Home /News /kolkata /
ভোট-রাজনীতি পরে, করোনা যুদ্ধে তৃণমূলের পাশে বামেরা একযোগে লড়াই

ভোট-রাজনীতি পরে, করোনা যুদ্ধে তৃণমূলের পাশে বামেরা একযোগে লড়াই

করোনা আতঙ্ক হওয়ার আগেই এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুরসভা ভোটের দামামা বেজেছিল। কলকাতা, শিলিগুড়ি, হাওড়া-সহ বিভিন্ন পুরসভা ভোটের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিল শাসক - বিরোধী দু পক্ষই।

  • Share this:

বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্ক আরও দানা বাঁধছে। নতুন শত্রু আর পুরোনো শত্রু, সব এখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। করোনার ভয়াল গ্রাসে দুনিয়ার তাবড় তাবড় রাষ্ট্রপ্রধান, দুঁদে রাজনৈতিক নেতা সবাই অসহায়। সারা বিশ্বে এই নতুন প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ।

করোনা প্রাণ কেঁড়েছে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। এখানেও করোনা আক্রান্ত ১২,০০০ এর ওপর মানুষ৷ মৃত্যু হয়েছে ৪০০-র বেশি মানুষের। পশ্চিমবঙ্গের চিত্রও খুব আলাদা নয়। রাজ্যে  সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী ১৩২ জন। করোনা মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। যদিও বেসরকারি হিসাবে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে আর মৃত্যু কমপক্ষে ৩০ জনের হয়েছে।

করোনা আতঙ্ক হওয়ার আগেই এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুরসভা ভোটের দামামা বেজেছিল। কলকাতা, শিলিগুড়ি, হাওড়া-সহ বিভিন্ন পুরসভা ভোটের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছিল শাসক - বিরোধী দু পক্ষই। দেওয়াল ও দখল করেছিল প্রচারের জন্য। তবে হঠাৎই সুপার সাইক্লোনের মতো সুনামির মতো করোনা এসে সব লণ্ডভণ্ড করে দিল। আর এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময় বিরোধী দল সিপিআইএমও ৩৪ বছরের বাম শাসনের অতীত ভুলে সব রাজনৈতিক তরজা দূরে সরিয়ে রীতিমত দেওয়াল লিখন করে মানুষকে করোনা যুদ্ধে সামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

'বাকি সব পরে' এখন মানুষকে বাঁচানোর লড়াই। রাজ্য সরকারের হেল্প লাইনের নম্বর দিয়ে রীতিমত লাল কালির দেওয়াল লিখন। বরানগর,ডানলপ, বেলঘরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এই দেওয়াল লিখন যথারীতি মানুষের নজর কেড়েছে। বহু মানুষই বলছে,এইরকম ভাবে সারা বছরই যদি শাসক বিরোধী দুপক্ষ মানুষের কল্যাণে একজোট হয়ে কাজ করতো,তাহলে কি ভালই না হতো!

যদিও সিপিআইএম এর স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটা সময়ের দাবি৷ এখন আমাদের সব ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষ বড়ো অসহায়,এই সময় সব দ্বন্দ্ব,মান,অভিমান ভুলে যত বেশি সম্ভব মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা। যদিও অনেকেই আবার খোঁচা দিতেও ছাড়ছে না। যে ভাবে করোনা আক্রান্ত বা মৃত্যুর তথ্য গোপন করছে রাজ্য সরকার, তা মানুষ বরদাস্ত করবে না। বলছে সিপিএমের অনেক স্থানীয় নেতা। অন্যদিকে  এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব এসব শুনে মুচকি হাসছে।

তারা বলছে, সিপিআইএম কর্মীরা সমাজ বিচ্ছিন্ন, আর তৃণমূল সারা বছরই মানুষের পাশে থাকে,ফলে মানুষ জানে কারা এই করোনা এর সময় পাশে থাকবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে এই করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন,তাতে মানুষ অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছে।

Published by:Arindam Gupta
First published:

Tags: Coronavirus, Cpim

পরবর্তী খবর