আব্বাস সিদ্দিকির ফ্রন্টকে ২৭ আসন দিতে প্রস্তুত আলিমুদ্দিন, জট অব্যাহত অধীর ব্রিগেডে

আব্বাস সিদ্দিকির ফ্রন্টকে ২৭ আসন দিতে প্রস্তুত আলিমুদ্দিন, জট অব্যাহত অধীর ব্রিগেডে
আব্বাস সিদ্দিকির ফ্রন্টকে ২৭ আসন দিতে প্রস্তুত আলিমুদ্দিন। ফাইল ছবি।

আইএসএফ অর্থাৎ আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-কে ২৭ আসন ছাড়তে পারে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তার মধ্যে ২০টি আসনই দেবে সিপিআইএম। শরিকদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে ৭টি আসন।

  • Share this:

#কলকাতা: আইএসএফ অর্থাৎ আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-কে ২৭ আসন ছাড়তে পারে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। তার মধ্যে ২০টি আসনই দেবে সিপিআইএম। শরিকদের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে ৭টি আসন। সূত্রের খবর, ২০ আসনের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লক (FB)-র থেকে ৪, আরএসপি (RSP)-র থেকে ২ এবং সিপিআই (CPI)-র কাছে একটি আসন চাওয়া হয়েছে শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠকে। বুধবার সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিল আইএসএফ। সেই বৈঠকে বামেদের কাছ থেকে ৩০ ও কংগ্রেসের থেকে ১৫ আসন দাবি করে সিদ্দিকির সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। সেদিন বামেদের তরফে সেই বিষয়ে আশ্বাস পেলেও কংগ্রেসের তরফে বেশকিছু শর্ত চাপানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর।

বৈঠক যখন মাঝপথে, সেই সময় সেখান থেকে বেরিয়ে যান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে জানিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গের কোনও আসন নিয়ে তাঁরা আলোচনায় আগ্রহী নন। একইসঙ্গে কংগ্রেসের জেতা কোনও আসন ছাড়া যাবে না। বাকি আসন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর পরে সিপিএমের সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান আইএসএফের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। যদিও শুক্রবার রাত পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা চললেও ইতিবাচক কোনও ফল পাওয়া যায়নি। বরং আইএসএফ নতুন করে বেশ কয়েকটি আসন দাবি করায় নতুন করে জটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এ দিকে আসন ছাড়া নিয়ে শরিকদের অন্দরে নতুন করে গোলমাল সৃষ্টি হয়েছে। বামফ্রন্টের বৈঠকে শরিকরা অভিযোগ করে বলেছেন, তাদের তরফ থেকে যে আসনগুলো নেওয়া হচ্ছে সেই আসনগুলি কাকে দেওয়া হচ্ছে, তা তারা জানতে পারছেন না। তাই বড় শরিক সিপিএমের কাছে আসন গুলি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার দাবি জানান শরিকরা। অন্যদিকে আরএসপি রাজ্য কমিটির বৈঠকে আসন ছাড়া নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে দলের অভ্যন্তরে। আরএসপি সূত্রে খবর, রাজ্য কমিটির একাংশ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন জোটের জন্য আসন দিতে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে দলের। তাই দলের সংগঠন বাঁচাতে আসন না ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


সূত্রের খবর, দলের হাতে থাকা কালচিনি এবং বহরমপুর আসন দুটি আইএসএফের জন্য চেয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। বৃহস্পতিবার দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই বিষয়টি তোলা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। রাজ্য কমিটির বৈঠকেও তা পাশ করেনি। ফলে ঝুলে রয়েছে এই দুটি আসনের ভাগ্য।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি বামেদের ব্রিগেড সমাবেশ রয়েছে। সেই সমাবেশে এবার অংশগ্রহণ করবে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য শরিকরা। তাই ব্রিগেডের আগেই আসন বন্টনের কাজ সম্পন্ন করতে চায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা ঝুলে রয়েছে। একদিকে শরিকদের অসন্তোষ অন্যদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে দড়ি টানাটানিতে আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

UJJAL ROY

Published by:Shubhagata Dey
First published: