corona virus btn
corona virus btn
Loading

২ বছরের শিশুর মৃত্যুর পরও দেহ নিয়ে দাম্পত্য কলহ বাবা-মায়ের !

২ বছরের শিশুর মৃত্যুর পরও দেহ নিয়ে দাম্পত্য কলহ বাবা-মায়ের !
শিশু কন্যার সঙ্গে চিকিৎসক দম্পতি

শিশুর মৃত্যুর পরও দেহ নিয়ে দাম্পত্য কলহ বাবা-মায়ের !

  • Share this:

#কলকাতা: মৃত্যুর পরও চলছে দাম্পত্য কলহ। মৃত শিশুকে নিয়ে লড়াই করছেন চিকিৎসক দম্পতি। অমানবিক এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতাতেই ৷

দু বছরের লড়াই চিরতরে শেষ।তার দখল নিয়ে মা-বাবার ঝগড়া, আইন-আদালত-পুলিশের টানাটানি এসবের এখন কোনও দাম-ই নেই তার কাছে। তাতেও থামল না দাম্পত্য কলহ। মেয়ের দেহ নিয়ে এখন চলছে দড়ি টানাটানি। একে অপরকে অপরাধী প্রমাণের চেষ্টায় মুখ লুকিয়েছে সন্তানশোক।

বাচ্চাটির মৃত্যুর পর পাটুলি থানায় স্ত্রী দেবযানী গোস্বামীর বিরুদ্ধে শিশুটিকে খুনের অভিযোগ করেছেন চিকিৎসক রামচন্দ্র ভদ্র ৷ এরপর পুলিশি হস্তক্ষেপে সৎকার বন্ধ করে মায়ের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় শিশুর দেহ ৷ MR বাঙ্গুর হাসপাতালে এদিন দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে ।

চিকিৎসক দেবযানীর সঙ্গে এনআরএস হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে কর্মরত রামচন্দ্র ভদ্রের বিয়ে হয় ২০১৩ সালে । বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি ছিল নিত্যসঙ্গী। এর মাঝেই এক কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শিশুর অধিকার নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। দেবযানীর কাছেই শিশুকে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

২০১৬ সালে হঠাৎই গলায় খাবার আটকে কোমায় চলে যায় শিশুটি ৷ বহু প্রচেষ্টার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি ৷ পরে বাড়িতেই ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাকে ৷ সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে বাবা-মায়ের বিবাদ চরমে ওঠে। চিকিৎসায় গাফিলতির মামলায় একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে যান বাবা ও মা। আইনি যুদ্ধের মাঝেই মারা যায় দু বছরের শিশু। বৃহস্পতিবার কলকাতার এক নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় শিশুর। কিন্তু তাতেও লড়াই থামার কোনও লক্ষ্মণ নেই।

কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শিশুর মৃতদেহ মেমারিতে নিজের বাপের বাড়ি নিয়ে আসেন মা দেবযানী গোস্বামী। এরপরই পাটুলি থানায় দেবযানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী রামচন্দ্র ভদ্র। মেমারি থেকে শিশুর দেহ নিয়ে আসে পাটুলি থানার পুলিশ। শিশুর শেষকৃত্য করা নিয়েও বাবা-মার মধ্যে এমন অমানবিক টানাপোড়েন দেখে স্তম্ভিত সকলে ।

যাকে নিয়ে লড়াই, সে-ই আজ নেই। চিকিৎসক দম্পতি এখন মেয়ের সৎকারের অধিকার নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। দু বছরের ছোট্ট প্রাণটার ধুকপুকুনি থেমে গেলেও থামল না বাবা-মায়ের লড়াই।

First published: October 6, 2017, 3:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर