আমরা কাজ করি, কেন্দ্র ভাঁওতা দিয়ে নাম কেনে, মোদি সরকারকে মমতার তোপ

একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নষ্ট করে দিচ্ছে।

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 21, 2016 07:46 PM IST
আমরা কাজ করি, কেন্দ্র ভাঁওতা দিয়ে নাম কেনে, মোদি সরকারকে মমতার তোপ
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 21, 2016 07:46 PM IST

#কলকাতা: একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নষ্ট করে দিচ্ছে। কথা না শুনলেই পিছনে সিবিআই, ইডি লেলিয়ে দিচ্ছে ইত্যদি চাঁচাছোলা ভাষায় মোদি সরকারকে আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী। গুজরাতের উনায় দলিতদের ওপর আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলিতদের পাশে থাকা ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দু’বছর আগে ওই ভিক্টোরিয়া হাউসের ওই সমাবেশ স্থল থেকেই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ স্লোগান তুলেছিলেন ‘ভাগ মমতা ভাগ ৷’ দু’বছর সেই সমাবেশ স্থলেই শহীদ স্মরণের মঞ্চ থেকে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী ৷ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভঙ্গের অভিযোগ তুলে নেত্রী বলেন, ‘সব ব্যাপারে কেন্দ্র নাক গলাচ্ছে ৷ এতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নষ্ট করছে আর রোজ ভয় দেখাচ্ছে ৷ রাজ্য সরকার কথা না শুনলে সিবিআই লাগায় কেন্দ্র ৷’

একইসঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে দুঁষলেন মোদি সরকারকে ৷ তৃণমূল নেত্রী বললেন, কেন্দ্রের ভুল অর্থনীতিতে অনেক রাজ্য মরতে বসেছে ৷ রাজ্য না বাঁচলে কেন্দ্র বাঁচে না ৷ ৩৯ টি স্কিম বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার ৷’

তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, কেন্দ্র কোনও কাজের কাজ না করে শুধুই মিথ্যে বিজ্ঞাপন দেয় ৷ মমতা সরকার যেসব কাজ করেছে বিজ্ঞাপন দিয়ে কেন্দ্রে তার নাম কিনছে মোদি সরকার ৷

এদিন শহীদ মঞ্চে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ উগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এমনভাবে বিজ্ঞাপন করছে, যেন সব কাজ ওরাই করছে ৷ ৫৮টি স্কিম আগে ছিল ১০-৯০ শতাংশ ৷ এখন স্কিমগুলো ৯০-১০ করে দিচ্ছে ৷ কন্যাশ্রী করল কারা, বলছে ওরা করেছে ৷ ওদের প্রকল্প আমরা করছি আর ওরা বিজ্ঞাপন করছে- বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও ৷ লোককে প্রতারিত করছে কেন্দ্র ৷’

আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রকে এক হাত নিলেন তৃণমূল নেত্রী ৷ বলেন, ‘আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করতে হবে বলছে ৷ আধার কার্ড না হলে নাকি ১০০ দিনের কাজ হবে না ৷ পেনশন পাবে না, স্কলারশিপ পাবে না ৷ এটা আবার কী কথা? এখানে ২ লাখ লোকের আধার কার্ড করাতে পারেনি কেন্দ্র ৷’ একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, এদিকে জন ধন যোজনার কথা বলছে মোদি সরকার ৷ হবে কী করে, বাংলার ৮০০ পঞ্চায়েতে ব্যাঙ্কই তো নেই ৷ কালো টাকা দেশে ফিরছে না, বরং সাদা টাকা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে ৷ কেন্দ্র সাধারণ মানুষকে ভাঁওতা দিচ্ছে ৷’

Loading...

দলীত ইস্যু ও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা নিয়েও বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েননি নেত্রী ৷ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সন্ত্রাসের ঘটনার নিন্দা করি ৷ গুজরাতে দলিতদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে ৷ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা চলছে এরাজ্যেও ৷ কেউ কেউ এধরণের চেষ্টা চালাচ্ছে ৷ গরু খাব না ছাগল খাব তাতে তোমার কী? গুজরাতে দলিতদের উপর অত্যাচার নিন্দনীয় ৷ বাড়ি বাড়ি আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে ৷ এই বাংলায় এধরনের কাজ বরদাস্ত করা হবে ৷’

দিল্লিতে ‘দিদি’-র জনপ্রিয়তা দেখে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর আসন ৷ তাঁর দলের সাংসদ মুকুল রায়ের গলাতেও শোনা গেল সেই সুর ৷ তিনি বলেন, ‘২০১৯-এ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন মমতা৷’ কিন্তু তৃণমূল সুপ্রিমো শহীদ মঞ্চে থেকে যে ঘোষণা করলেন, তা একেবারে বিপরীত ৷

প্রধানমন্ত্রী হতে চান না।তবে, কেন্দ্রে আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তি বাড়াতে চান।বৃহস্পতিবার শহীদ দিবসের সমাবেশ মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো রক্ষায় তিনি লড়াই করতে চান। তার জন্য, বাংলা ছেড়ে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁর। জণগণের দিদি এদিন শহীদ মঞ্চ থেকে ঘোষণা করে দেন, ‘প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না ৷ বাংলায় থাকতে চাই ৷ কেউ ভাবছে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই ৷ না, আমি কুঁড়েঘরেই থাকতে চাই ৷’

First published: 07:43:44 PM Jul 21, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर