১২-তে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী, মোদি বিরোধী জোটের বৈঠকে দিল্লি যাচ্ছেন না মমতা

১২-তে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী, মোদি বিরোধী জোটের বৈঠকে দিল্লি যাচ্ছেন না মমতা

মোদি বিরোধী জোটের বৈঠকে যাবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ঐ বৈঠকে যোগ দিতে ১২ জানুয়ারি মমতার দিল্লি যাত্রা নির্ধারিত ছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: মোদি বিরোধী জোটের বৈঠকে যাবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ১৩ জানুয়ারি দিল্লিতে ঐ বৈঠকে যোগ দিতে ১২ জানুয়ারি মমতার দিল্লি যাত্রা নির্ধারিত ছিল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, তিনি ঐ বৈঠকে যাবেন না। এদিকে, আগামী ১১ ও ১২ ই জানুয়ারি কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি সরকারি কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে ।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বনধে এ রাজ্যের বাম, কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল ধর্মঘট সফল করতে সিপিএম ও কংগ্রেস গা জোয়ারি ও গুন্ডামি করেছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে সিপিএম। এখানে এক, আর দিল্লিতে আরেক নীতি নিয়ে চলছে সিপিএম, কংগ্রেস। এটা মানব না। আমি মাফ চেয়ে নিচ্ছি।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলে আগামী ১৩ ই জানুয়ারি দিল্লির বৈঠকে যাচ্ছি না। সিএএ র বিরোধীতা আমি একাই করব। বাম, কংগ্রেসকে দরকার নেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষনার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজনৈতিক মহল। বাম, কংগ্রেসের তরফে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী দাবি করেন, বনধ নিয়ে রাজ্যে বাম ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়। ফলে, বনধের জঙ্গিপনায় বিরক্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন এটা বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর এই চিত্রনাট্য আগেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। উনি মানুষকে বোকা বানাবার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, সূত্রের খবর, দিল্লির ঐ বৈঠকে থাকছেন না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন অখিলেশ যাদব, মায়াবতীর মত নেতারা। ফলে,বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয় মমতার কাছেই। শেষলগ্নে, দিল্লি যাত্রা বাতিলের পেছনে এই রাজনৈতিক অঙ্ক কষাও থাকতে পারে। যদিও, বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারছেন না বলে প্রথমে পিএমও কে জানানো হলেও গতকালই পিএমও থেকে রাজ্য বিজেপিকে জানানে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলের কথা। বিজেপির দাবি, মমতার এই সিদ্ধান্ত গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকতেই পারে। বিরোধীদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে সিএএ বিরোধীতায় মমতার আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বৃহস্পতিবার সিএএ র বিরোধীতা করে কেরলের ধাঁচে রাজ্য বিধানসভা থেকে সর্বসম্মত প্রস্তাব নেওয়ার দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে বিধানসভা। বাম ও কংগ্রেসের আনা এই যৌথ প্রস্তাব খারিজের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ''মমতা বন্দোপাধ্যায় সিএএ তথা বিজেপি বিরোধীতা চাইলে তাদের প্রস্তাব আটকাতেন না। বাম আমলে বিজেপি বিরোধীতায় জ্যোতি বসুরা কংগ্রেসকে সুযোগ করে দিয়েছেন। "

যদিও, মমতা ঘনিষ্ট এক শীর্ষ নেতার মতে, সিএএ বা এন আর সি র মত ইস্যুতে রাজনৈতিক জমি ভাগাভাগি করে বাম, কংগ্রেসকে কেন সুবিধা করে দেবে তৃণমূল? রাজ্যে গতকালের বনধ এর পর হয়ত তাই আপাতত একলা চলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মমতা। এর বাইরে অন্য অঙ্ক কেউ ভাবতেই পারেন, কিন্তু সেটাই যে সঠিক এমন দাবি করা যাবে না। "

First published: January 10, 2020, 12:04 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर