corona virus btn
corona virus btn
Loading

চিংড়িহাটা ও কালীঘাট সেতুতে কি ধরণের বিপদ লুকিয়ে রয়েছে ? 

চিংড়িহাটা ও কালীঘাট সেতুতে কি ধরণের বিপদ লুকিয়ে রয়েছে ? 
File Photo

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ সোমের কথায়, একটা শহরে সেতু অন্তত ১০০ বছর চলবে এমন ভাবেই পরিকল্পনা করেন ইঞ্জিনিয়ররা। এখানে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে ভাঙতে হচ্ছে। তাহলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সেতু বানিয়ে লাভ কি হল।

  • Share this:

#কলকাতা: শহরের দুই সেতু নিয়ে বিপদ বাড়ছে। কোথায় লুকিয়ে এই দুই সেতুর বিপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন একদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি। অন্যদিকে প্রকট হচ্ছে নজরদারির অভাব। চিংড়িহাটা সেতু। ইএম বাইপাসের ওপরে থাকা এই সেতু বয়সে একেবারে নবীন। ১৬ বছর বয়সী এই উড়ালপুলের সারা শরীর জুড়ে রোগ বাসা বেঁধেছে।

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ সোমের কথায়, একটা শহরে সেতু অন্তত ১০০ বছর চলবে এমন ভাবেই পরিকল্পনা করেন ইঞ্জিনিয়ররা। এখানে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে ভাঙতে হচ্ছে। তাহলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই সেতু বানিয়ে লাভ কি হল। প্রায় ৭০০ মিটার লম্বা এই সেতু মূলত দাঁড়িয়ে আছে ৬ টি প্রধান স্তম্ভের ওপরে। ২০১৮ সালে এই সেতুর একাংশে রাস্তার ওপরে ফাটল দেখা যায়। তবে সবচেয়ে নজরে আসার মতো বিষয় এই সেতুর ওপরে থাকা বিভিন্ন বাঁক।

ইংরেজি এস আকারের এই বাঁকে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গতি নিয়ন্ত্রণ করে না চালালে অপকেন্দ্রিক বল অনুযায়ী একটি গাড়ি আর একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগবে। অন্যদিকে সমস্যা এর এক্সপ্যানশন জয়েন্ট। বিশ্বজিৎবাবু জানাচ্ছেন, এটা নজরে আসার মতো বিষয়। ব্রিজ বানানোর বেসিক হিসেবে নকশায় এক্সপ্যানশন জয়েন্ট দেখে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে এই সেতুর নকশা নিয়েই সমস্যা আছে৷  এছাড়া সেতুর স্তম্ভেও আছে নানা সমস্যা। ফলে এই সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। দু'বছর আগে চিংড়িহাটার মত ব্যস্ততম ক্রসিংয়ে একটা সাবওয়ে বানানোর পরিকল্পনা করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেতুর নড়বড়ে কাঠামোর জন্যে সেতুর নীচে মাটির তলায় সেই কাজ তৈরির সিদ্ধান্ত আপাতত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

অপর গুরুত্বপূর্ণ সেতু হচ্ছে কালীঘাট সেতু। হাজরা থেকে গোপালনগর যাওয়ার সময় এই সেতু রয়েছে। প্রায় ৫০ বছরের এই পুরনো সেতুর নকশা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিশেষজ্ঞরা বারবার সেতু পরীক্ষা করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে এই সেতুর পরিকাঠামো নড়বড়ে বলে মত তাদের। দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর স্তম্ভ মুলত টালি নালার ওপরেই বসানো। টালি নালার জলে যে অম্ল রয়েছে তাতে প্রতিদিন স্তম্ভের গায়ে সেই অম্ল লেগে থাকায় স্তম্ভের মধ্যের অংশের স্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে। জলে অম্লের মাত্রা বেশি থাকায় তা স্তম্ভের কাঠামো নষ্ট করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই জলের নমুনা দু'বার পরীক্ষা করা হয়েছে। দুটি রিপোর্টে উঠে এসেছে স্তম্ভ ভীষণ রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্সপার্ট কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এই সেতুর একাংশে বদল আনতে হবে। কিন্তু তা করতে গেলে সেতুর ওপর গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলে দক্ষিণ কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তাই এই সেতু সারাইয়ের কাজ কিভাবে করা হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকরা।

আবীর ঘোষাল

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: June 26, 2020, 10:39 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर