লাদাখ ঘোরার জমানো টাকায় করোনা রোগীর বাড়িতে ফ্রি খাবার, জুটিকে সেলাম বাংলার

করোনা রোগীদের জন্য খাবার প্রস্তুত করছেন ঐন্দ্রিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সঞ্চয় ভেঙেই মানুষের সেবায় নেমে পড়েছেন বারাসাতের দম্পতি। মুখে বলছেন, এই কাজে তৃপ্তি লাদাঘ অ্যাডভেঞ্চারের থেকেও অনেক বেশি।

  • Share this:

#বারাসাত: সব ঠিক থাকলে এখন হয়তো তাঁরা থাকতেন লেকের লাদাঘের বরফঘেরা লেকের ধারে। কিন্তু সব যে ঠিক নেই, চারপাশে করোনার ত্রাস। অতঃপর ঘোরার জন্য সঞ্চয় ভেঙেই মানুষের সেবায় নেমে পড়েছেন বারাসাতের দম্পতি। মুখে বলছেন, এই কাজে তৃপ্তি লাদাঘ অ্যাডভেঞ্চারের থেকেও অনেক বেশি।

বারাসতের দম্পতি সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়  ও ঐন্দ্রিলা ঐন্দ্রিলা বন্দ্যোপাধ্যায়,গত লকডাউনের আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিল স্বামী-স্ত্রী লে লাদখ বেড়াতে যাবেন। পরিকল্পনা ছিল অ্যাডভেঞ্চারে  ছোট বাচ্চাদের তাঁরা নেবন না।কারণ  ২০২১ সালের  গরমে মোটর সাইকেলে করে তাঁরা লে, লাদাখে ঘুরবেন।  ট্যুরের জন্য দু লক্ষ টাকার  বাজেট করে তিলে তিলে টাকাটা জমিয়েও ফেলেন তাঁরা। কিন্তুু করোনার দ্বিতীয় ঠেউ তাদের বেড়ানো সব ইচ্ছায় বাধ সাধে। প্রতিদিন স্বজনবন্ধুর মৃত্যুর খবর পেতে পেতে ক্লান্ত এই দম্পতি অচিরেই পরিকল্পনা বাতিল করে। ওঁরা দেখছিলেন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে স্যোশাল মিডিয়া ছয়লাপ, আতঙ্ক,অসহয়তা,আর পাশে দাঁড়াবার প্রতিশ্রুতিতে। নিজেরাও সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি। শুরু করে দেন সহনাগরিককে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ।

গত লকডাউনেও দুই সন্তানের ইচ্ছেয় যতটা সামান্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবার চেস্টা করে ছিলেন তাঁরা। বারাসত পুরসভার ২৪ নং ওয়ার্ডের ঠাকুরদাস সরনির বাসিন্দা  ঐন্দ্রিলা ব্যনার্জী  নিজে হোম মেড কেকের ব্যবসা করেন। এবার স্বামীকে বলেন,  যদি করোনা আক্রান্ত পরিবারকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা যায়। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সঙ্গে সঙ্গে স্যোশাল মিডিয়াতে করোনা আক্রান্ত পরিবারকে খাবার দিয়ে সেবা করার পোস্ট দেন তাঁরা।

পরের দিন বেলা ১১ টায় চারজন সহনাগরিকের থেকে খাবারের অনুরোধ আসে।গত দিন দশকে সেই চাহিদা চল্লিশে পৌছেছে। এই দম্পতির দাবী তাঁরা কোন অর্থ না নিয়েই করোনা আক্রান্ত পরিবারের সেবা করছেন।স্বামী সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় সকালে বাজার করছেন। আর স্ত্রী দুপরের মধ্যে রান্না করে খাবার প্যাকেট বন্দি করেছেন আত্মীয় প্রতিবেশীদের নিয়ে। তারপর বাইক নিয়ে   লে লাদাখ নয় বারাসত শহরের অলিগলি পেড়িয়ে আর্তের বাড়িতে খাবার পৌছে দেওয়াই এখন তাঁদের মিশন। সব শেষে আবার রাতের খাবার তৈরি ও পৌছে দেওয়া।

সকালে খাবারের জন্য ব্রাউন ব্রেড, বাটার ও দুই রকম ফল তাঁরা রাতেই পৌছে দিচ্ছেন করোনা আক্রান্তের বাড়িতে।ঐন্দ্রিলা জানালেন, তাঁদের খাবারের চাহিদা বেড়ে যাওয়া সহযোগী একজনকে নিয়েছেন । তার আগে গোট ১৫ জনের রান্না তিনি নিজে হাতেই করতেন সীমিত ক্ষমতা তাই  শহরের পাঁচ কিমির মধ্যেই শুধু তাঁরা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়,  দুই সন্তানের আগ্রহের জন্যই তারা এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। দম্পতির দাবি প্যাঙগং লেকের সৌন্দর্য দেখার থেকেও বেশী তৃপ্ত তাঁরা এই আর্ত মানুষের সেবায়।

Published by:Arka Deb
First published: