মায়ের প্রেমিকের সঙ্গেই ছিল মেয়ের সম্পর্ক, মেয়ে মুখে বালিশ চাপা দিতেই গলা কেটেছিল প্রেমিক!

মায়ের প্রেমিকের সঙ্গেই ছিল মেয়ের সম্পর্ক, মেয়ে মুখে বালিশ চাপা দিতেই গলা কেটেছিল প্রেমিক!
  • Share this:

Sujay Pal

#কলকাতা: এ যেন 'এক ফুল দো মালি' নয়, 'দো ফুল এক মালি'। গড়িয়াহাটে বৃদ্ধা ঊর্মিলা ঝুন্ড খুনে ধৃত মূল অভিযুক্ত সৌরভ পুরীর মোবাইল ঘেঁটে তদন্তকারীরা সেটাই বলছেন। কারণ সৌরভের এক ফোনে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট। একটিতে চ্যাট করত বৃদ্ধা ঊর্মিলার বৌমা ডিম্পলের সঙ্গে। অন্যটি থেকে ডিম্পলের মেয়ের কনিকার সঙ্গে। দু'জনের সঙ্গেই সম্পর্কটা গড়িয়েছিল ‘অনেক দূর’।

একই প্রেমিকের সঙ্গে যে প্রেম করছেন সেই বিষয়টি খোলাখুলিই জানত মা ও মেয়ে ৷ তাই মা-মেয়ে দুজনেই ঠিক করে 'পথের কাঁটা' উর্মিলাকে সরিয়ে দিতে পারলেই মালামাল হয়ে যাবে তারা। আবার প্রেমিককে দিয়ে খুন করাতে পারলে সেই দোষ নিজেদের ঘাড়েও আসবে না। সেই পরিকল্পনা মাফিক সব কাজ সাঙ্গ হয় ৷ কিন্তু কথায় অসঙ্গতির জেরে গ্রেফতার হতে হল তিনজনই। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও এখনও অবধি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ জানতে পেরেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনের পরদিন ভোরের ফ্লাইট ধরে পালিয়ে যায় সৌরভ। তাকে বলা হয়েছিল বিমানবন্দর যাওয়ার পথে অস্ত্রটি ফেলে দিয়ে যেতে। সেক্ষেত্রে সৌরভকে নিজেদের হেফাজতে পাওয়ার পর অস্ত্রটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে পঞ্জাব থেকে সৌরভকে গ্রেফতারের পর আজ তাকে স্থানীয় আদালতে তোলা হয়েছে ৷ এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধাকে খুনের এক মাস আগেই পরিকল্পনা করে বৌমা ও নাতনি। সেই মতো খুনের উদ্দেশ্যেই কলকাতায় আনা হয় সৌরভকে। ঊর্মিলাকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য ঘটনার দিনকয়েক আগে বৌমা ডিম্পল খেতে আমন্ত্রণ জানায় ঊর্মিলাকে। তিনি আসলে সৌরভ লুকিয়ে দেখে নেয়।

তারপর ঘটনার রাতে নাতনি খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধার ঘরে আসে সৌরভ। ঘুমের ওষুধে নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ার পর সঙ্গে আনা ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপান হয় ঊর্মিলাকে। শেষমেষ গলা কেটে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়া হয়। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, "চোখের সামনেই ঠাকুমাকে কোপাতে দেখেছে কনিকা। এমনকী নিজেও বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনে সাহায্য করেছে সে। মানসিক পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমনটা করতে পারে তা দেখা দরকার।"

First published: December 14, 2019, 5:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर