"রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার উপর তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখা হচ্ছে"- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

"রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার উপর তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখা হচ্ছে"- মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
Photo- news 18 bangla

নির্বাচন কমিশন যে এবার ভোটের কাজে যুক্ত থাকা অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নিতে চলেছে এ দিন তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

  • Share this:

#কলকাতা: এবারের বিধানসভা ভোটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশন যেকোনোভাবেই আপস করবে না শুক্রবার তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। গত বুধবার সন্ধ্যা বেলাতেই কলকাতাতে পা রেখেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দু দিনের সফর শেষ করে শুক্রবার বিকেলে ফের দিল্লি উড়ে গেলেন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে কমিশনের ফুল বেঞ্চের একটি বৈঠক আছে। লক্ষ্যণীয়ভাবে সেই বৈঠকে এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকেও দিল্লি ডাকা হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গেও তিনি এদিন দিল্লী গেছেন। সেই বৈঠকেই কার্যত কত দফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন এবং কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা। যদিও শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন " রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ ভাবে নজর রাখা হচ্ছে।"

এদিন অবশ্য কার হাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকবে অর্থাৎ রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী কাজ করবে নাকি সেই বিষয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন " ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।" তবে নির্বাচনের আগে থেকেই কি রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে সেই বিষয়ে অবশ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়ে দেন " ভোটের তিন মাস আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সময়সীমা জানানো হয়নি।" বিরোধীদের তরফে অবশ্য অভিযোগ উঠেছিল ভোটের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের। তবে রাজ্যে ১০০% কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো হবে নাকি সেই বিষয়ে অবশ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন " বাহিনী কত মিলবে তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে।"

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয় বিএসএফ একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে প্রশ্ন করা হলে অভিযোগ উড়িয়ে তিনি বলেন " বিএসএফ সম্পর্কে এরকম মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।" শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বৃহস্পতিবার বিজেপি অভিযোগ করেছিল রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন " আমরা রিভিউ করে দেখেছি এরকম কিছু হয়নি। আর রিভিউ করার দরকার নেই। তবে অভ্যন্তরীণ বৈঠক তো হবেই।" পাশাপাশি শুক্রবারে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং স্পষ্ট করে দেন এবারের বিধানসভা ভোটে সিভিক পুলিশ,গ্রীন পুলিশ কোন দায়িত্বে থাকবে না। শুক্রবার মুখ্যসচিব, ডিজির সঙ্গে হওয়া বৈঠকেও এই প্রসঙ্গ ওঠে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন "মুখ্যসচিব আশ্বাস দিয়েছেন সিভিক পুলিশ, গ্রীন পুলিশ নির্বাচনের কাজে ব্যবহার হবে না।"


তবে নির্বাচন কমিশন যে এবার ভোটের কাজে যুক্ত থাকা অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব নিতে চলেছে এ দিন তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন " গতবার আই এ এস অফিসার এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক কে সরতে হয়েছিল।আমরা এর পুনরাবৃত্তি চাই না।" এদিন তার সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেন "আমাদের লক্ষ্য একটাই নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা।"

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৭ ঘন্টা জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার এবং কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কমিশন সূত্রে খবর সেই বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের বার্তা দেওয়া হয়েছে কর্তব্যে গাফিলতির হলে এবং তার সারবত্তা থাকলে এবার কোন বদলি নয়, সরাসরি সাসপেন্ড করে দেওয়া হবে সেই আধিকারিক কে। এর পাশাপাশি সেই আধিকারিক এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং চার্জশিট পর্যন্ত দেওয়া হবে বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by:Debalina Datta
First published: