'ওদের আমরা ছাড়বক নাই', দেবলীনাকে প্রার্থী করেই রাণীবাঁধের স্বপ্ন বামেদের

'ওদের আমরা ছাড়বক নাই', দেবলীনাকে প্রার্থী করেই রাণীবাঁধের স্বপ্ন বামেদের

দেবলীনাকেই বাঁকুড়ার রাণীবাঁধের প্রার্থী করল বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট।

দেবলীনাকেই বাঁকুড়ার রাণীবাঁধের প্রার্থী করল বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট।

  • Share this:

    #কলকাতা: ব্রিগেডের ভরা সভায় তিনি বলেছিলেন, 'পদ্মফুল জলে ভালো। আমাদের এলাকায়, পাড়ায় পদ্মফুল ফুটতে দেওয়া যাবে না।' আক্রমণের নিশানায় শুধু বিজেপি নয়, ছিল তৃণমূলও। বলেছিলেন, ''ভোট আসছে বলে মানুষের দুয়ারে তৃণমূল। ভোট চলে গেলে সব ভাতা কাট হয়ে যাবে।' ব্রিগেডের মাঠে দাঁড়িয়ে সিপিএম নেত্রী দেবলীনা হেমব্রমের সেই উদাত্ত ভাষণে ভেসে গিয়েছিল লাখ মাথা। এদিন সেই দেবলীনাকেই বাঁকুড়ার রাণীবাঁধের প্রার্থী করল বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট।

    বামেদের আদিবাসী মুখ দেবলীনা। তাঁর পান্তা ভাত খেয়ে দিন কাটানোর কথা সর্বজনবিদিত, যাতায়াত করেন লোকাল ট্রেনে চেপে। যদিও 'কমিউনিস্ট' সুলভ দিন কাটিয়েও হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাঁকেও। ২০১৯-র লোকসভা ভোটে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী ছিলেন দেবলীনা হেমব্রম। কিন্তু এবার আলাদা লড়াই। দেবলীনার কথায়, 'ওদের আমরা ছাড়বক নাই।' রাণীবাঁধে দেবলীনা পা রাখতে চলেছেন সেই 'দেখে নেওয়ার' স্বপ্ন নিয়েই। দেবলীনা বলেছেন 'বাংলায় এবার ঝড় উঠেছে। সেই ঝড়কে আগলে রাখতে হবে। বাংলায় গণতন্ত্রের ফেরাতে জোট হয়েছে, মানুষের জন্য জোট হয়েছে। সেই জোটকে জেতাতেই হবে।'

    বাম শিবিরে দেবলীনা কখনই 'হেভিওয়েট' নাম নন, কিন্তু বামেদের তরুণ প্রজন্মের কাছে সেই দেবলীনাই যেন সাক্ষাৎ আন্দোলনের প্রতিভূ। তাঁর মেঠো ভাষা, ছাপোষা জীবনযাপন বরাবরই আলাদা গুরুত্ব আদায় করে নিয়েছে 'কমরেড'দের মনে। এবারের ব্রিগেডেও আব্বাস সিদ্দিকি সহ জাতীয় স্তরের নেতাদের উপর লাইমলাইট থাকলেও বাম কর্মী সমর্থকদের একটা বড় অংশই খুঁজছিলেন দেবলীনাকেই। তাঁকে শুরুতে বক্তার তালিকায় রাখা না হলেও মহিলা সমিতির একাংশের জেদের কারণেই বক্তা তালিকায় জায়গা পান দেবলীনা। এরপর তাঁর সেই বক্তব্য়ই বাকিদের কার্যত ছাপিয়ে যায়।

    ব্রিগেডের মাঠে দেবলীনা বলে গিয়েছেন, 'সমাজে দু'টি ভাইরাস বাসা বেঁধেছে। এর জন্য আমাদের সকলকে একজোট হয়ে লড়তে হবে। সেটাই হবে ওই দুই ভাইরাসের ভ্যাকসিন।' আপাতত রাণীবাঁধের 'ভাইরাস' দূর করার দায়িত্বই দেবলীনাকে দিল বামেরা।

    Published by:Suman Biswas
    First published:

    লেটেস্ট খবর