মানসিক প্রতিবন্ধীদের পশুর মতো শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে মধ্য কলকাতার এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

মানসিক প্রতিবন্ধীদের পশুর মতো শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে মধ্য কলকাতার এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা
representative image

শিকল আর তালা দিয়ে বাঁধা কয়েকজন মানুষ। এলোমেলো পড়ে আছেন ঘরে। সামনে খাবারের প্লেট সাজানো। শুকনো হয়ে যাওয়া ভাত-ডাল...

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#কলকাতা: মানুষ নাকি পশু? নিজের চোখে দেখার পর এমন সংশয় হতেই পারে। শিকল আর তালা দিয়ে বাঁধা কয়েকজন মানুষ। এলোমেলো পড়ে আছেন ঘরে। সামনে খাবারের প্লেট সাজানো। শুকনো হয়ে যাওয়া ভাত-ডাল। সবটাই যে হাতের নাগালে আছে এমন নয়। হাতের ধাক্কায় সরেও যেতে পারে থালা।

'অলকেন্দু বোধ নিকেতন' নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জায়গাতে তাদের আবাসিক স্কুল চালায়। এরা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী পুরুষ এবং মহিলাদের নিয়ে কাজ করে। আগে সংখ্যায় বেশি ছিল, বর্তমানে তা কমে কমে ৩ টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

কলেজ স্ট্রিটে অলকেন্দু বোধ নিকেতন রেসিডেন্সিয়াল (অনুরাধা) ইউনিট আছে। সেখানে মানসিক মহিলা প্রতিবন্ধীদের আবাসিক হিসেবে রেখে চিকিৎসা ও পড়াশোনা করানো হয়। এই সংস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর অভিযোগ জমে রয়েছে। অভিযোগ, সেখানে মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলাদের ওপর চরম নির্যাতন করা হয়। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা নয়, প্রত্যেকের কাছ থেকে থাকা এবং খাওয়া বাবদ টাকা ও প্রথমে ঢোকার সময় বড় পরিমাণের অনুদান নেওয়া হয় । প্রতিদিন যে পরিমাণে খাবার দেওয়ার কথা কিংবা যা যা খাবার দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয় না। সব সময় আবাসিকদের কোমরে, হাতে-পায়ে শেকল বেঁধে তালা দিয়ে রাখা হয়। এই শীতে কেউ রয়েছে উলঙ্গ অবস্থায় আবার কাউকে ছোট পোশাক পরিয়ে শেকল বেঁধে রাখা হয়েছে। অমানবিক ও পাশবিক অত্যাচার চলে আবাসিকদের ওপর। ১৯৯৯ সালে একটি তদন্তের চিঠিতে জানা যায়, অলকেন্দু বোধ নিকেতন-এর আবাসিক পম্পা শর্মা নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। যতদূর জানা গিয়েছে, মেয়েটির বাড়ি ছিল বর্ধমানে। যখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়, তখন ওই প্রতিবন্ধী মেয়েটির মা শ্রীমতি লক্ষ্মী রানী শর্মাকে হোম-এর পক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে এসে, তাঁর কাছ থেকে লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর মেয়ের শারীরিক পরীক্ষা এবং পরিচর্যার জন্য তিনি এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অনুমতি দিচ্ছে। যদি মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে হয় বা অস্ত্রপচার করতে হয় তারও অনুমতি তিনি দিচ্ছেন। তারপর থেকে সেই মেয়েটির কি হল ? সে বেঁচে আছে না মারা গিয়েছেন ? তার কোনও হদিস নেই এই সংস্থায়।

রাজকুমার দাস এই হোমের দারোয়ান। ১১ বছর বয়সে এখানে এসেছিল। এখন বয়স ৫১ বছর। মাসিক বেতন ৩০০০ টাকা। কেয়ারটেকার বরুণ নায়েক। তিনিই সর্বেসর্বা। ওড়িশার বাসিন্দা, প্রতি শুক্রবার বাড়ি যান মঙ্গলবার হোমে ফিরে আসেন। তাঁর বেতন ৪০০০টাকা। প্রশ্ন, ৪০০০ টাকার বেতন ভুক্ত এই কর্মচারী প্রতি মাসে চার বার ওড়িষার বাড়িতে যান কীভাবে ? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিবন্ধী দফতর গণেশ অ্যাভিনিউয়ের অফিসের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দেবাশীষবাবু জানান, তিনি বিষয়টি জানেন। কিন্তু তা হলে এতদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন ? এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান দেবাশীষবাবু। সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিষয়টি দেখবেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার শিক্ষিকা আবাসিকদের বেঁধে রাখার কথা স্বীকার করেন। কেয়ারটেকার বরুণ নায়েক বলেন, ' কোনও কোনও সময়ে গামছা দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। যেখানে সারা বিশ্বে নারী মুক্তি থেকে শুরু করে নারীদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ চলছে, শীঘ্র বিচারের জন্য তৈরি হচ্ছে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, সেখানে কিছু মানুষের প্রশ্ন-- খোদ মধ্য কলকাতায় ,কলেজ স্ট্রিট-এর মতো জায়গায় কীভাবে চলছে এই সেচ্ছাসেবী সংস্থা ? অপরাধীরা কি ভাবে বুক ফুলিয়ে বলছে, 'আমাদের সব নিয়ম মেনে চলছে।'

First published: January 6, 2020, 11:48 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर