রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনেই চলছে টাকা বিক্রির চক্র

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনেই চলছে টাকা বিক্রির চক্র

পুরনো টাকা বা ছেঁড়া টাকা পরিবর্তনের জন্য অনেকেই রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন। কিন্তু টাকা বিক্রির মত ঘটনা এই এলাকা ছাড়া আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।

  • Share this:

Shanku Santra

#কলকাতা: কলকাতা শহরের ফুটপাতে কোথাও খাবারের দোকান, কোথাও সবজির দোকান, আবার কোথাও জামা কাপড়ের দোকান। কিন্তু শহরের ফুটপাতে জুড়ে টাকা পয়সা বিক্রির দোকান সেটা দেখেছেন কি? কথায় আছে না , ‘কী না বিক্রি হয় এই শহর কলকাতায়... !’

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনেই দেখা যায় টাকা হাতে করে পুরনো টাকা ছেঁড়া টাকা পরিবর্তনের জন্য অনেকেই বসে ব্যবসা করেন। কিন্তু টাকা বিক্রির মত ঘটনা এই এলাকা ছাড়া আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। রিজার্ভ ব্যাংকের পাশে বেশ কয়েকজন মহিলা বসে থাকেন ৷ যারা রীতিমতো পসরা সাজিয়ে কাঁচা টাকা নিয়ে বসেন।

এইরকম একজন মহিলা দোকানদারের কাছে গিয়ে একটা ১০ টাকার কয়েনের দাম জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন ৪০ টাকা দাম। এক ,দুই,পাঁচ,টাকার কাচা টাকা ১০ থেকে ২০ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ কি? ওই টাকার উপর ছবি রয়েছে।এইরকম ভাবে কোন কাঁচা টাকার ওপর যদি হনুমানের ছবি বা রাম সীতার ছবি থাকে, তাহলে সেই টাকা অনেক বেশি দরে বিক্রি হয় অর্থাৎ চার থেকে পাঁচ গুণ এমনকি দশ গুণ দামে বিক্রি হয়। এই টাকাগুলো নেয় কারা? এটা কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন-এদের কথায় বহু মানুষ আছেন যারা এখানে এই কাঁচা টাকা কেনাকাটা করতে আসেন ।আবার এজেন্টের মাধ্যমে এগুলি দেশের অন্যত্র বা বিদেশে চলে যায়। এই টাকার ওপরে ছবির চাহিদা এক এক জায়গায় এক এক রকম। এছাড়াও এই চক্রের মাধ্যমে বস্তা বস্তা খুচরো সীমান্ত পেরিয়ে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

2144_IMG20200102124549

এই কাঁচা টাকা বিক্রেতারা কেনেন, বিভিন্ন ভিক্ষুক কিংবা ফড়েদের কাছ থেকে। তাদের কাছ থেকে ১০ টাকার কয়েন ১২ টাকা কিংবা ১৫ টাকা দরে এরা নেয়।

আশঙ্কার জায়গা একটাই। আমাদের সরকারের তৈরি, এই মুদ্রা এদের মাধ্যমে পণ্য হিসাবে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। একটি ১০ টাকার কয়েন প্রস্তুত করতে আমাদের সরকারের অন্ততপক্ষে ১৫০ টাকা খরচ হয়।সেখানে এই টাকাগুলি যদি অন্য দেশের হাতে চলে যায় এবং এই কাঁচা টাকার ধাতু দিয়ে যদি অন্য কিছু বানানো হয়, তাহলে আমাদের দেশের ক্ষতি।

প্রশাসনিকভাবে অনেকেই জানেন। তবুও এই সমস্ত বিক্রেতাদের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার কাঁচা টাকার কয়েন পাচার হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতি। তবুও এই ব্যবসা চলছে। কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মীর কথায়, এদের পেছনে অনেক বড় হাত রয়েছে । যার জন্য বছরের পর বছর সরকারের ক্ষতি হলেও চলে যাচ্ছে এদের ব্যবসা। আসল কথা বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটি বাঁধবে কে?

First published: January 2, 2020, 3:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर