• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • গরু-কয়লা পাচারে সিবিআই নজরে কলকাতার ব্যবসায়ী, সকাল থেকে একযোগে তল্লাশি

গরু-কয়লা পাচারে সিবিআই নজরে কলকাতার ব্যবসায়ী, সকাল থেকে একযোগে তল্লাশি

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের কাছে বিনয় শর্মার বাড়ি৷

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের কাছে বিনয় শর্মার বাড়ি৷

  • Share this:

    #কলকাতা: কয়লা ও গরু পাচার কাণ্ডে এবার কোমর বেঁধে তল্লাশিতে নামল সিবিআই৷ এ দিন সকাল থেকেই কলকাতার তিনটি ঠিকানায় বিনয় মিশ্র নামে এক ব্যবসায়ীর খোঁজে একযোগে তল্লাশি শুরু হয়৷ দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, চেতলা এবং উত্তরে ভিআইপি রোডের কাছে লেক টাউনে ওই ব্যবসায়ীর খোঁজে তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা৷ পাশাপাশি হুগলির কোন্ননগরেও অনুপ মাজি ঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসায়ীর খোঁজে তল্লাশি চলে৷

    যদিও কোনও জায়গাতেই অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি৷ বিনয় মিশ্র নামে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেছে সিবিআই৷ অভিযোগ, কয়লা পাচার কাণ্ডে অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালা এবং গরু পাচারে অভিযুক্ত এনামুল হকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বিনয় মিশ্রের৷ এমন কি, অনুপ এবং এনামুলের সঙ্গে প্রভাবশালীদের পরিচয়ও করিয়ে দিত এই বিনয় মিশ্র৷

    সিবিআই সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রভাবশালীদের সাহায্যেই চলত বেআইনি কয়লা ও গরু পাচার৷ কয়েক দিন আগে গণেশ বাগাড়িয়া নামে এক ব্যবসায়ীর লেক টাউনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই৷ গণেশকে হাতে না পেলেও তাঁর বাড়ি থেকেই বিনয় মিশ্রের খোঁজ পায় সিবিআই৷ একদা উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা বিনয় কয়লা এবং গরু পাচার থেকে পাওয়া কালো টাকা সাদা করতে বড় ভূমিকা নিত বিনয়৷ ২০১৮ সাল থেকে এই বেআইনি কারবারে যুক্ত ছিল সে৷ এর জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট সংস্থার সাহায্যে হাজার হাজার ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে কয়লা এবং গরু পাচারের টাকা পাচার করত বিনয়৷

    এ দিন অবশ্য লেক টাউন, রাসবিহারী বা চেতলার বাড়িতে বিনয়ের খোঁজ মেলেনি৷ লেক টাউনের বাড়িতে তার পরিবারের কেউ থাকে না৷ ফলে ঘণ্টা খানেক তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান সিবিআই গোয়েন্দারা৷ চেতলা, রাসবিহারীর বাড়িতে অবশ্য দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চলে৷ তবে রাসবিহারীর প্রাসাদপম বাড়িই বিনয়ের বেআইনি ব্যবসার মূল ঘাঁটি ছিল বলে অভিযোগ সিবিআই-এর৷ সেখান থেকে ল্যাপটপ সহ বেশ কিছু ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়৷ সেগুলি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকায় বিশেষজ্ঞদেরও ডেকে নিয়ে আসে সিবিআই৷

    জানা গিয়েছে, কয়লা বা গরু পাচারের টাকা মেডিক্যাল ব্যবসা, রিসর্ট, পরিবহণ ব্যবসায় খাটানো হত৷ একাধিক প্রভাবশালী নেতা এর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ সিবিআই-এর৷ পাশাপাশি, ভুয়ো সংস্থা তৈরি করে জিএসটি-ও দেওয়া হত বলে দাবি সিবিআই-এর৷ যাতে কোনওরকম সন্দেহের অবকাশ না থাকে৷ এই সূত্রেই শহরের দুই নামী আইনজীবীরও নাম উঠে এসেছে৷ বিনয়কে হাতে পেলেই কয়লা, গরু পাচারে আরও প্রভাবশালীদের খোঁজ মিলবে বলে নিশ্চিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷

    গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বিনয় মিশ্র বেপাত্তা৷ বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিনয়ের নাগাল পায়নি সিবিআই৷ মোবাইল ট্র্যাক করে সিবিআই জানতে পেরেছে, সে এই মুহূর্তে ভিন রাজ্যে রয়েছে৷ এ দিন রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে বিনয়ের কয়েকজন আত্মীয়ের খোঁজ পায় সিবিআই৷ কিন্তু তাঁরাও বিনয়ের বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি৷ তাঁদের দাবি, বেশ কয়েক মাস বিনয় কলকাতায় তার বাড়িগুলিতে আসেনি৷ এর পাশাপাশি এ দিন কোন্ননগরে অনুপ মাজির ঘনিষ্ঠ দুই ব্যবসায়ী অমিত সিং এবং নীরজ সিং-এর বাড়িতেও তল্লাশি চালান সিবিআই গোয়েন্দারা৷ ওই দুই অভিযুক্তের বাড়িতে কিছু নথি মিললেও তাদের খোঁজ মেলেনি৷

    Sukanta Mukherjee/Arpita Hazra

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: