সরস্বতী পুজোয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'টুম্পা সোনা'য় উদ্দাম নাচ বিতর্ক! ৫ জনের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি ঘোষণা

সরস্বতী পুজোয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'টুম্পা সোনা'য় উদ্দাম নাচ বিতর্ক! ৫ জনের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি ঘোষণা
সরস্বতী পুজোয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে 'টুম্পা সোনা'য় উদ্দাম নাচ বিতর্ক! ৫ জনের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি ঘোষণা। ফাইল ছবি।

এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবারই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ৫ জনকে দু'বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: ট্রেন্ডিং 'টুম্পা সোনা' গানে সরস্বতী পুজোর দিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের উদ্দাম নাচ। পুজোর পরের দিন থেকেই সেই ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। শুধু তাই নয়, কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসে এই ধরনের নাচের অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশ্ন ওঠে অনুমতি কে বা কারা দিল এমন অনুষ্ঠানের জন্য, তা নিয়েও? যদিও উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালের অনুমতি না নিয়েই করা হয়েছে। তবে কারা করেছে বা কেনই বা এই ধরনের অনুষ্ঠান অনুমতি না নিয়ে পড়ুয়াদের এই আচরণ, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। সেই মোতাবেক ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার সিন্ডিকেটের বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়। সোমবারই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ৫ জনকে দু'বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও এবং মূলত এই অনুষ্ঠানের জন্য কীভাবে আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তা খোঁজার কাজ শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নজরে আসে পাঁচজনের অতি সক্রিয়তা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, এদের মধ্যে প্রত্যেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং বর্তমান পড়ুয়া। তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় জানতে পেরেছে ওই পাঁচ জনের সহযোগিতাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজোর দিন কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাসের ভেতরে এই ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তেরা শাসকদলের ছাত্রসংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।


সোমবারের সিন্ডিকেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই পাঁচ জনকে আগামী দু'বছরের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্ত পাঁচজন মণিশঙ্কর মণ্ডল, রাজা মেহেদি, দেবশ্রী রায়, তীর্থপ্রতিম সাহা এবং রনি ঘোষ। পাঁচ প্রাক্তনের মধ্যে একজন রাজ্যেরই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। পাঁচজনের একজন আবার শিক্ষামন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বলে সর্বজনবিদিত। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্যতম অভিযুক্ত মণিশঙ্কর মণ্ডল। তিনি বলেন, "উনি বিজেপিকে খুশি করার জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টুম্পা শোনা গান যে অপসংস্কৃতি, তার কোনও ব্যাখ্যা রয়েছে? আমরা হাইকোর্টে যাব, আমাদের মানহানি করা হয়েছে।"

প্রসঙ্গত, সরস্বতী পুজোর পরের দিন সোশ্যাল সাইটে টুম্পা সোনা গানে নাচের ভিডিও এবং ছবি ছড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই খানিকটা অস্বস্তিতে পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে যদি এই ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পুজো হল তখন কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ নিষেধ করলেন না? বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একাংশও এই প্রশ্ন নিয়ে সরব হয়েছেন।

উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন এই ধরনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চরম সিদ্ধান্ত নেবে। সোমবারে সিন্ডিকেট বৈঠকে ওই পাঁচ প্রাক্তন পড়ুয়াকে দু'বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনার যত পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে আধিকারিকদের। শুধু তাই নয় এরকম একটি অনুষ্ঠান অনুমতি না নিয়ে হল, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে কেন কোনও খবর নেই তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয় এ দিনে সিন্ডিকেট বৈঠকে। যদিও সোমবারের সিন্ডিকেট বৈঠক এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কোন মন্তব্য করতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by:Shubhagata Dey
First published: