হোম /খবর /কলকাতা /
সকলের মুখে হাসি ভর্তি, দশতলা থেকে পরে গিয়েছিল শিশু, ২মাস পর ফিরল বাড়ি

সকলের মুখে হাসি ভর্তি, দশতলা থেকে পরে গিয়েছিল শিশু, ২মাসের লড়াইতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল অন্বেষা

Child returns home after being fallen from 10th floor

Child returns home after being fallen from 10th floor

প্রায় ২০ দিন শিশুটি কোমায় ছিল। তারপর আসতে আসতে ও নড়াচড়া করতে শুরু করে।

  • Share this:

#কলকাতা: খেলতে খেলতে হঠাৎই পতন। খেলার ছলে ১০ তলার ছাদ থেকে পড়ে যায় একটি শিশু। বয়স আট বছর। দু'মাস আগে মহেশতলার এই ঘটনা আজও শিহরণ জাগায়। তবে চিকিৎসকদের পরিশ্রমে একেবারে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল শিশুটি। এতদিনের এক অসম্ভব জীবন যুদ্ধ অতিক্রম করে মেয়ে ঘরে ফেরায় আনন্দের ছবি মহেশতলা পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষ পরিবারে।

 মহেশতলার ইডেন সিটির বাসিন্দা গৌতম ঘোষ। তাঁরই কন্যা ছোট্ট অন্বেষা। জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসের ২ তারিখ তাদের বাড়িতে বাড়িতে গৃহপ্রবেশের পুজো চলছিল। সেই সময় অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে খেলতে অন্বেষা ফায়ার এক্সিটের হাইড্রেনের কাছে কোনওভাবে চলে যায়। তারপর তারের জালিতে পা দিতেই সোজা নীচে পড়ে যায় সে। বাঁচার কোনও আশা ছিল না পরিবারের কাছে। তবুও তড়িঘড়ি সেই সময় তাঁকে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রেফার করা হয় সিএমআরআই হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা হয় প্রায় ২ মাস ধরে।

আরও পড়ুন -  স্বামী-পুত্র মারা যাওয়ার পর তাঁকে শুনতে হয়েছিল ডাইনি, মেয়েকে বেচে দিয়েছেন,আজ বিশ্বজয়ী অর্চনার মা গর্বিতা

হাসপাতাল সূত্রে খবর, অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল তাঁর পরিবার। জীবন ফিরে পাওয়ার কোনও চিহ্ন তাঁর মধ্যে নেই। সেই সময় সিএমআরআই এর পেডিয়াট্রিক চিকিৎসক শান্তনু রায়ের তত্ত্বাবধানে ভর্তি হয় শিশুটি। চিকিৎসক জানান," যখন শিশুটি ভর্তি হয় তাঁর কোনও রকম আশা ছিল না। প্রায় ২০ দিন শিশুটি কোমায় ছিল। তারপর আসতে আসতে ও নড়াচড়া করতে শুরু করে। এইরকম ক্ষেত্রে রোগী বেঁচে নেই বললে চলে। হয়তো লাখে এক-দুজন বাঁচে। তবে এই শিশুটির মধ্যে অদম্য একটা সাহস ছিল। যেটা আমাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুব সাহস ছিল।"

আরও পড়ুন - Gossip: বিয়ের দিনেই এত্ত বড় কেলেঙ্কারি ভারতীয় এই তারকার, জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল মানছেন

শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দু সপ্তাহ পর তার মাথায় অস্ত্রোপচার হয়। সিএমআরআই হাসপাতালের নিউরো সার্জন চিকিৎসক অজয় আগারওয়াল জানান, "ঘিলুর ওখানে একটা হাড় ভেঙে ঢুকে গিয়েছিল পাশাপাশি রক্ত জমে গিয়েছিল। যার ফলে অযথা মাথায় একটি চাপ সৃষ্টি করছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই হাড়টাই সরিয়ে দেওয়া হয় এমনকি ওই রক্তটাও বার করে দেওয়া হয়েছে।" শিশুটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সে গান করতে ভালবাসে। নিজের হাতে খাচ্ছে , দিব্যি গান গাইছে নিজের মনে যা দেখে খুশি চিকিৎসকরাও। তবে এখনও পায়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গিয়েছে  যা ফিজিওথ্যারাপির মাধ্যমে ঠিক হবে। দু'মাস পর থেকে স্কুলেও যেতে পারবে। তবে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও সমস্যায় তাঁকে পড়তে হতে পারে কি? চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নতুন করে আর কোনও সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

Onkar Sarkar

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Child, Hospital