দীপাবলিতে উধাও 'দেশপ্রেম', শহরজুড়ে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে চিনা আলো

দীপাবলিতে উধাও 'দেশপ্রেম', শহরজুড়ে রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে চিনা আলো
চিনা আসো কেনার হিড়িক৷

গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে সংঘাতের পর একইভাবে চিনা সামগ্রী বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। সোশ্যাল সাইট থেকে পাড়ার চায়ের দোকানে পোস্টার পড়ে - 'চিনা সামগ্রী বয়কট করুন৷'

  • Share this:

#কলকাতা: চায়না নাকি কেউ চায় না। ভারতজুড়ে চিনা সামগ্রী বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে অনেক দিনই। কিন্তু দীপাবলির বাজারে চিনা আলোর কদর কিছুতেই কমছে না। মোমবাতি, প্রদীপকে কয়েক গোল দিয়ে ম্যাচে এখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে চিনা আলো।

ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা বাড়লেই ভারতের বাজারে চিনা সামগ্রী ব্যবহার বন্ধের ডাক জোরাল হয়। গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে সংঘাতের পর একইভাবে চিনা সামগ্রী বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। সোশ্যাল সাইট থেকে পাড়ার চায়ের দোকানে পোস্টার পড়ে - 'চিনা সামগ্রী বয়কট করুন৷' কয়েকধাপ এগিয়ে গুজরাতের কোনও এক রাজনীতিক সাত তলা বাড়ির বারান্দা থেকে টিভিও রাস্তায় ফেলে দেন, কারণ সেটা চিনা কোম্পানির তৈরি। দেশপ্রেমের স্বার্থে এটুকু করা কোনও বড় ব্যাপারই নয়। কিন্তু যদি তাঁরই বাড়ি দীপাবলিতে সাজে চায়না বাতিতে? অন্তত এই দীপাবলির বাজার দেখে প্রশ্নটা অমূলক নয়।

জানবাজার হোক আর গড়িয়াহাট, সর্বত্রই দীপাবলির বাজারে আলোর রোশনাই দেখাচ্ছে চায়না বাতি। কোনওটার দাম ২০ টাকা, কোনওটার আবার ২২০ টাকা। প্লাস্টিকের তৈরি বৈদ্যুতিন মোমবাতি এবারে বিশেষ চমক, তারই দাম দশ টাকা।  ৩০ ফুটের   মিনিয়েচার আলোর দাম ২২০ টাকা। এছাড়াও  বিভিন্ন স্টিক লাইট, স্টার লাইট তো রয়েছেই। একইবাজারে মাটির প্রদীপের দোকান অনেকটাই খালি। খদ্দের টানতে ডিজাইনার প্রদীপকেও রঙ করে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছেন বিক্রেতারা। কিন্তু মাটির প্রদীপ কিনতে ক্রেতাদের বড্ড অনীহা।


গড়িয়ার রঞ্জা ভট্টাচার্য মাটির প্রদীপের দাম জেনে বললেন, " প্রদীপের মূল সমস্যা হল বড্ড খেয়াল রাখতে হয়।৷ তেল ফুরিয়ে যাচ্ছে কিনা,  সলতে ঠিক আছে কিনা,  সবদিকে নজর রাখতে হয়। আবার প্রদীপ যতক্ষণ জ্বলতে থাকে, বাড়ির বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে হয়। দুর্ঘটনার ভয় থাকেই।" জানবাজারে মোমবাতির দোকানেও খদ্দেরের দেখা নেই। অনেক মোমবাতি বিক্রেতাই দোকানে চায়না বাতি বিক্রি করছেন তাই।  বিক্রেতা মহম্মদ সিরাজের কথায়, " আমরা দোকান দিই, জিনিস বিক্রির জন্য। এ বছর বাজি বন্ধ থাকায় আমরা বেশিরভাগই বাতির দোকান দিয়েছি। মোমবাতির থেকে চায়না বাতির চাহিদা অনেক বেশি। লোকে যা কিনবে, আমরা তো সেটাই দোকানে রাখব।"

করোনা ও লকডাউনের জেরে দেশে অনেকেরই চাকরি চলে গেছে। যাঁদের রয়েছে চাকরি,  তাঁদেরও অনেকেরই পকেটে টান। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আলোর থেকে চায়না আলোগুলির তুলনামূলক দাম কম।  তাই পকেট বুঝে অনেকেই চায়না বাতি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু চায়না আলো কতদিন চলবে তার নিশ্চয়তা নেই। ক্রেতাদের অবশ্য তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না।  কারণ তাঁরা জানেন,  আসছে বছর আবার হবে।

শিবাশিস মৌলিক

Published by:Debamoy Ghosh
First published: