কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

পথে ওত পেতে বিপদ, ঔরঙ্গাবাদের ঝুঁকি সঙ্গী করে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

পথে ওত পেতে বিপদ, ঔরঙ্গাবাদের ঝুঁকি সঙ্গী করে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা

জাতীয় সড়ক ধরে ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। প্রচন্ড গতিতে গা ঘেঁষে ছুটে যাচ্ছে ভারী ভারী ট্রাক লরি। ক্লান্তিতে হুশ নেই শ্রমিকদের

  • Share this:

#কলকাতা: কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়ে গেছে আপামর দেশকে। তাতেও হুশ ফিরেছে কী ? দেশের যে কোনও প্রান্তে আবারও ফিরে আসতে পারে শুক্র সকালের ঔরঙ্গাবাদ। দেশের রেলপথ, সড়কপথগুলো ঢু মারলেই বোঝা যায় ছবিটা। ঘর-ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার দিকটা আজও সেই তিমিরেই। সেখানে না আছে সুবন্দোবস্তের ঝলমলানি। না আছে সাবধানতা আর পরিকল্পনার কোনও ছাপ।

কাজ বন্ধ। লকডাউনের জেরে থমকে রোজগার ব্যবস্থা। জমানো অর্থ তলানিতে। ঘরে ফেরা ছাড়া গতি নেই। কেউ হেঁটে। কারও বা ভরসা লড়ঝরে সাইকেল। দক্ষিণের ক্যানিং থেকে এমনই একদল পরিযায়ী শ্রমিক ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ফেরার চেষ্টায় ছিল বিহার ও উত্তরপ্রদেশে। ক্যানিং থেকে শ'খানেক কিলোমিটারের বেশি পথ পেরিয়ে দু'নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে এগোচ্ছিল মেহনতী মুখগুলো। দিনভর খাওয়া নেই। ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়েছে শরীর। বিধ্বস্ত চেহারাগুলোর পা আর সাইকেলের প্যাডেল অবধি পৌঁছচ্ছে না। মাঝে মধ্যেই জাতীয় সড়কের ধারে গাছের ছায়ায় এলিয়ে পড়ছিল ক্লান্ত শরীর। ঘুমের টানে চোখ বুজে আসছে। প্রচন্ড গতিতে গা ঘেঁষে ছুটে যাচ্ছে ভারী ভারী ট্রাক লরি। ক্লান্তিতে হুশ নেই সেই দিকেও।

মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের ঘটনা ওদের জানা। অজানা আশঙ্কায় বুক দুরু-দুরু করছে। তবু রোজগার শূন্য জীবন যন্ত্রণা থেকে বাঁচার তাগিদে ঘরে ফেরার টানে ওই ভাবেই ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে চলা ছাড়া উপায় নেই। মিন্টু শেখ, আবু কালাম, লছমন সিংরা বলছিলেন, "রওনা হওয়ার পর ১৫-১৬ ঘন্টা অতিক্রান্ত। খাওয়া বলতে জুটেছে দু'মুঠো ভাত। প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারলে হয়!"

কথা বলতে বলতেই চিকচিক করে উঠছিল চোখের কোণটা। বেজে উঠল মোবাইল। আধো আধো গলায় ওপাশ থেকে কেউ বলছে,"আব্বু কখন আসবা? আম্মি বকছে। আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে।" ফোনটা শেষ করেই আবার প্যাডেলে পা। বাড়ি ফিরতে হবে যে। বছর তিনেকের মেয়ে অপেক্ষায়। পকেটে টাকা নেই। পথে ওত পেতে আছে বিপদ। তবু ফিরতে তো হবেই। ওরা যে পরিযায়ী।

PARADIP GHOSH

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 8, 2020, 11:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर