corona virus btn
corona virus btn
Loading

রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র

রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেল সিপিএমেও। বৃহস্পতিবার অনলাইনে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র দলকে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দেন বলে দলীয় সূত্রে খবর

  • Share this:

#কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেল সিপিএমেও। বৃহস্পতিবার অনলাইনে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র দলকে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।

করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে কমিউনিটি কিচেন, বিনামূল্যের বাজার, ত্রাণ বিলি, বিভিন্ন জায়গায় কমিটি গড়ে মানুষের পাশে থাকা, পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকার মতো বেশকিছু পদক্ষেপ করেছে দলের গণসংঠনগুলি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ধেয়ে আসে ঘূর্ণিঝড় আমফান। সেখানেও একই ভাবে ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে দলীয় কর্মীদের। দীর্ঘদিন পর দৃশ্যত দলীয় কর্মীদের 'অ্যাকটিভ' থাকতে দেখা গিয়েছে বলে মনে করে নেতৃত্বও। এবার সেই ইতিবাচক দিকটিকেই সংগঠন শক্তিশালী করার কাজে লাগাতে চায় দল। বিশেষ  করে এই কাজে যেহেতু তরুণদের একটা বড় অংশই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তাঁদেরকেও সামনের সারিতে রাখার চিন্তাভাবনা করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। যদিও তরুণদের পাশাপাশি কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়,  তড়িৎ তোপদারের মতো নেতৃত্বও সামনের সারিতে থাকায় সেই কাজ আরও গতি পেয়েছে বলে মত সিপিএম নেতৃত্বের।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্য কমিটির বৈঠক চলে। বৈঠক হয় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। 'সংকট জনক' পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রতিটি জেলা কী ভূমিকা গ্রহণ করেছে তার রিপোর্টও তুলে ধরা হয়। রাজ্য কমিটির সদস্যরা জেলাগুলির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, 'পার্টি, বামপন্থী গণসংগঠনগুলি এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। সব জেলায় খাদ্য বিলি, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার সরঞ্জাম বিলি, অনেক জায়গায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হয়েছে। আটকে পড়া মানুষকে নানাভাবে সাহায্য করা হয়েছে। হাসপাতালে অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাওয়া, রক্তদান, বয়স্ক মানুষকে সাহায্য করার কাজ করেছেন বামপন্থী কর্মীরা। সাধারণ মানুষ সাহায্য দিতে এগিয়ে এসেছেন। কোথাও জনগণের রান্নাঘর, কোথাও কমিউনিটি কিচেন, কোথাও বিনামূল্যে সবজি বিলি করা হয়েছে। দেখা গেছে, অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বামপন্থীদের এই কাজে সাহায্য করেছেন। কোথাও কোথাও তৃণমূলের সমর্থকরাও বামপন্থীদেরই হাতে সাহায্য তুলে দিয়েছেন। অসংখ্য তরুণ স্বেচ্ছায় এই কাজ করেছেন দিনরাত। ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকাতেও বামপন্থী কর্মীরা ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছেন। পুনর্গঠনের কাজে মানুষকে সাহায্য করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।"

রাজ্য সম্পাদক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ' এই সময়ে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিজেদের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বিজেপি কখনওই তৃণমূলের বিকল্প হতে পারে না। বামপন্থীরাই যে তৃণমূলের একমাত্র বিকল্প তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। লড়াইয়ের ময়দানে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে।'

বিভিন্ন বিষয়ে আন্দোলনে 'ভার্চুয়াল' মাধ্যমের পাশাপাশি 'অ্যাকচুয়াল' ভাবেও আন্দোলনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের 'অপরিকল্পিত'  লকডাউন ঘোষণা করায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যায় পড়ার প্রতিবাদে। একই সঙ্গে আয়করের বাইরে থাকা মানুষের অ্যাকাউন্টে মাসিক ৭৫০০ টাকা দেওয়ার দাবি-সহ রাজ্যের বিরুদ্ধেও পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার অভিযোগ নিয়ে এর আগেও পথে নেমেছিল সিপিএম।  আন্দোলনের নতুন ধাপে আাগামী ১৬ জুন রাজ্যব্যাপী ১৬ দলের ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি করার ডাক দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। কলকাতায় রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। যদিও এই বৈঠকে ভিন্ন সুরে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, করোনা ও আমফান পরিস্থিতিতে শাসক দলের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ মানুষ। সেই সুর চড়াতে রাজ্য নেতৃত্বের আরও উদ্যোগী হওয়া উচিত ছিল বলে নেতৃত্বকে জানিয়েছেন তিনি।

UJJAL RAY

Published by: Rukmini Mazumder
First published: June 12, 2020, 12:05 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर