• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • CBI DETAINS AMRITAVA CHOWDHURY FOR TAKING COMPENSATION BY FOOLING RAIL IN JNANESWARI EXPRESS ACCIDENT DMG

রেলকে বোকা বানিয়ে জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ডে ক্ষতিপূরণ, চাকরি! 'মৃত' অমৃতাভ আসলে বেঁচে

২০১০ সালের ২৮ মে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস৷ Photo-File/PTI

জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার (Jnaneswari Express Accident) ১১ বছর পর জানা গেল অমৃতাভ আসলে জীবিত৷ রেলকে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা এবং চাকরি নেওয়ার অভিযোগে অমৃতাভ এবং তাঁর বাবাকে শুক্রবার রাতে আটক করেছে সিবিআই (CBI)৷

  • Share this:

    রেল জানত জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কলকাতার জোড়াবাগানের বাসিন্দা অমৃতাভ চৌধুরীর৷ এমন কি, ডিএনএ-এর নমুনা মিলিয়ে অমৃতাভর দেহও পরিবারকে তুলে দেওয়া হয়েছিল রেলের তরফে৷ ক্ষতিপূরণ বাবদ অমৃতাভর পরিবার চার লক্ষ টাকা পায়৷ 'মৃত' অমৃতাভর বোন চাকরিও পেয়েছিলেন রেলে৷ কিন্তু জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার ১১ বছর পর জানা গেল অমৃতাভ আসলে জীবিত৷ রেলকে ভুয়ো তথ্য দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা এবং চাকরি নেওয়ার অভিযোগে অমৃতাভ এবং তাঁর বাবাকে শুক্রবার রাতে আটক করেছে সিবিআই৷ যদিও জেরায় অমৃতাভর দাবি, সে অমৃতাভ নয়৷ তবে সিবিআই সূত্রে খবর, নিজের ছেলের পরিচয় স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্তের বাবা৷ অমৃতাভর বোন মহুয়া পাঠককে সাসপেন্ড করেছে রেল৷

    কিন্তু কীভাবে ঘটল এত বড় প্রতারণার ঘটনা? ২০১০ সালের ২৮ মে পশ্চিম মেদিনীপুরের সরডিহার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস৷ মুম্বাইগামী ট্রেনটি গভীর রাতে লাইনচ্যুত হওয়ার পর সেটিতে ধাক্কা মারে উল্টোদিক থেকে আসা একটি মালগাড়ি৷ ঘটনায় প্রায় ১৫০ যাত্রীর মৃত্যু হয়৷ অনেক যাত্রীর দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় যে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করতে হয়৷

    সিবিআই সূত্রে খবর, ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন অমৃতাভ৷ ঘটনার পর তিনি মৃত বলে দাবি করে তাঁর পরিবার৷ রেলের তরফে সিবিআই-কে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কর্মী এবং বিমা এজেন্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়ো ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে অমৃতাভকে রেলের কাছে মৃত বলে প্রমাণ করা হয়৷ ডিএনএ ম্যাচিং-এর পর অমৃতাভ বলে যে দেহটি শনাক্ত করা হয়, সেটি অমৃতাভর পরিবারকে তুলে দেওয়া হয়৷ এর পর নিয়ম অনুযায়ী রেলের কাছে ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করেন অমৃতাভর বাবা মিহির চৌধুরী এবং মা অর্চনা চৌধুরী৷ অমৃতাভর বিবাহিত বোন মহুয়া রেলে চাকরি পান৷ বর্তমানে তিনি শিয়ালদহে সিগন্যাল বিভাগে কর্মরত রয়েছেন৷

    সিবিআই সূত্রে খবর, অমৃতাভর ঘটনায় সন্দেহ হওয়ায় গত বছর থেকে বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করে রেলের ভিজিল্যান্স ডিপার্টমেন্ট৷ রেলের তদন্তেই পরিষ্কার হয়, জ্ঞানেশ্বরীর দুর্ঘটনায় অমৃতাভর মৃত্যু হয়নি৷ তিনি বেঁচে আছেন৷ রেল এবং সরকারকে ঠকিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা এবং চাকরি অমৃতাভর পরিবার হাতিয়ে নিয়েছে৷ তবে এত বছর কীভাবে এই প্রতারণা রেল ধরতে পারল না, বা কীসের ভিত্তিতে এতদিন পর সন্দেহের উদ্রেক হল, তা এখনও জানা যায়নি৷

    গত ১৫ জুন গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে সিবিআই-এ অভিযোগ দায়ের করেন হয় দক্ষিণ পূর্ব রেলের ভিজিল্যান্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার৷ শুক্রবার রাতেই জোড়াবাগান থানা এলাকার গঙ্গানারায়ণ দত্ত লেনে অমৃতাভর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই৷ অমৃতাভর সঙ্গে তাঁর বাবাকেও আটক করা হয়৷ দু' জনকেই নিজাম প্যালেসের সিবিআই দফতরে নিয়ে গিয়ে জেরা শুরু হয়৷ সিবিআই সূত্রে দাবি, ধরা পড়েও অমৃতাভ নিজের পরিচয় স্বীকার করছেন না৷ যদিও মিহির চৌধুরী তাঁর ছেলের পরিচয় স্বীকার করে নিয়েছেন বলেই খবর৷ অমৃতাভর পরিচয় সম্পর্কে নিঃসংশয় হওয়ার চেষ্টা করছে সিবিআই৷ তার পরই তাঁদের গ্রেফতার করা হবে৷ অভিযুক্তের তালিকায় অমৃতাভর মা, বোন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মীদের নাম রয়েছে৷ অমৃতাভর বোনকে সাসপেন্ড করেছে পুলিশ৷

    Sukanta Mukherjee

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: