পাইলট কার, কড়া নিরাপত্তা! ৫ এমএল-এর ছোট্ট শিশিটাই যেন শহরের ভিআইপি

কলকাতায় আসা কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন৷ Photo-Avijit Chanda

  • Share this:

#কলকাতা: সবুজ রংয়ের কাগজের মোড়ক৷ তার উপরে সাদা হরফে ইংরেজিতে লেখা করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিন- কোভিশিল্ড৷ আর এই ছোট্ট কাঁচের শিশিকে ঘিরেই মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারি কর্তাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠল৷ লন্ডন ফেরত এক যুবকের শরীরেই প্রথম বার এ রাজ্যে করোনা সংক্রমণের খোঁজ মিলেছিল৷ কলকাতা বিমানবন্দর হয়েই কলকাতায় ঢুকেছিলেন তিনি৷ সেই কলকাতা বিমানবন্দর হয়েই মঙ্গলবার প্রথমবার কলকাতায় এল করোনার ভ্যাকসিন৷ বুধবারের মধ্যেই যা গোটা রাজ্যে পৌঁছে যাওয়ার কথা৷

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরের বাইরের ছবিটা দেখে মনে হচ্ছিল কোনও ভিআইপি-র আগমণ ঘটছে৷ তৈরি পাইলট কার৷ মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশকর্মী৷ বেলা পৌনে দুটো নাগাদ স্পাইসজেটের বিশেষ বিমান দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর দ্রুত নামিয়ে আনা হয় ভায়াল ভরা ৮৩টি বাক্স৷ এ দিন সবমিলিয়ে ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ভ্যাকসিনের ডোজ কলকাতায় এসে পৌঁছেছে৷ এক একটি ভায়াল বা শিশিতে রয়েছে ৫ এমএল করে তরল৷ এক একজনকে ০.৫ এমএল করে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে৷ অর্থাৎ প্রতিটি ভায়াল থেকে দশ জনের শরীরে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে৷

যানজটে যাতে ভ্যাকসিন বহনকারী ইনস্যুলেটেড ভ্যানগুলি আটকে না থাকে, তার জন্য পাইলট কারের ব্যবস্থা ছিল৷ বিমানবন্দর থেকে আধ ঘণ্টার মধ্যেই তা পৌঁছে যায় বাগবাজারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোরে৷

আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে রাজ্যের ৩৫৩টি কেন্দ্রে প্রাথমিক ভাবে টিকাকরণের কাজ শুরু হবে৷ সবার আগে ভ্যাকসিন পাবেন চিকিৎসক এবং নার্সরা৷ প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ১০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে৷ কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলিতে আজ রাতের মধ্যেই ভ্যাকসিন পৌঁছে যাওয়ার কথা৷ আর রাজ্যের বাকি অংশে তা বুধবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে৷

বাগবাজারের সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোরেও কড়া নিরাপত্তা ভ্যাকসিনগুলি রাখা হয়েছে৷ যদিও যে ভ্যাকসিনের ভায়ালগুলি কলকাতায় এসে পৌঁছেছে সেগুলি খোলা বাজারে বিক্রির জন্য নয়৷ ভ্যাকসিন জেলায় পাঠানোর সময়ও কড়া নজরদারি চলবে৷ যে ইনস্যুলেটেড ভ্যানগুলি করে ভ্যাকসিন পাঠানো হবে, জিপিএস-এর মাধ্যমে সেগুলির উপরে লাগাতার নজরদারি চলবে৷

Avijit Chanda
Published by:Debamoy Ghosh
First published: