়ি বেশ পুরানো। বাড়ি যে যথাযথ ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না, তাও স্বীকার করছেন বাড়ির অংশীদার। তবে বেশ জোরের সাথে তিনি বলছেন, এই ফাটল টানেল বোরিং মেশিন চলার পরেই ফের শুরু হয়েছে।" এই বাড়ি নিয়ে তাই বেশ উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। ১১ নম্বর চৈতন সেন লেনের বাড়ি হচ্ছে এই এলাকায় সবচেয়ে ভালো বাড়ি। কারণ এই বাড়ি সেপ্টেম্বর মাসেই সংষ্কার করা হয়েছে। সেই বাড়িতে আবার নতুন করে ফাটল আসায় চিন্তিত গৃহস্থ পরিবার। বাড়ির মালিক সুকল্যাণ দত্ত জানাচ্ছেন, ‘আমার তো সংষ্কার করা বাড়ি, বাড়ি দেখভাল করি আমরা। সেই বাড়িতে ফাটল আসলে তো চিন্তা হবেই।’ সুকল্যাণ বাবুর ছেলে আদিত্য এবার আইসিএসই পরীক্ষা দিচ্ছে। আদিত্য বলছে, "হেয়ার লাইন ক্র্যাক তা তো বুঝতে পরেছি। কিন্তু ছাদ চুঁইয়েও তো জল পড়ছে। কী করব জানি না৷ সামনে পরীক্ষা৷ বাডির জন্য আলাদা করে টেনশন হচ্ছে৷’ নতুন ফাটল ঘিরে এরকমই নানা সমস্যা ভাবাচ্ছে বউবাজারের মানুষদের। চৈতন সেন লেনের এই ফাটল এখনও নজরে আসেনি মেট্রো আধিকারিকদের। তবে গোটা ঘটনায় টিম পাঠাচ্ছে কে এম আর সি এল। ফাটল বিপদজনক তারা মনে না করলেও, সমস্যার সমাধান দ্রুত করতে চাইছেন তাঁরা।

ABIR GHOSAL

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: February 27, 2020, 8:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर