Home /News /kolkata /
টাকা, চাকরি ফেরাতে রাজি 'মৃত' অমৃতাভ, পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে সিবিআই

টাকা, চাকরি ফেরাতে রাজি 'মৃত' অমৃতাভ, পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে সিবিআই

জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে তিনিই ছিলেন, দাবি অমৃতাভ চৌধুরীর (ডানদিকে)৷

জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে তিনিই ছিলেন, দাবি অমৃতাভ চৌধুরীর (ডানদিকে)৷

২০১০ সালে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের (Jnaneswari Express) দুর্ঘটনায় মৃতের তালিকায় নাম ছিল জোড়াবাগানের বাসিন্দা অমৃতাভ চৌধুরীর (Amritava Chowdhury)৷ ডিএনএ মিলিয়ে দেখার পর অমৃতাভর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের টাকা ও চাকরি দেয় রেল৷

  • Share this:

#কলকাতা: তিনিই অমৃতাভ চৌধুরী৷  এ দিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তা স্বীকার করে নিলেন জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় 'মৃত' অমৃতাভ৷ চৌধুরী৷ যদিও সিবিআই এখনও অমৃতাভর পরিচয় নিয়ে সুনিশ্চিত নয়৷ তাই এ দিন ফের অমৃতাভ এবং তাঁর বাবাকে নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠানো হয়৷ অমৃতাভকে জোড়াবাগানে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টাও করবেন সিবিআই আধিকারিকরা৷

২০১০ সালে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মৃতের তালিকায় নাম ছিল জোড়াবাগানের বাসিন্দা অমৃতাভ চৌধুরীর৷ ডিএনএ মিলিয়ে অমৃতাভর মৃতদেহ তাঁর পরিবারকে দিয়েছিল রেল৷ ক্ষতিপূরণ বাবদ চার লক্ষ টাকাও পায় অমৃতাভর পরিবার৷ অমৃতাভর বোন মহুয়া রেলে চাকরি পান৷ কিন্তু ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর রেলের তরফে সিবিআই-কে অভিযোগ করে জানানো হয়, অমৃতাভ চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তির জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি৷ তিনি বেঁচেই আছেন৷ রেলকে ভুয়ো ডিএনএ রিপোর্ট দিয়ে অমৃতাভর পরিবার চাকরি এবং ক্ষতিপূরণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়৷

রেলরে তরফে অভিযোগ পেয়েই শুক্রবার রাতে জোড়াবাগানের বাড়ি থেকে অমৃতাভ চৌধুরী এবং তাঁর বাবাকে আটক করে সিবিআই৷ কিন্তু জেরায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে অমৃতাভ চৌধুরী বলে মানতে রাজি হননি৷ সিবিআই সূত্রে খবর, রেলের ভিজিল্যান্স টিম তদন্ত করে জানতে পারে যে অমৃতাভ চৌধুরী গত কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছিলেন, আয়কর রিটার্নও জমা দিয়েছেন৷ শুধু তাই নয় পাসপোর্টের নবীকরণও করেছেন তিনি৷ যদিও অমৃতাভর পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি সিবিআই আধিকারিকরা৷ 'মৃত' অমৃতাভর সঙ্গে আটক ব্যক্তির বয়সও মেলেনি৷ সেই কারণে শনিবার জেরার পর অমৃতাভ এবং তাঁর বাবা মিহির চৌধুরীকে ছেড়ে দেয় সিবিআই৷ এ দিন ফের তাঁদের নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠানো হয়৷ বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপযুক্ত নথিও নিয়ে যেতে বলা হয়৷

সিবিআই-এর নির্দেশ মতো এ দিন সকালে সিবিআই দফতরে হাজির হন অমৃতাভ এবং তাঁর বাবা৷ সিবিআই অফিসে ঢোকার সময় অমৃতাভ অবশ্য কার্যত নিজের পরিচয় স্বীকার করে নেন৷ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন জবাবে তিনিই বলেন, 'আমিই অমৃতাভ চৌধুরী৷ সেদিন আমিই জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে দিল্লি যাচ্ছিলাম৷' একই সঙ্গে অমৃতাভ দাবি করেছেন, তাঁর পরিবার ক্ষতিপূরণের টাকা সুদ সমেত ফেরত দিয়ে দিতে তৈরি৷ তাঁর বোনও চাকরি ছেড়ে দেবেন৷ তবে এই কারচুপির সঙ্গে রেলের আরও অনেকে যুক্ত বলে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন অমৃতাভ৷  তিনি বলেন, 'যা প্রশ্ন করার রেলের আধিকারিকদের করুন৷' অমৃতাভকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে নিয়ে জোড়াবাগানে তাঁর বাড়িতেও হানা দেন সিবিআই গোয়েন্দারা৷ অভিযুক্ত অমৃতাভের ঘর থেকে তাঁর বেশ কিছু ছবিও সংগ্রহ করা হয়৷ অমৃতাভর প্রতিবেশী এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেও পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করেন সিবিআই আধিকারিকরা৷ জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার সময় অমৃতাভর পরিবারের তরফে তাঁদের কী বলা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করা হয়৷ এর পর ফের অমৃতাভ এবং তাঁর বাবাকে সিবিআই দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়৷

সিবিআই আধিকারিকরা অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছেন, রেলের একশ্রেণির কর্মী এবং আধিকারিকদের মদত ছাড়া এত বড় কারচুপি করা সম্ভব নয়৷ ফলে এর সঙ্গে রেলের কোনও বর্তমান বা প্রাক্তন আধিকারিক যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ পাশাপাশি কীভাবে ভুয়ো ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি হল, তার ভিত্তিতে কী করে ক্ষতিপূরণের টাকা এবং চাকরি মিলল, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷

অভিযুক্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে স্বীকার করলেও আপাতত অমৃতাভর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন সিবিআই আধিকারিকরা৷ তার আগে পর্যন্ত অমৃতাভকে গ্রেফতার করার মতো পদক্ষেপ করা হবে না বলেই খবর৷

Arpita Hazra

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

Tags: CBI

পরবর্তী খবর