ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা, পড়ুন প্রিয়রঞ্জনের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন

ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় নেতা, পড়ুন প্রিয়রঞ্জনের বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন
File Photo

ছাত্র রাজনীতি থেকে তাঁর উত্থান। পরে জাতীয় স্তরে ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা। তিনি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

  • Share this:

#কলকাতা: ছাত্র রাজনীতি থেকে তাঁর উত্থান। পরে জাতীয় স্তরে ডাকসাইটে কংগ্রেস নেতা। তিনি প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। রাজ্য রাজনীতির প্রিয়দা। রায়গঞ্জ থেকে কলকাতা হয়ে নয়াদিল্লি। রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় অবাধ বিচরণ। তবে ছাত্রনেতা সত্ত্বাকে বাদ দিয়ে প্রিয়রঞ্জনকে ধরা অসম্ভব। জঙ্গি ছাত্র আন্দোলনে দলীয় সংগঠনের ভোল বদলে দিয়েছিলেন তিনি। যাকে হাতিয়ার করেই রাজ্য রাজনীতিতে চিরদিন প্রাসঙ্গিক থেকে যাবেন প্রিয়রঞ্জন।

প্রিয়রঞ্জন তখন দক্ষিণ কলকাতার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। কলকাতায়  কংগ্রেসের জাতীয় অধিবেশনের জন্য টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পড়ল তাঁর কাঁধে। দলের ছাত্র সংগঠনকে সামনে রেখে বিশাল মিছিলের ডাক দিলেন প্রিয়রঞ্জন। এক মিছিলেই উঠে এল বড় অংশের টাকা। কংগ্রেসের দুই মুখ সুব্রত মুখোপাধ্যায়-প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি জুটি তখন বাংলার রাজনীতি কাঁপাচ্ছে। তারপর প্রায় চার দশক ধরে তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার একের পর এক নমুনা দেখেছে দেশ।

১৯৪৫ সালে অবিভক্ত দিনাজপুরে জন্ম। ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবরে যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পরই কোমায় চলে যান। বিদেশে চিকিৎসা, স্টেম সেল পরিবর্তন করেও লাভ হয়নি। ৮ বছর হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে ছুটি নিলেন প্রিয়রঞ্জন।

দক্ষ জনসংযোগ, নিমেষে মানুষের সঙ্গে আলাপ জমানোর ক্ষমতা, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার মানসিকতা। জনপ্রিয় ও দক্ষ রাজনীতিকের প্রয়োজনীয় সবকটি গুণই ছিল প্রিয়রঞ্জনের। ছাত্র পরিষদের সভাপতি, রাজ্য যুব কংগ্রেস সভাপতি, লোকসভার সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী - রাজনীতিতে বহু দায়িত্ব সামলেছেন প্রিয়রঞ্জন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে সাংসদ হওয়া। তারপর একে একে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের ভার দেওয়া হয় তাঁকে। প্রথম ইউপিএ আমলে তিনি ছিলেন কংগ্রেসের অন্যতম ক্রাইসিস ম্যানেজার। বামেদের সঙ্গে সমন্বয়ের সোনিয়া গান্ধির ভরসা। ইন্দিরা থেকে সনিয়া, অটলবিহারী থেকে করুণানিধি - সব নেতার কাছেই পছন্দের ব্যক্তিত্ব।

অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নাড়ির যোগ তাঁর। প্রায় ২০ বছর ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সবোর্চ্চ পদে থাকাটাও একটা রেকর্ড। ভারতে নেহরু কাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, আই লিগের মতো প্রফেশনাল লিগের শুরুও তারই সভাপতিত্বে। প্রথম ভারতীয় হিসাবে বিশ্বকাপে ম্যাচ কমিশনার হওয়ার বিরল কৃতিত্বও ঝুলিতে।

Loading...

এতকিছুর মধ্যেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর রাজনৈতিক সত্ত্বা। হাওড়ায় লোকসভা নির্বাচনে প্রচারে নেমে বলেছিলেন, কোমরে রাখা চাবি দিয়ে শিল্পশহরের সব কারখানা খুলে দেবেন। প্রতিশ্রুতি ছিল, রায়গঞ্জে তৈরি হবে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে। এখনও সেই স্বপ্ন অপূর্ণ।

ছাত্র-রাজনীতিতে থেকেই তাঁর উত্থান। তাই রাজনীতিতে ছাত্র সংগঠনকে সামনে রেখে চলাটাই ছিল ট্রেডমার্ক। বরাবর বিশ্বাস করতেন, হিংসা পথ এড়িয়ে বাঁধভাঙা, উদ্দাম রাজনীতি একমাত্র ছাত্রদের পক্ষেই সম্ভব। বিশ্বাস করতেন ছাত্রদের মিছিল অনেক পরিবর্তন আনতে পারে। এহেন মানুষটি যে ছেলের নাম মিছিল রাখবেন তাতে আর আশ্চর্য কী?

First published: 07:34:13 PM Nov 20, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर