corona virus btn
corona virus btn
Loading

'একা থাকলে কেউ এসে মেরে দেবে', এই আতঙ্কে ভুগতেন মহাকরণে আত্মঘাতী কনস্টেবল

'একা থাকলে কেউ এসে মেরে দেবে', এই আতঙ্কে ভুগতেন মহাকরণে আত্মঘাতী কনস্টেবল

পরিবার সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিশ্বজিতের মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল। আতঙ্ক থেকেই মানসিক রোগ গ্রাস করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

  • Share this:

#কলকাতা: অবসাদ নয়, আতঙ্কে ভুগতেন মহাকরণে আত্মঘাতী কনস্টেবল বিশ্বজিৎ কারক (৩৪)। শুক্রবার মহাকরণের ৬ নম্বর গেটের কাছে নিজের সার্ভিস রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন বিশ্বজিৎ। পরিবার সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিশ্বজিতের মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল। আতঙ্ক থেকেই মানসিক রোগ গ্রাস করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

কি সেই আতঙ্ক?

এদিন ঘটনার পর বিশ্বজিতের পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, গত বেশ কয়েকবছর ধরেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন বিশ্বজিৎ। ছ'মাস আগে থেকে তার নতুন করে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। পরিবারের লোকেরা পুলিশকে জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ একা একাই ভাবতেন কেউ তাকে খুন করে দেবে। তা নিয়ে আতঙ্কে ভুগতেন। পরিবারের লোকেদের কয়েকবার বলেছেন, তার মনে হত একা থাকলেই কেউ এসে নাকি তাকে মেরে দিয়ে যাবে। সেই জন্য তিনি কোথাও একা থাকতেন না কিংবা একা কোথাও যেতেন না। 'মনগড়া' এই আতঙ্ক থেকেই অবসাদ গ্রাস করেছিল তাঁকে। সেই জন্যই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ মনে করছে। যদিও মৃত কনস্টেবলের থেকে কোন সুইসাইড-নোট মেলেনি।

এদিন গুলিচালনার ঘটনার পরে বিশ্বজিতের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে বেশ কিছু ওষুধ মিলেছে। যেগুলি মানসিক অবসাদের কারণেই সাধারণত প্রেসক্রাইব করেন চিকিৎসকেরা। তাও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে কাছে থাকা ওই ওষুধগুলি পুলিশকে নিশ্চিত করেছে বিশ্বজিৎ অবসাদের কারণেই নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। তবে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই তদন্তকারীরা

ঘটনার পর মহাকরণে কর্মরত বিশ্বজিতের সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুরের মহাকরণে সেন্ট্রির ডিউটি করতে আসেন বিশ্বজিৎ। ঘটনার দশ মিনিট আগেও মহাকরণে কর্মরত এক ইন্সপেক্টরের সঙ্গে নিজের পরিবার নিয়ে আলোচনা করেন। তখনও দিব্যি হাসিখুশি ছিলেন। তার ১০ মিনিটের মধ্যেই নিজের সার্ভিস রাইফেল থুতনিতে ঠেকিয়ে গুলি করেন বিশ্বজিৎ। গুলিটি খুলি ফুটো করে বেরিয়ে যায়। ১০ মিনিটে এমন কি হল যে নিজেকে শেষ করে দিলেন তিনি? আন্দাজ করতে পারছে না সহকর্মীরা।

এদিকে পুলিশ নিশ্চিত বিশ্বজিৎ আত্মঘাতী হয়েছেন। কারণ, কনস্টেবলদের সার্ভিস রাইফেলের সামনে থাকা লোহার সরু অংশটি যাকে 'বেয়নেট' বলা হয়, সেটি খোলা অবস্থায় বিশ্বজিতের পাশেই রাখা ছিল। সেটি তিনি নিজেই খুলেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। 'বেয়নেট' খোলা ছিল বলেই রাইফেল থুতনিতে ঠেকিয়ে গুলি চালাতে পেরেছেন বিশ্বজিৎ। খোলা না থাকলে কোনওমতেই থুতনিতে ঠেকিয়ে গুলি চালানো সম্ভব নয়। তা থেকেই পুলিশ নিশ্চিত, পরিকল্পনা করেই আত্মঘাতী হয়েছেন ওই কনস্টেবল।

সুজয় পাল

Published by: Dolon Chattopadhyay
First published: July 3, 2020, 10:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर