corona virus btn
corona virus btn
Loading

দমদম সংশোধনাগারে বন্দী বিক্ষোভে একাধিক কারণ খুঁজে পেল সিআইডি

দমদম সংশোধনাগারে বন্দী বিক্ষোভে একাধিক কারণ খুঁজে পেল সিআইডি

সিআইডি সূত্রে যা যা খবর পাওয়া গেল

  • Share this:

#: নামেই সংশোধনাগার। দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার বন্দীরা আদৌ সংশোধিত হচ্ছে কিনা তা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শনিবারের ঘটনা। একই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ কারা মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস।

বন্দী বিক্ষোভে শনিবার দিনভর অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। দফায় দফায় বন্দীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। যার জেরে প্রায় ২২জন বন্দী জখম হয়। পুলিশেরও বেশ কয়েকজন আঘাত পান। ওই রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও রবিবার ফের নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় জেলের ভেতরে।

কিন্তু কেন এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হল? বন্দী বিক্ষোভ সংশোধনাগারের ক্ষেত্রে নতুন কিছু নয়, কিন্তু কেন সেই বিক্ষোভ গণরোষে পরিণত হল? তার তদন্তে নেমে একাধিক কারণ খুঁজে পেল সিআইডি।

রবিবার সিআইডির একাধিক অফিসার দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের ঘটনার তদন্তে যান। সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে তারা এটাই দেখার চেষ্টা করেন যে কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল। যা সামাল দিতে কালঘাম ছুটল পুলিশের।

এদিন বেশ কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে কথা বলেন সিআইডি অফিসাররা। তাঁরা জানার চেষ্টা করেন কেন এরকম নজিরবিহীন বিক্ষোভ? কেন মারমুখী হয়ে উঠল তারা। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, ওই ঘটনাকে সামনে রেখে জেল থেকে পালানোরও ছক ছিল বন্দীদের একাংশের।

ঘটনার তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন সিআইডি অফিসাররা। বিক্ষোভে সামিল বন্দীদের সঙ্গে কথা বলে সিআইডি অফিসার চিহ্নিত করেছেন তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কারণগুলি। যার বহিঃপ্রকাশ শনিবার দেখা গিয়েছে।

কী সেই কারণ গুলি?

সিআইডি সূত্রে খবর,

প্রথমত, করোনার কারণে আদালত গুলি বন্ধ থাকায় আইনি সাহায্য পাচ্ছিল না বন্দীরা। বিচারাধীন বন্দীদের যারা প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানিয়েছিল তা নিয়ে শুনানি হচ্ছিল না। ফলে মুক্তি না মেলায় তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ। মামলার বিচার প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যাচ্ছিল।

দ্বিতীয়ত, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বন্দীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল। কারণ, ইতিমধ্যেই রাজ্যে যখন করোনার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। সেই অবস্থায় কেউ যদি প্যারোলে মুক্তি পায়, সে যখন আবার জেলে ফিরবে তখন তার ছোঁয়ায় অন্য বন্দীরা এই রোগে আক্রান্ত হবে না তো? তাই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বন্দীরা দুটি দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

তৃতীয়ত, রোজ বন্দীদের পরিবারেরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসার যে প্রক্রিয়া চলে। যাকে 'ইন্টারভিউ' বলা হয়। করোনার কারণে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কারা দফতর। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে।

চতুর্থত, বিচারাধীন বন্দী এবং সাজাপ্রাপ্ত বন্ধুদের মধ্যে বিভাজন দীর্ঘদিনের। বিচারাধীন বন্দীদের অভিযোগ, সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরাই জেলের ভেতরে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। তা নিয়েও ক্ষোভ ছিল।

পঞ্চম কারণ, করোনা থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিচারাধীন বন্দির পায়নি বলে অভিযোগ। ক্ষোভ ছিল তা নিয়েও।

ষষ্ঠ কারণ, বিচারাধীন বন্দীদের মধ্যে রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশে এবং বিদেশে করোনার কারণে অনেক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা কেন জেল থেকে ছাড়া পাবে না? এই কথা রটিয়ে ক্ষোভ আরও জোরালো করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে এই কারণগুলোর জন্যই শনিবার ও রবিবার দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যার জেরে পুলিশকে লক্ষ্য করে যেমন লাগাতার ইটবৃষ্টি চলতে থাকে পাল্টা পুলিশকেও কাঁদানে গ্যাস ফাটাতে হয়।

কিন্তু সিআইডি অফিসাররা মনে করছেন, বিচারাধীন বন্দীদের এই ক্ষোভ থাকলেও, ক্ষোভ গণরোষে পরিণত করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকজন বিচারাধীন বন্দির উস্কানি ছিল। কারা সেই উস্কানি দিয়েছিল তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে সিআইডি অফিসাররা।

পাশাপাশি দমদম জেল কর্তৃপক্ষের তরফে কোন গাফিলতি ছিল কিনা তা নিয়ে পৃথকভাবে কারা দফতর তদন্ত করছে।

SUJOY PAL

Published by: Debalina Datta
First published: March 22, 2020, 11:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर